মোবাইল ফোন আজ আর কোনো বিলাসপণ্য নয় বরং এটি জীবনের অপরিহার্য একটি অনুষঙ্গ। যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা। সবখানেই মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে এক অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী চক্র সক্রিয়। যারা অবৈধভাবে পুরোনো ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন চোরাই পথে দেশে এনে নতুন বলে বিক্রি করছে। এর ফলে একদিকে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্র হারাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব।
এই চোরাকারবারিদের লাগাম টানতেই সরকারের বহুদিনের পরিকল্পনা ছিল ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার—এনইআইআর। কিন্তু প্রতিবারই এই উদ্যোগ ভেস্তে গেছে সংঘবদ্ধ চাপ, আন্দোলন আর অদৃশ্য লেনদেনের কাছে।
অবশেষে ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর আংশিকভাবে কার্যকর করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। যা রাজনৈতিক সরকারেরই বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১৫ মার্চ থেকে এনইআইআর সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা হবে। এটি হলে সব রকমের অবৈধ মোবাইল অকার্যকর হয়ে যাবে।
এই প্রেক্ষাপটেই গতকাল রোববার একটি ঘটনা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।একই সঙ্গে আমাকে অবাক করেছে। মোবাইল চোরাকারবারিদের একটি অংশের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান ও আগামীর সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচিত তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সেখান থেকে এনইআইআর পুনর্বিবেচনার “আশ্বাস” পাওয়ার দাবি।
প্রশ্ন উঠেছে যে,এই সাক্ষাৎ কি শুধুই একজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে নাগরিকদের মতবিনিময়, নাকি এর পেছনে আছে জনস্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী বিপজ্জনক বার্তা?
দেশের বাজারে বছরের পর বছর ধরে গ্রে মার্কেট বা আনঅফিসিয়াল পথে মোবাইল ফোন আসছে। বিদেশ থেকে ব্যবহৃত ও পুরোনো ফোন কম দামে কিনে চোরাই পথে দেশে ঢুকিয়ে আইএমইআই, ক্যাসিং কিংবা কিছু যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে সেগুলো নতুন মোবাইল হিসেবে বিক্রি করছে অধিক মুনাফা লোভী চক্রটি। ক্রেতা দাম দেয় নতুন ফোনের, কিন্তু হাতে পায় পুরোনো ব্যবহৃত ডিভাইস। এতে ভোক্তা প্রতারিত হয়, নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে, আর সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবৈধ মোবাইলগুলোই অনেক সময় প্রতারণা, বিকাশ জালিয়াতি, চাঁদাবাজি, হুমকি ও সাইবার অপরাধে ব্যবহৃত হয়। কারণ এগুলোর কোনো সঠিক রেকর্ড থাকে না। আইএমইআই ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে অপরাধীরা সহজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যায়।
এনইআইআর মূলত একটি জাতীয় ডাটাবেস, যেখানে প্রতিটি বৈধ মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর নিবন্ধিত থাকবে। এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন দেশের নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবে না। ফলে চোরাই ফোন ব্যবসা বন্ধ হবে, রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।
এখানে বলে রাখা ভালো যে, সরকার ইতোমধ্যে বৈধ মোবাইল আমদানি আরও সহজ করতে বিদ্যমান কর হার কমিয়ে দিয়েছে। ভ্যাট ট্যাক্স ও অন্যান্য খরচ মিলে মোবাইল আমদানিতে আগে ৬৩ শতাংশ বাড়তি খরচ হতো। গত সপ্তাহে সেটা প্রায় ৪২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে এই খরচ কোনভাবেই ৩০ শতাংশের উপরে যাওয়া উচিত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২১ সালে প্রথমবারের মতো এনইআইআর বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ২৯ কোটি টাকায় একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। সে মোতাবেক সফটওয়্যার ক্রয় করা হয়। কিন্তু প্রতিবারই দেখা গেছে যে, মোবাইল চোরাকারবারিদের আন্দোলন, চাপ ও নেপথ্যের লেনদেনের মুখে সরকার পিছু হটেছে।
অভিযোগ রয়েছে, পতিত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একাংশ এবং সংশ্লিষ্ট কিছু মহলে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই উদ্যোগ বারবার থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, এনইআইআর বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিলেন তৎকালীন আইটি উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। অভিযোগ রয়েছে, মোবাইল চোরাকারবারিদের সঙ্গে জয়ের একটি গোপন সখ্য ও স্বার্থগত যোগসূত্র ছিল। সেই অদৃশ্য প্রভাবের কারণেই এনইআইআর আলোর মুখ দেখেনি। জনস্বার্থের বিষয়টি চাপা পড়ে গিয়েছিল ব্যক্তি স্বার্থ ও ক্ষমতার বলয়ের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশেষ করে তৈয়ব আহমেদ টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর এনইআইআর বাস্তবায়নের ঘোষণা আসে নতুন করে। প্রথমে ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ নির্ধারণ করা হলেও মোবাইল ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে তা পিছিয়ে ১ জানুয়ারি ২০২৬ করা হয়। অবশেষে ওই দিন থেকে আংশিকভাবে এনইআইআর কার্যকর হয়।
কিন্তু এই বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করেই মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) নামের একটি সংগঠন রাস্তায় নামে। তারা বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে, সরকারি স্থাপনায় আক্রমণ করে। এতে ফৌজদারি মামলায় অন্তত ৪৫ জন গ্রেপ্তার হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি হয় আরও কয়েকশ। তবুও তাদের অপতৎপরতা থেমে নেই। একেই বলে ‘চোরের মায়ের বড় গলা’।
সুতরাং আমি মনে করি, এটি আর সাধারণ ব্যবসায়িক কোনো দাবি নয় বরং এটি রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত। সুতরাং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একটি কার্যকর রাষ্ট্রে ‘চুরি আরো সিনাজুরি’ কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।
এমন একটি পরিস্থিতিতে মোবাইল চোরাকারবারিদের একটি অংশ স্ত্রী-সন্তানসহ গুলশানে তারেক রহমানের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে। তারেক রহমান তাদের দেখে গাড়ি থেকে নেমে কথা বলেন এবং চারজন প্রতিনিধিকে ডেকে নেন। এখন ব্যবসায়ীরা বলছে যে ,বিএনপি ক্ষমতায় এলে এনইআইআর “পুনর্বিবেচনা” করা হবে।
এখানে আমি বলতে চাই, একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তারেক রহমান যে কারও সঙ্গে দেখা করতেই পারেন। এ নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী অভিযোগ, যাদের বিরুদ্ধে সরকারি স্থাপনায় হামলার মামলা রয়েছে, তারা কেমন করে এত সহজে সাক্ষাতের সুযোগ পেল? আর তারেক রহমান যদি সত্যিই কোনো আশ্বাস দিয়ে থাকেন, তবে সেই আশ্বাস কার পক্ষে? জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের পক্ষে? নাকি অবৈধ চোরাই ব্যবসায়ীদের পক্ষে?
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো যে, তারেক রহমানের আশপাশের একটি সংঘবদ্ধ চক্র নাকি টাকার বিনিময়ে এই সাক্ষাৎ ও মানববন্ধনের ব্যবস্থা করেছে। যদি এই অভিযোগ সত্য হয়, তবে তা শুধু তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিই নয়, বিএনপির রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলবে। এতে আমার কোন সন্দেহ নেই।
এই বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তারেক রহমান সত্যিই ব্যবসায়ীদের এমন কোনো আশ্বাস দিয়েছেন কি না, তা জানতে বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ের মিডিয়া উইংয়ের একজন সদস্যের সঙ্গে একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। কার্যালয়ের আরেকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলেও তিনি বিষয়টি জেনে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন, তবে এই প্রতিবেদন লেখার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সেখান থেকেও কোনো সাড়া মেলেনি। একইভাবে তারেক রহমানের প্রেস সেক্রেটারির বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ফলে ব্যবসায়ীদের দাবিকৃত “আশ্বাস” আদৌ দেওয়া হয়েছে কি না, নাকি এটি তাদের রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে আত্মপ্রচারণার কৌশল। সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
এখানে আমি তারেক রহমানকে বলতে চাই, ব্যক্তিগতভাবে আমি আপনার এবং বিএনপি’র একজন একনিষ্ঠ শুভাকাঙ্ক্ষী।
ছাত্রজীবনে জাসাস উপজেলা শাখার আহবায়ক ছিলাম বলে পতিত স্বৈরাচার আমাকে চাকরি চ্যুত করেছে। হাসিনা সরকার আমলে ঝুঁকি নিয়ে আমি বিএনপি এবং আপনাকে নিয়ে আর্টিকেল লিখেছি। অবর্ণনীয় বঞ্চনার শিকার হয়েছি। তবু নিজের সত্তা বিসর্জন দেইনি।
পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে আপনার প্রতিটি কথা, আচরণ এবং চিন্তার যে বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখছি। এতে করে আমি দারুণভাবে আশান্বিত। বিপদসংকুল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েও সেখানে গুণগত পরিবর্তন আনতে আপনার প্রাণপণ চেষ্টাকে আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আপনার চারপাশে কিছু বিতর্কিত মুখ ইতোমধ্যেই ভেসে উঠছে। আপনি সহসা তাদের সঙ্ঘবদ্ধ বলয় থেকে বেরোতে না পারলে তারা আপনাকে কিছুতেই সফল হতে দেবে না।
সুতরাং এই দুষ্টু চক্র আপনাকে ভাঙতেই হবে। সফল আপনাকে হতেই হবে।
কারণ, আপনার সফলতা মানে বাংলাদেশের সফলতা। ১৮ কোটি মানুষের সফলতা।
প্রসঙ্গে ফেরে যাক, চোরাই মোবাইল ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবি হলো—পুরোনো মোবাইল আমদানির সুযোগ দিতে হবে এবং এনইআইআর স্থগিত করতে হবে। অথচ বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে পুরোনো ব্যবহৃত মোবাইল আমদানির কোনো বৈধ সুযোগ নেই। কারণ এটি সরাসরি ভোক্তা প্রতারণা ও জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকির সঙ্গে জড়িত।
এনইআইআর কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয় বরং এটি পুরো জাতির জন্য আশীর্বাদ। প্রতিটি মোবাইল ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা, প্রতিটি করদাতার স্বার্থ এবং রাষ্ট্রের রাজস্ব সুরক্ষার জন্য এটি অপরিহার্য বলে আমি মনে করি। সুতরাং এনইআইআর বা এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মানে কার্যত অবৈধ ব্যবসা ও প্রতারণার পক্ষে দাঁড়ানো।
এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। এত বড় জাতীয় ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যু হলেও অবৈধ চোরাই মোবাইল আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে যে মাত্রার আলোচনা ও অনুসন্ধান হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তার অনেকটাই অনুপস্থিত। অধিকাংশ মিডিয়া এই ক্ষেত্রে যেন নীরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের করা অসংখ্য ভিডিও ও ক্ষোভের প্রকাশ সেই নীরবতার বিপরীতে একটি হতাশাজনক চিত্রই তুলে ধরে।
এই প্রেক্ষাপটে আমি ব্যক্তিগতভাবে এনইআইআর বাস্তবায়ন নিয়ে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, এনবিআর ও বিটিআরসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আর্টিকেল লিখেছি। আমার চ্যানেলে একাধিক ভিডিও করেছি। এবং একজন সাংবাদিক হিসেবে সরকারকে এই উদ্যোগের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছি। কারণ আমার সাংবাদিকতার মূল নীতি একটাই—সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলা।
এখানে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের দেড় মাসের মধ্যেই, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে, আমি প্রথম সমালোচনামূলক আর্টিকেল লিখেছিলাম। সেই লেখার শিরোনাম ছিল—“ডক্টর মোহাম্মদ ইউনূস, বাতাসে কান পাতুন: বৈষম্যের ঝড়ো হাওয়া বইছে।” সেখানে আমি বড়জোর এক বছরের মধ্যে একটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছিলাম।
অর্থাৎ কাউকে খুশি করা বা না করা নয় বরং সময়ের বাস্তবতা ও জনস্বার্থই আমার লেখার একমাত্র মানদণ্ড।
দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখাই আমার সাংবাদিকতা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতার লক্ষ্য কখনোই ব্যক্তি স্বার্থ হওয়া উচিত নয়। আমি কারও অনুগ্রহ বা আমন্ত্রণ পাবার আশায় লিখি না বরং মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য সত্য বলার চেষ্টা করি।
জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমার এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।
সুতরাং নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন একটি ঘটনা বিএনপির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আমি মনে করি। জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা বুঝতে পারে যে, কে জাতীয় স্বার্থে কথা বলছে। আর কে অবৈধ স্বার্থ রক্ষায় নীরব সমর্থন দিচ্ছে। যদি বিএনপি এই বিষয়ে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন অবস্থান না নেয়। তবে বিরোধীরা সহজেই দলটিকে “চোরাই ব্যবসায়ীদের আশ্রয়দাতা” হিসেবে চিত্রিত করতে পারে। যা নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শেষ কথা:
মোবাইল চোরাকারবারিদের আন্দোলন প্রকৃতপক্ষে ব্যবসা বাঁচানোর লড়াই নয় বরং এটি অবৈধ মুনাফা ও প্রতারণার ধারাবাহিকতা রক্ষার অপচেষ্টা। এনইআইআর বাস্তবায়ন মানেই এই অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান। তাই এখানে কোনো আপসের সুযোগ নেই।
অবৈধ চোরাই ব্যবসায়ীদের দাবির সঙ্গে যে কোনো ধরনের আপস বিএনপি’র জন্য একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে। সুতরাং এ বিষয়ে দেশ ও জনগণের কাছে বিএনপির অবস্থান এখনই স্পষ্ট করা জরুরী বলে আমি মনে করি।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ঢাকা।
ahabibhme@gmail.com