দুনিয়া কাঁপানো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনকে রূপান্তরিত করে নির্মিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ (সংক্ষেপে জুলাই জাদুঘর) উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর থেকেই ঐতিহাসিক ও স্মারকমণ্ডিঁত এই স্থানটি পরিদর্শনের একটি সুতীব্র বাসনা মনের মধ্যে লালন করছিলাম। কিন্তু পেশাগত ব্যস্ততা ও সময়ের টানাফোড়েনে তা হয়ে উঠছিল না। তবে আমার প্রাণাধিক প্রিয় সন্তান আহনাফ হাবিব আলভীর ক্রমাগত তাগাদা এড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
অবশেষে গতকাল সেই প্রতিক্ষিত সময়টি এলো। বেলা দেড়টা নাগাদ জুলাই জাদুঘরের টিকিট কাউন্টারের নাতিদীর্ঘ সারিতে গিয়ে দাঁড়ালাম। শরতের তালপাকা তপ্ত রোদের প্রখরতা মাথায় নিয়েই আমার ভ্রাতৃতুল্য গাড়িচালক ও সন্তানসহ তিনজনের জন্য ১৫০ টাকা দিয়ে তিনটি টিকিট সংগ্রহ করলাম। প্রবেশপথে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর কাছে অবস্থানের সময়সীমা জানতে চাইলে জানালেন সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত থাকা যাবে। তবে অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির ঝুলিতে বিপুল উপাদান জমা করে চারটা নাগাদ, অর্থাৎ প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর আমরা বেরিয়ে এলাম।
এখানে বলে রাখা ভালো যে,সময়ের প্রবাহে কোনো কোনো স্থাপনা একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাস, ক্ষমতার উত্থান-পতন, মানুষের আকাঙ্ক্ষা, ক্ষোভ ও পরিবর্তনের নীরব সাক্ষীতে পরিণত হয়। বাংলাদেশের গণভবন আজ তেমনই একটি স্থান। একসময় যেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র ছিল, আজ সেখানে দাঁড়িয়ে আছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি বহনকারী একটি জাদুঘর।
যাহোক,প্রবেশদ্বার অতিক্রম করে ভেতরে পা রাখতেই অন্যরকম এক আবেগ ও অদ্ভুত মুগ্ধতা অনুভব করলাম হৃদয়জুড়ে। মূল প্রদর্শনী ভবনে প্রবেশের আগেই চোখে পড়ে সুবিশাল পরিসরে নির্মিত প্রতীকী গণকবর। সুবিস্তীর্ণ সবুজ মাঠের আদলে গড়ে তোলা এই গণকবরের চারপাশে খোদাই করে লেখা রয়েছে জুলাই আন্দোলনের বীর শহীদদের নাম। সত্যিকার অর্থে এই স্থাপনাটি একই সঙ্গে নান্দনিক ও বেদনাবিধুর। সবুজ আমার প্রিয় রংগুলোর একটি। তাই কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুললাম। কিন্তু ছবির আড়ালে যে ইতিহাস, তার ভার অনুভব করছিলাম গভীরভাবে।
প্রতীকী গণকবরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে স্থাপন করা হয়েছে প্রতীকী ‘আয়নাঘর’—যা বিগত শাসনামলের ভয়াল ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক নিভৃত স্মারক। আয়নাঘরের পাশ ঘেঁষেই মূল জাদুঘর ভবনে প্রবেশের পথ। আমরা ধীর পায়ে এগোলাম সেই পথ ধরে, পথের ডান পাশে শিল্পকলা ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে জুলাই আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ফলে এটি কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; বরং সাম্প্রতিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে দৃশ্যমান করার একটি প্রচেষ্টা বলেই মনে হয়েছে।
তবে ইতিহাসের ভেতরে প্রবেশের আগে আমাদের ক্ষুধার কাছে কিছুটা আত্মসমর্পণ করতে হলো।
জাদুঘরের পাশেই রয়েছে ক্যাফে। খোলামেলা ও ব্যতিক্রমী নকশার ক্যাফেটি বেশ আকর্ষণীয়। তবে তার চেয়েও বেশি বিস্মিত হয়েছি খাবারের দামে। সাধারণত জাদুঘর, পর্যটনকেন্দ্র কিংবা বিশেষায়িত দর্শনীয় স্থানের খাবারের দাম তুলনামূলক বেশি হয়। শুধু বাংলাদেশ নয়,পৃথিবীর সব জায়গাতেই তাই হয়। অথচ এখানে চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত।
আমরা তিনজন তিনটি চিকেন শর্মা নিলাম—প্রতিটি ১০০ টাকা। সঙ্গে আধা লিটারের তিন বোতল পানি। সব মিলিয়ে মাত্র ৩৬০ টাকায় তিনজনের ছোটখাটো মধ্যাহ্নভোজ হয়ে গেল।
দাম কম দেখে অবশ্য খাবারের স্বাদ নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল। কিন্তু খাওয়ার পর সেই সংশয় কেটে গেল। সন্তান ও গাড়িচালক দুজনই প্রশংসা করল। আমার কাছেও খাবারটি যথেষ্ট ভালো লেগেছে। অবশ্য আমরা তখন ক্ষুধার্ত ছিলাম—তাই স্বাদটা হয়তো আরও ভালো লেগে থাকতে পারে। তবু সামগ্রিকভাবে খাবারের মান নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই।
ক্যাফের খানিকটা উত্তর পাশেই অজুখানা ও নামাজের স্থান রাখা হয়েছে। খাওয়ার সময় সেখানে অনেককে যোহরের নামাজ আদায় করতে দেখলাম। পূর্ব পাশে রয়েছে গণভবনের কৃত্রিম লেক—৫ আগস্টের পর যে স্থানটির নানা দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হয়েছিল।
খাওয়া শেষে আমরা পা রাখলাম জুলাই জাদুঘরের মূল ভবনে—যা ছিল শেখ হাসিনার সাবেক সরকারি বাসভবন। গণভবনের প্রতিটি কোণে ও দেওয়ালে আজও দৃশ্যমান ৫ আগস্টের আছড়ে পড়া জনতার ক্ষোভ ও ধ্বংসলীলার জীবন্ত ছাপ। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা এক টাকায় রাষ্ট্রীয় প্রতীক এই গণভবনটি নিজের নামে বরাদ্দ নিয়েছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার তা বাতিল করলেও, ২০০৮ সালে পুনরায় ক্ষমতায় এসে তিনি ভবনটি নিজের নামে লিখে নেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ক্ষমতা ও অট্টালিকা ধরে রাখা তো দূরের কথা, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তাকে দেশ ছেড়েই পালাতে হয়েছে।
জাদুঘরের ভেতরে ভিডিও চিত্র, আলোকচিত্র ও স্মারক সামগ্রীর মাধ্যমে আন্দোলনের প্রতিটি মুহূর্তকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। যারা সেই উত্তাল দিনগুলোতে ঘরে বন্দি ছিলেন, তাদের জন্য এই জাদুঘর যেন ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল।
আমি মনে করি, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিবর্তন সম্পর্কে আগ্রহী প্রত্যেক মানুষের অন্তত একবার এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত।
আমার সন্তান আলভীর মূল আকর্ষণ ছিল গণভবনের দোতলায় শেখ হাসিনার শয়নকক্ষটি দেখা। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করে সে কিছুটা হতাশই হলো। সে আমাকে বলল, ‘আব্বু, আমি ভেবেছিলাম শেখ হাসিনার বেডরুম আরও অনেক বড় হবে।’
কারণ, ৬০০ থেকে ৭০০ স্কয়ার ফিটের সেই ঘরে বিশাল কোনো জাকজমক ছিল না; ছিল কেবল রশি দিয়ে ঘিরে রাখা একটি পুরোনো খাট আর কিছু সাধারণ আসবাব। বিপুল অর্থনৈতিক দুর্নীতি ও লুটপাটের খতিয়ান সত্ত্বেও শোবার ঘরের খাটের এই সাধারণতা ইতিহাসের এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের ইঙ্গিত দেয়।
বাস্তবে হাসিনার শোবার ঘরটি তুলনামূলক সাধারণ। একটি পুরোনো খাট এবং কিছু হালকা আসবাব ছাড়া তেমন কিছু চোখে পড়ল না। যে খাটে শেখ হাসিনা ঘুমাতেন, সেটি দড়ি দিয়ে ঘেরা অবস্থায় সংরক্ষিত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৫ আগস্টের পর এই খাটের ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।
কিন্তু এখানে একটি বিষয় আলাদা করে বলা দরকার—কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অনুমান করা সাংবাদিকতার কাজ নয়। একটি পুরোনো খাট যেমন ব্যক্তির সরল জীবনযাপনের প্রমাণ নয়, তেমনি তা দিয়ে বিলাসিতার অভিযোগও প্রমাণিত হয় না।
তবে এই খাটটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য অন্যত্র। আর তা হচ্ছে, একসময়ের ক্ষমতার কেন্দ্রের ব্যক্তিগত শয়নকক্ষ এখন সাধারণ দর্শনার্থীর সামনে উন্মুক্ত। যে মানুষটি দীর্ঘদিন রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন, তার ব্যক্তিগত পরিসরের একটি অংশ আজ ইতিহাসের প্রদর্শনী। ক্ষমতার অনিত্যতার এর চেয়ে শক্তিশালী প্রতীক খুব কমই আছে। ইতিহাস কখনো একই জায়গায় থেমে থাকে না।
তবে জাদুঘর পরিদর্শনের সব অভিজ্ঞতা আনন্দদায়ক ছিল না। বের হওয়ার সময় পাবলিক টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন হলো। কিন্তু প্রবেশের আগেই উৎকট গন্ধ নাকে এল। ভেতরে ঢুকে দেখলাম স্যাঁতসেঁতে ও অপরিচ্ছন্ন চরম নোংরা পরিবেশ। একটি অংশে ‘ভিভিআইপি’ লেখা থাকলেও পরিবেশে ভিআইপির কোনো ছাপ নেই। ফলে প্রকৃতির ডাককে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে হত সাড়া না দিয়েই চলে আসতে হলো।
এখানে আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে,পরিচ্ছন্নতা একটি আন্তর্জাতিক মানের জাদুঘরের মৌলিক সেবা। বিশেষ করে যেখানে শিশু, নারী, বয়স্ক ও বিদেশি দর্শনার্থী আসবেন, সেখানে টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণকে কোনোভাবেই গৌণ বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যা হোক,দম বন্ধ করে বেরিয়ে এসে জাদুঘরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মি. কামরুজ্জামানকে ফোন করলাম। তিনি তখন সভায় থাকায় মনিরুল ইসলাম নামের একজন কর্মকর্তাকে আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য পাঠান। তাকে আমার অভিজ্ঞতা জানালাম এবং টয়লেটের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের অনুরোধ করলাম।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে জানালেন, উদ্বোধনের প্রথম দিনই টয়লেট থেকে মূল্যবান কিছু জিনিস চুরি যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং পুনরায় জাদুঘর পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।
পরে সন্তানকে নিয়ে স্পাইডারম্যান ব্র্যান্ড নিউ ডে মুভি দেখার জন্য যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার সিনেমা হলে যাওয়ার পথে মহাপরিচালক মহোদয় ফোন করলেন। সভার কারণে সময় দিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করলেন এবং জাদুঘরটির উন্নয়নে পরামর্শ ও সহযোগিতা চাইলেন। আমি তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছি, জাদুঘরের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গাটি অত্যন্ত অপ্রতুল এবং পার্কিং এ গাড়ি আসা যাওয়ার জন্য আলাদা দুটি গেট থাকা জরুরি। কারণ জাদুঘরে প্রবেশ এবং পরিদর্শন শেষে বেরোবার সময়
অর্থাৎ দুবারই গেটে জটলার সৃষ্টি হয়েছে। যথেষ্ট সময় নষ্ট হয়েছে। যা ছিল সম্পূর্ণরূপে অপ্রত্যাশিত।
যা হোক জাদুঘর পরিদর্শনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি বলে আজকের লেখাটি শেষ করতে চাই।জাদুঘর থেকে বেরিয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করার সময় আহনাফ আমাকে প্রশ্ন করল, ‘আব্বু, যদি শেখ হাসিনা আবার ক্ষমতায় আসে, তাহলে এই জাদুঘরের কী হবে?’ প্রশ্নটি শুনে আমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম। একটি শিশুর সরল প্রশ্ন আসলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিরই গভীর প্রশ্ন।
আমি তাকে বললাম, তুমি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছ, শেখ হাসিনার শোবার ঘরে যখন আমরা ছিলাম, তখন সাদী নামের সাত-আট বছরের একটি ছেলে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সে তার মায়ের হাত ধরে মুগদা থেকে জাদুঘর দেখতে এসেছে। এই প্রজন্মের শিশুরা যদি ইতিহাসকে চোখের সামনে দেখে বড় হয়, তাহলে তারা ভবিষ্যতে রাষ্ট্র, রাজনীতি ও ক্ষমতা সম্পর্কে নিজেদের বিচারবোধ তৈরি করবে।
আরো বললাম,জুলাই জাদুঘরের ভবিষ্যৎ শুধু কোনো একজন রাজনৈতিক নেতার হাতে নয়। এটি নির্ভর করবে বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ চরিত্রের ওপর।
যদি ভবিষ্যৎ সরকারগুলো জনগণের ভোটাধিকার, আইনের শাসন, মানবাধিকার, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, জবাবদিহি, অর্থনৈতিক ন্যায় বিচার এবং প্রতিষ্ঠানগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে জুলাইয়ের স্মৃতি কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ হয়ে থাকবে না; তা জাতীয় স্মৃতির অংশ হয়ে উঠবে। ফলে হাসিনা বা আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফেরা মোটেও সহজ হবে না।
আর যদি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বও অতীতের মতো ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দমন-পীড়ন ও জবাবদিহিহীনতার পথে হাঁটে, তাহলে ইতিহাস আবারও নিজেকে নতুনভাবে লিখবে।
বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যেন এক রাজনৈতিক দুষ্টচক্রে আটকে আছে—এক শাসনের ব্যর্থতা থেকে মুক্তি পেতে আরেক শাসনের ওপর আস্থা রাখে; পরে সেই আস্থাও যখন ভেঙে যায়, তখন আবার নতুন পরিবর্তনের অপেক্ষায় থাকে। এই চক্র ভাঙতেই হবে।
তার জন্য দরকার প্রতিষ্ঠানভিত্তিক, জ্ঞাননির্ভর, কল্যাণমুখী ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি। দরকার এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে সরকার বদলালেও প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকবে এবং জনগণের অধিকার নিরাপদ থাকবে।
স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের আলোচনায় আত্মনির্ভরতা, উৎপাদন, বহুদলীয় রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন দেখার বিষয়, তার উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমান বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় কীভাবে একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন।
কারণ জুলাই জাদুঘরের ভবিষ্যৎ কেবল তার দেয়ালের ওপর নির্ভর করছে না। এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আমরা কেমন বাংলাদেশ তৈরি করছি তার ওপর।
একদিন হয়তো এই জাদুঘরে আসবে আজকের সেই ছোট্ট সাদী, আহনাফ এবং তাদের প্রজন্মের সন্তানরা। তারা তখন হয়তো প্রশ্ন করবে—কেন জুলাই হয়েছিল? কেন এত মানুষ রাস্তায় নেমেছিল? কেন একটি রাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্র একদিন জনগণের ইতিহাসের জাদুঘরে পরিণত হলো?এসব প্রশ্নের উত্তর থাকতে হবে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধায়।
আর সবচেয়ে বড় কথা, উত্তর থাকতে হবে এমন একটি বাংলাদেশে—যেখানে কোনো সরকারই জনগণের ওপরে নয়, যেখানে ক্ষমতা জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে।
সুতরাং জুলাই জাদুঘর শুধু অতীতের স্মৃতিস্তম্ভ নয়; এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্কবার্তাও বটে। এই সতর্কবার্তা আমরা শুনব কি না—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
শেখ হাসিনার সেই বাড়িতে আড়াই ঘণ্টা—আমার কাছে শুধু একটি জাদুঘর ভ্রমণ নয়; এটি ছিল বাংলাদেশের এক পালাবদলের ইতিহাসের অন্দরমহলে দাঁড়িয়ে অতীতকে নতুন করে দেখার এক বিরল অভিজ্ঞতা।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন
ই-মেইল: ahabibhme@gmail.com