আজ সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
আজ সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, তেহরানের প্রত্যাখ্যান

এক নাটকীয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এক নির্ভুল প্রাথমিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী, চিফ অব স্টাফ ও রেভল্যুশনারি গার্ড কমান্ডারসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা শুরুতে ৪–৫ দিনের একটি সংক্ষিপ্ত অভিযান পরিকল্পনা করেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল তেহরানকে দুর্বল করে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে, ওয়াশিংটন ইতালির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়—আজ বা আগামীকালই একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে।তবে ইরান এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়ে তেহরান তাদের অবস্থানে অনড় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করছে যে বড় ধরনের আঘাত হানার পর ট্রাম্প দ্রুত সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে চান। তবে তেহরানের শাসনব্যবস্থা এখনই ভেঙে পড়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

ইয়েমেনের হুতি, ইরাকি রেজিস্ট্যান্স দল এরপর হিজবুল্লাহ এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। ইরান তার লক্ষ্যবস্তু অর্জন না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া উচিত। বাহ্যত তাই দেখা যাচ্ছে। ১৫ দিন ইজরাইলিদের বাঙ্কারের ভিতর রাখতে পারলে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে। আমেরিকার সহযোগী দেশ সৌদি আরব, জর্ডান, কাতার, তুরস্ক, বাহরাইন সহ যে দেশগুলোতে আমেরিকার ঘাটি আছে তার উপর বারবার আঘাত হেনে মিজাইল ডিফেন্স সিস্টেম ভেঙে দেওয়াই হবে ইরানের প্রধান কাজ।

 

আয়াতুল্লাহ খামেনির পর নতুন নেতৃত্ব পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির দিকে মনোযোগ দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি কারণ খামেনি পারমাণবিক বোমা তৈরীর পক্ষপাতী ছিলেন না। অন্যদিকে চীন আর্থিক লেনদেন অর্থাৎ বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য তেল আমদানি ইত্যাদির মাধ্যমে ইরানকে সহায়তা করে যাচ্ছে সেই সাথে রাশিয়াও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। একদিকে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী বন্ধ আবার অন্যদিকে হুতি কর্তৃক সুয়েজ ক্যানাল দিয়ে আসা জাহাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বিশ্ব অর্থনীতি একটা বিরাট চাপের মধ্যে থাকবে তখন বিশ্ব জনমত আমেরিকা জোটের বিরুদ্ধে কাজ করবে। আগামী সাত দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ; এরমধ্যে বুঝা যাবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে।-লেখক: নিরাপত্তা বিশ্লেষক,ঢাকা।

 

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin