মুম্বই, ভারতের এই শহরের বিখ্যাত হওয়ার নানা দিক আছে। এর মধ্যে অন্যতম ক্রিকেট, বলিউডের সিনেমা, গান অন্যতম। মুম্বই মাফিয়ার জন্যও এই শহর নিয়ে আলোচনা কম নয়। তবে আরেকটি কারণে এখানে এই নগরী সবার কাছে দারুণ আতঙ্কের। তা হলো অক্টোবরে এখানকার গরম। যা ‘মুম্বই হিট’ বলেও পরিচিত। তবে এবার যেন আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। প্রচণ্ড তাপে এখানে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন এলাকাতে পানির অভাব। খোলা রাস্তা আর মাঠে বের হলেও শরীর সব পানি শুষে নেয় চরম উত্তাপে। টাইগারদের প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে যে কারণে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রথম দিন (রোববার) মাঠেই আসেননি অসুস্থ হয়ে।
আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে টাইগারদের আরেক প্রতিপক্ষের নাম মুম্বই হিট। যা নিয়ে দুই দলের অধিনায়কই আছেন চিন্তায়। তবে সাকিব খুব একটা ভাবছেন না। তার মতে যা হবে সেটি দুই দলের জন্যই সমান হবে। তবে দুর্বল হওয়া চলবে না। এই জন্য আজ টসটাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আর্দ্রতা বেশি, পানি খেলেও পানিশূন্যতা হচ্ছে। ঘাম হচ্ছে অনেক। দুই দলই ভুগবে। দোয়া করেন যেন কালকে টসটা জিতি (হাসি)।’
অন্যদিকে প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা আছে দারুণ ফর্মে। চার ম্যাচের তিনটিতেই জয়। তবে যে ম্যাচটিতে নেদারল্যান্ডের কাছে হেরেছিল সেটি এই বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত অঘটনই বলা হচ্ছে। পরের ম্যাচেই অবশ্য দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় প্রোটিয়ারা। গত শনিবার মুম্বইয়ের এই ভেন্যুতেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ উইকেটে ৩৯৯ রানের পাহাড় গড়ে তারা ২২৯ রানের বিশাল জয় পায় তারা। গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রোটিয়াদের হারালেও এবার তারা ভারতের মাটিতে উড়ছেন। যদিও এসব কিছুই সাকিবের জন্য চিন্তার নয়। তিনি বলেন, ‘এমন একটা জায়গায় খেলা হচ্ছে যেখানে বোলাররা ভালো না করলে জেতার সম্ভাবনা খুব কম। এমন জায়গা যেখানে বোলাররাই জেতাতে পারে ম্যাচ অনেক সময়। এখানে সেটাই হয়ে থাকে। শেষ ম্যাচে অনেক রান হয়েছে আগে, পরে বোলাররা ভালো করেছে। অবশ্যই আমাদের অনেক ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ ম্যাচের মধ্যে ৩ ম্যাচ জিতেছে। ওরা অনেক ভালো অবস্থায় আছে। এর মানে এই না যে সব শেষ। ৫ ম্যাচ বাকি আছে। যদি এখানে জিততে পারি তাহলে ভালো মোমেন্টাম আসবে। যদিও আমরা খুব বেশি ম্যাচ জিতিনি। পয়েন্ট টেবিল দেখলে মনে হবে না আমরা খুব বেশি বাজে অবস্থায় আছি সত্যি কথা (হাসি)। অন্যান্য দল আমাদের সাহায্য করছে। এখন আমাদের দায়িত্ব আমাদের নিজেদের সাহায্য করা।’
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ছোট বাউন্ডারি এবং বাউন্সি উইকেটের কারণে মুম্বইয়ের ভেন্যু ব্যাটিং স্বর্গ হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের উইকেট বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক নয়। কারণ ব্যাটিং সহায়ক বা স্পোর্টিং উইকেটে খেলতে অভ্যস্ত নয় বাংলাদেশ। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বল করতে পারলে মুম্বইয়ের উইকেট যে পেসারদের জন্য সহায়ক সেটি ইতিমধ্যে দেখিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসাররা। ঘরের মাঠে ধীর ও নিচু উইকেট বানিয়ে বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের স্বাদ পেয়ে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু বহুজাতিক টুর্নামেন্টে সেটি হয়নি। শেষ তিন ম্যাচে ব্যাটিং সহায়ক উইকেট পেলেও ২৫৬ রানের বেশি করতে পারেনি টাইগাররা। এই মাঠে স্পিনাররা কার্যকর হবেন না তা সাকিবের জানা। তবে এমন ম্যাচে পাচ্ছেন না দলের পেস বিভাগের অন্যতম সেরা বোলার তাসকিন আহমেদকে। কাঁধের ইনজুরির কারণে তাকে আজকের ম্যাচেও দেয়া হচ্ছে বিশ্রাম। সাকিবও জানেন এখানে জিততে হলে বোলারদের কতোটা ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘স্পিনাররা প্রভাব ফেলতে পারতো যদি এই মাঠটা না হতো। এই মাঠের কারণেই হয়তো স্পিনাররা অত বেশি ইফেক্ট নাও ফেলতে পারে। অন্য জায়গায় হয়তো ইফেক্ট পড়তো। এখানে মাঠ ছোট, হাইস্কোরিং ম্যাচ হয়। আমরা সেভাবে প্ল্যান করছি। নেদারল্যান্ডস তাদের অল্প রানে আটকে ফেলেছে। ওইখান থেকে অনেক কিছু নেয়ার চেষ্টা করবো। শেষ একদেড় বছরের পারফরম্যান্স নিয়ে প্ল্যান করা হবে। প্ল্যান তো থাকেই বাট সফল হয় না। আশা করছি কালকে আমাদের ভালো দিন যাবে এবং প্ল্যান সফল হবে।’
অন্যদিকে দলের ব্যাটিং অর্ডার ওলটপালট নিয়ে যা হচ্ছে তা নিয়ে সমালোচনা তো চলছেই। বিশেষ করে মেহেদী হাসান মিরাজকে একেক ম্যাচে একেক পজিশনে ব্যাট করানো নিয়ে সমালোচনা কম নয়। এ নিয়ে সাকিব বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ ব্যাটাররা নিচের দিকে ব্যাট করছে আমারও মনে হয়েছে একটু বেশি নিচে ব্যাট করছে। তবে উল্টাভাবে দেখলে যদি তারা উপরে খেলে কোনো গ্যারান্টি কি আছে তারা রান করবে? রান না করলে কী মনে হবে? তারা আগের জায়গাতেই ভালো ছিল? আসলে এগুলো খুবই কঠিন এবং ট্রিকি। তবুও আমার মনে হয়েছে সব ম্যাচেই আমাদের সুযোগ ছিল ২৮০ রান করার। সিদ্ধান্ত আমরা নিয়ে থাকি কিন্তু এটা কখনো পক্ষে আসে কখনো আসে না। আফগানিস্তানের বিপক্ষে যখন সে ১০০ করলো। তখন আমাদের চিন্তা ছিল বিশ্বকাপে তাদের সঙ্গে আবারো মিরাজকে উপরে খেলানো। এ ছাড়া প্রস্তুতি ম্যাচে সে অনেক ভালো ব্যাটিং করেছে। স্বাভাবিকভাবেই যখন আফগানিস্তানের সঙ্গে সে ভালো করলো তখন একজন যখন ফর্মে আছে তখন আপনি চেষ্টা করবেন তাকে যত বেশি সুযোগ দেয়া যায়। সেই চিন্তা থেকে তাকে উপরে খেলানো।’
অন্যদিকে সাকিবও জানেন যাই হোক আজ জিততে না পারলে তাদেরও বিশ্বকাপের গল্পটা আরও মলিন হয়ে যাবে। তবে সাকিব মনে করেন এখনো আশা শেষ হয়নি। শেষ পাঁচ ম্যাচে তারা নিজেদের প্রমাণ করতে চান। পয়েন্ট টেবিলের যে অবস্থা তাতে তাদের সুযোগ দেখছেন টাইগার অধিনায়ক!