আজ শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আজ শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য ও অপসাংবাদিকতার অশুভ সংঘাত: কার এত জ্বালা?

স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নির্ভর করে তার পররাষ্ট্রনীতির আত্মমর্যাদা ও ভারসাম্যের ওপর। একটি দেশ বিশ্বদরবারে কতটা মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, তা নির্ধারিত হয় সে দেশের সরকারের কূটনৈতিক দূরদর্শিতা এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষমতার মধ্য দিয়ে। চব্বিশ-উত্তর বাংলাদেশে আজ সেই ঐতিহাসিক রূপান্তর দৃশ্যমান।

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের গত ছয় মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যে যুগান্তকারী ও অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে, তা নিরপেক্ষ ও দেশপ্রেমিক যেকোনো নাগরিককে গর্বিত করবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দেশের এই অভূতপূর্ব কূটনৈতিক সাফল্য যখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নতুন ভাবমূর্তি গড়ে তুলছে, তখন একশ্রেণীর মতলববাজ গণমাধ্যম এবং তাদের পেছনের অশুভ শক্তি যেন এই অর্জনকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না।

সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের দ্বৈত নাগরিকত্বের অহেতুক ও অনভিপ্রেত বিতর্ক সামনে এনে বহুল বিতর্কিত পত্রিকা প্রথম আলো যে অপসংবাদিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা কেবল অপেশাদারই নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এক গভীর চক্রান্তের অংশ বলেই মনে হচ্ছে।

এখানে আমি অত্যন্ত দ্বিধাহীন যেতে বলতে চাই যে,একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের সফল পররাষ্ট্রনীতিতে জল ঢেলে দেওয়ার এবং সরকারকে বিশ্বদরবারে প্রশ্নবিদ্ধ করার এই অপচেষ্টা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার নামে চরম স্বেচ্ছাচারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিগত দেড় দশকের পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কার্যত একটি নির্দিষ্ট দেশের কাছে বন্ধক দেওয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনার অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে বাংলাদেশকে ভারতের একটি ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা অনুগত অঞ্চলে পরিণত করা হয়।

সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, “দিল্লি আছে আমরা আছি”পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, “ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো”। তাদের এসব নির্লজ্জ বয়ান এ দেশের কোটি কোটি মানুষের জাতীয় আত্মমর্যাদায় চরম আঘাত হেনেছিল।

শেখ হাসিনা নিজেই গর্ব করে বলেছিলেন, “আমি ভারতকে যা দিয়েছি, তারা তা কোনোদিন ভুলতে পারবে না।” প্রকৃতপক্ষে, ভারতের একচেটিয়া আধিপত্য কায়েমের জন্য বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হয়েছিল।

তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ওপর ভিত্তি করে পররাষ্ট্রনীতি পুনর্গঠন করেছে। গত ছয় মাসে এই নীতির বাস্তব রূপায়ণ ঘটেছে অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে। দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলেও, তিনি তড়িঘড়ি দিল্লি না গিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের মনস্তাত্ত্বিক চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে বেছে নেন মালয়েশিয়া এবং পরবর্তীতে চীন সফর করেন, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার এক অনন্য নজির।

একইসঙ্গে সমপ্রতি বিমসটেক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ভারতকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পলাতক আসামিদের (শেখ হাসিনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের) ফেরত দেওয়া, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা এবং অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার মতো অনুকূল পরিবেশ তৈরি ছাড়া তড়িঘড়ি কোনো সফর সম্ভব নয়। দিল্লি বিমসটেক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্বোধন না করে যে সংকুচিত মনোভাব দেখিয়েছিল, তারেক রহমান সমমর্যাদার জায়গায় দাঁড়িয়ে তার যোগ্য জবাব দিয়েছেন।

অন্যদিকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা প্যাক্ট’-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ইতিবাচক মানসিকতা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে অত্যন্ত প্রভাবশালী করে তুলেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক সৌদি আরব সফরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ চিঠি হস্তান্তর এবং কূটনৈতিক তৎপরতা প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ আজ বিশ্বমঞ্চে এক অপরিহার্য অংশীদার।

একটি নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য ছয় মাস খুব বেশি সময় নয়। বস্তুত, এই ছয় মাসে বিএনপি সরকারের সাফল্য, কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতা এবং প্রচুর সম্ভাবনা পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জীবনযাপন, প্রশাসনিক সংস্কারে চরম আন্তরিকতা, ব্যয়সংকোচন নীতি এবং নিয়মানুবর্তিতা রাষ্ট্র পরিচালনায় এক নতুন গুণগত পরিবর্তন এনেছে। সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে তাঁর নিরলস চেষ্টা প্রশ্নাতীত। পররাষ্ট্রনীতির অভূতপূর্ব উন্নয়ন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায় সৃষ্টি করেছে।

তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মতো কিছু জনদুর্ভোগ এখনও বিদ্যমান। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে প্রশ্নটি আজ বড় হয়ে উঠেছে তাহলো—এই সংকট কি অর্থ বা কাঁচামালের, নাকি এটি অতীতের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ত্রুটি ও আমলাতান্ত্রিক অবহেলার ফসল? সরকার যদি এই প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনার ত্রুটি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারে, তবে সম্ভাবনার দিগন্ত আরও প্রসারিত হবে। তবুও সমস্ত চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, গত ছয় মাসের কূটনৈতিক সাফল্য সরকারের অন্যান্য যেকোনো সীমাবদ্ধতাকে ছাপিয়ে দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই সত্য আমাকে স্বীকার করতেই হবে।

যখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে, ঠিক তখনই প্রথম আলো হঠাৎ করে নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিতর্কের সূত্রপাত ঘটালো। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ এবং ৬৬ ধারা অনুযায়ী, টেকনোক্র্যাট কোটায় কোনো ব্যক্তিকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিলে এবং তিনি সংবিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণ করলে, সেখানে নতুন করে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিতর্ক তোলার কোনো আইনি ও সাংবিধানিক সুযোগ থাকে না। প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির দীর্ঘ দিন যুক্তরাজ্যে বেড়ে উঠলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর সাধারণ পাসপোর্ট জমা দিয়ে অফিসিয়াল (লাল) পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন এবং ইতোমধ্যে দেশের হয়ে অন্তত ১১টি বিদেশ সফর সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। সাংবাদিকতা হলো সত্যকে সাহসের সাথে তুলে ধরা, কিন্তু কোনো একটি সাফল্যকে ম্লান করার জন্য আংশিক তথ্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা ছড়িয়ে দেওয়া সাংবাদিকতা নয়—তা হলো ‘অপসাংবাদিকতা’।

প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির যথার্থই প্রশ্ন তুলেছেন, “কার এত জ্বালা?” প্রকৃতপক্ষে এই জ্বালা প্রথম আলোর নিজস্ব নয়, এই জ্বালা তাদের পেছনের প্রভুদের। ভারতীয় অপপ্রচার এবং গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী হিসেবে অভিযুক্ত এই গণমাধ্যমটি কোনোভাবেই বাংলাদেশ সরকারের আন্তর্জাতিক সাফল্য মেনে নিতে পারছে না।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং তারেক রহমানের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি দিল্লির সাউথ ব্লক এবং ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিগত ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেকে “জঙ্গিবাদ দমনের একমাত্র কান্ডারী” হিসেবে তুলে ধরে ভারতের কাছ থেকে ক্ষমতার লাইসেন্স কিনেছিলেন।

আজ হাসিনাহীন বাংলাদেশে ভারত এবং তাদের দেশীয় সহযোগীরা (যেমন প্রথম আলো) আবারও সেই পুরনো ‘উগ্রবাদের বয়ান’ ডালপালা মেলে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি ভারতে বসে শেখ হাসিনার অপপ্রচার এবং ১৮ আগস্ট দি পায়োনিয়ার পত্রিকায় তাঁর নিবন্ধে উগ্রবাদের যে কথা বলা হয়েছে, তার সাথে প্রথম আলোর সংবাদ পরিবেশনের অদ্ভুত মিল রয়েছে।

মূলত শেখ হাসিনার আমলে সম্পাদিত এসিএমপি (চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার), কোস্টাল শিপিং অ্যাগ্রিমেন্ট (সিএসএ) এবং ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট (পিআইডব্লিউটিটি)-এর মতো জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তিগুলোর মাধ্যমে ভারত নামমাত্র মাশুলে এবং বাংলাদেশের কাস্টমস চেকিং ছাড়াই নিজেদের ভূখণ্ডে পণ্য পরিবহনের সুযোগ পেয়েছিল।

তারেক রহমানের নির্বাচিত সরকার যদি এসব চুক্তি পর্যালোচনা বা বাতিল করে—এই ভয়ে দিল্লি আজ ব্যাকুল হয়ে তারেক রহমানকে তড়িঘড়ি ভারতে নিতে চাইছে। তারা চায় উগ্রবাদের জুজু দেখিয়ে এবং শেখ হাসিনাকে ‘ট্রাম্পকার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে। ভারত আজও তাদের ফ্যাসিবাদের হ্যাংওভার থেকে বের হতে পারেনি। তারা বুঝতে পারছে না যে চব্বিশ-উত্তর বাংলাদেশ আর কোনো চাণক্য ট্র্যাপে পা দেবে না এবং কোটি কোটি সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে আর কোনো প্রভুত্ব চলবে না।

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এর এই দেশবিরোধী ও বিরাজনীতিকরণের চর্চা নতুন নয়। ১/১১-এর অসাংবিধানিক মইন-ফখরুদ্দীন সরকার আনার পেছনে এই দুটি পত্রিকার ভূমিকা ইতিহাসবিদ ও সচেতন মহল কখনোই ভুলবে না। তৎকালীন সময়ে জিয়া পরিবার—শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চরিত্রহনন, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করে এ দেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে চরম ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল।

যে মিডিয়া ট্রায়াল তারা সেদিন করেছিল, তার মাশুল পুরো জাতিকে একদফা ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে দিতে হয়েছে। আজ যখন সেই জিয়া পরিবারের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে দেশ গঠনে ও কূটনৈতিক অঙ্গনে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন, তখন অতীতে ব্যর্থ হওয়া সেই চক্রান্তকারীরা আবারও ফুঁসে উঠেছে।

সাংবাদিকতার আড়ালে যারা বারবার এ দেশের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং সার্বভৌমত্বকে আঘাত করেছে, তাদের এই অপসাংবাদিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থেই প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এর অতীত ও বর্তমানের দেশবিরোধী অপসংবাদিকতা এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা উচিত। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে এ ধরনের গণমাধ্যম বারবার জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে বিদেশি আধিপত্যবাদের দালালি করে যাবে।

পরিশেষে বলতে চাই,উপমহাদেশের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। চাণক্যনীতি কিংবা উগ্রবাদের মনগড়া বয়ান ছড়িয়ে বাংলাদেশকে আর চেপে রাখা সম্ভব নয়। ভারত যদি বাংলাদেশের সাথে দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বের হাত বাড়াতে চায়, তবে তাদের শেখ হাসিনার মতো পলাতক মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দিতে হবে এবং সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ যে স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির সূচনা করেছে, তা কোনো পত্রিকার অপপ্রচার বা আন্তর্জাতিক চক্রান্তে দমে যাবে না। প্রথম আলোর মতো গোষ্ঠীগুলোর গায়ের জ্বালা যতই বাড়ুক না কেন, বাংলাদেশের কোটি কোটি জনগণের সমর্থনে রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান দেশকে এক নতুন ও শক্তিশালী উচ্চতায় নিয়ে যাবেন—এটাই চব্বিশ-উত্তর বাংলাদেশের চিরন্তন বাস্তবতা। সুতরাং কারো কোনো জ্বালা-যন্ত্রণা কিংবা ষড়যন্ত্রেই নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।

লেখক:সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক,আমার দিন।
ই-মেইল: ahabibhme@gmail.com

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin