আজ রবিবার, ১লা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
আজ রবিবার, ১লা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

অপারেশন ‘ফতে খাইবার’ ‘লায়ন্স রোয়ার’ ‘এপিক ফিওরি’

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানের নাম দিয়েছেন ‘অপারেশন লায়নস রোর’ (Operation Lion’s Roar)। একই সাথে মার্কিন পেন্টাগন এই অভিযানকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সাথে ইরান পাল্টা রিটালিয়েশন হিসেবে অপারেশন শুরু করেছে যার নাম ‘ফতে খাইবার’। একদিনে তিন বিশ্ব শক্তিধর দেশের তিনটি অপারেশন শুরু করেছে। যা মধ্যপ্রাচ্য সহ সারা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। সেই সাথে বেড়ে যাবে দ্রব্যমূল্যের দাম।

 

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ আমেরিকা ও ইসরায়েল তেহরান সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সামরিক হামলা চালায়। প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইরানের নেতৃত্ব কে মেরে ফেলা। ইরানে ইন্টারনেট কমপ্লিট শাটডাউনের কারণে ভিতরের কোন খবরাখবর আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আসছে না। তবে জানা গেছে একটি স্কুলের ৬০ জনের অধিক শিক্ষার্থী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম  এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন ইরানি জনগণ বর্তমান রিজিমকে বিতাড়িত করে যাতে তারা ক্ষমতায় আসীন হয়। ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে মিজাইল হামলা চালায়। সেই সাথে ইসরাইলেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখে। ইরাক লিবিয়ার মত আমেরিকা কি পারবে এখানে সফল হতে। আমি মনে করি অনেকটা দূরহ। ইরান ইতিমধ্যে ৬০% ইউরিনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। তা খুব অল্প সময়ে ওয়েপন গ্রেড ৯০% পার্সেন্ট করতে পারবে। যা দিয়ে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে পারবে। যুদ্ধের এই কাভার নিয়ে হয়তো ইরান এই সুযোগটা নিয়ে নিবে।

 

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহ, হুতি এবং ইরাকি রেজিস্ট্যান্স গ্রুপ ইরানকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে যুদ্ধটা আমেরিকা সহজে জয় করতে পারবে না। তবে হারার সম্ভাবনাই বেশি। ভিয়েতনাম অথবা আফগানিস্তানের মত পরাজয় বরণ করতে হবে। সময়ই বলে দিবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যেমন পাগল টাইপ হয়তোবা কয়েকদিন অপারেশন চালিয়ে রণে ভঙ্গ দিবে। নেপথ্যে রাশিয়া এবং চীন ইরানকে সামরিক ও তথ্য সহায়তা দিচ্ছে। বাহ্যত ইরানকে মনে হচ্ছে তারা পুরোপুরি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বিভিন্ন কনটিনজেন্সি প্ল্যান নিয়ে। তবে এর একটি কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজন। মন চাইলো একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের উপর আক্রমণ করা মোটেই কাম্য নয়।-লেখক: নিরাপত্তা বিশ্লেষক,ঢাকা।

 

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin