বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বহু পরিবর্তনের ও ঝোড়ো হাওয়ার সাক্ষী। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভূতপূর্ব ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী ভূরাজনৈতিক গতিপথ দেশের রাজনীতিকে যে মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে, তা এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর একচ্ছত্র শাসনক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার পতন এবং ভারতে তাঁর আশ্রয় গ্রহণ ছিল এই নাটকের প্রথম অধ্যায়। কিন্তু সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল-এর নির্বাহী সম্পাদক অমল সরকারকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার বক্তব্য এবং দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর দেওয়া ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনীতি, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতিতে এক চরম বিস্ময় ও নতুন মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—চার দশকেরও বেশি সময় ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী ‘শেখ হাসিনা অধ্যায়’-এর কি সত্যিই অবসান ঘটতে চলেছে, নাকি এর অন্তরালে লুকিয়ে আছে দিল্লির সুদূরপ্রসারী কোনো ভূরাজনৈতিক চাল?
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ঐতিহ্যগতভাবেই আওয়ামী লীগকে একটি ‘গণতান্ত্রিক দল’ হিসেবে দাবি করেছেন। তবে এটি কেবল সাড়ে চার দশকের পুরোনো এক রাজনৈতিক বচন ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ নির্মম বাস্তবতা হলো,বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেই দলীয় গণতন্ত্রের চর্চা অত্যন্ত সীমিত, আর আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে তা ছিল শতভাগ ব্যক্তিকেন্দ্রিক। সাড়ে চার দশক ধরে শেখ হাসিনা যা ভেবেছেন, যা বলেছেন, তা-ই ছিল দলের শেষ কথা। দলীয় প্রেসিডিয়াম, কার্যনির্বাহী সংসদ বা কাউন্সিল—সবই ছিল কেবল আইনি আনুষ্ঠানিকতা ও লোকদেখানো প্রক্রিয়া।
দ্য ওয়াল-এর সাক্ষাৎকারে যখন তিনি ঘোষণা করেন যে, তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাঁর বোন শেখ রেহানা রাজনীতিতে আসছেন না, তখন আরও একবার স্পষ্ট হলো কীভাবে একটি রাজনৈতিক দলকে নিজের পারিবারিক সম্পত্তি হিসেবে পরিচালনা করা হয়েছে।
এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে—আওয়ামী লীগের কোনো প্রেসিডিয়াম বৈঠক কিংবা কাউন্সিল কি এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছে? গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলীয় প্রধান একা কোনো উত্তরসূরি বা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোনীত করতে পারেন কি? আওয়ামী লীগ কোনো রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বা বংশানুক্রমিক সংগঠন নয় যে, নেত্রীর ইচ্ছে হলেই একজনকে ক্ষমতার মসনদে বসিয়ে দেওয়া যাবে। যদিও বাস্তবতা হলো—শেখ হাসিনার ইশারাতেই আওয়ামী লীগ চলেছে। এই চরম সিদ্ধান্তটি আরও একবার প্রমাণ করে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও দলের নিয়মকানুনকে পাশ কাটিয়ে কীভাবে ‘আমি এবং আমিত্ব’-এর রাজনীতি চালানো হয়েছে।
এমনকি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের বড় একটি অংশ হাসিনার এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাঁদের মতে, শেখ সেলিমের বাসভবনে আয়োজিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকের তথ্য নিমেষেই বাইরে চলে যায়, যা দলের গোপনীয়তা ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী। তদুপরি, শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, তাঁর পরিবার ও আত্মীয়তার জাল বিস্তৃত রয়েছে বিদ্যমান ক্ষমতার বিভিন্ন বলয়ে। তাঁর বড় ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম বিয়ে করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বোনকে। ছোট ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম বর্তমান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মেয়ে সারাহ হাসিন মাহমুদকে বিয়ে করেছেন। এমন একজন বিতর্কিত ও রহস্যময় ব্যক্তিত্বকে দলের দায়িত্ব সঁপে দেওয়া আওয়ামী লীগের চরম সাংগঠনিক সংকটকেই উন্মোচিত করে বলে মনে করছেন সিনিয়র নেতারা।
সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার একের পর এক বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি এখনো সেই পুরনো ভ্রান্তি ও কল্পনার পৃথিবী থেকে বের হতে পারেননি। ৫ আগস্টের দিল্লি সংবাদ সম্মেলন এবং পরবর্তীতে দ্য ওয়াল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি যথারীতি সেই একই পুরনো জপমালা আউড়েছেন—উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, ‘আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে’, এবং ‘আমার বাবাই দেশ স্বাধীন করেছে’।
আমি মনে করি,এই ‘আমি এবং আমিত্ব’-এর বন্দিদশা এবং অতীত আঁকড়ে ধরে রাখার মানসিকতাই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার সবচেয়ে বড় অভাবের জ্বলন্ত প্রমাণ। একজন রাষ্ট্রনায়ক বা রাজনৈতিক নেতার প্রধান গুণ হলো পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতের দিকে তাকানো। কিন্তু তিনি এখনো সাড়ে ১৫ বছরের পুরোনো প্রোপাগান্ডা দিয়ে আজকের তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছেন, যা সাধারণ মানুষ বহু আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে।
এখানে আরেকটি গুরুতর প্রশ্ন উঠে আসে—শেখ হাসিনা কি শারীরিকভাবে সক্ষম আছেন? গত ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে দিল্লিতে আয়োজিত বহুল আলোচিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার সরাসরি সশরীরে উপস্থিত থাকার কথা চাউড় করেছিলেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সশরীরে তো দূরের কথা, কোনো ভিডিও বার্তা পর্যন্ত দিতে পারেননি; পাঠ করা হয় একটি অডিও বার্তা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, তিনি সরাসরি উপস্থিত নেই দেখে মুহূর্তের মধ্যে অনলাইনে যুক্ত থাকা প্রায় অর্ধলক্ষ আন্তর্জাতিক ও দেশীয় রাজনৈতিক অনুসারী ও দর্শনার্থী লাইভ স্ট্রিম ত্যাগ করেন। ৫ আগস্টের মতো একটি চরম সংবেদনশীল মুহূর্তে, যখন পুরো বিশ্ব তাঁর বার্তার দিকে তাকিয়ে ছিল, তখন সশরীরে বা ভিডিওতে না আসার পেছনে নিশ্চয়ই তাঁর গুরুতর শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতা বা অসুস্থতা কাজ করছে। এমন জল্পনা ও গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে এখনো বিদ্যমান। সুতরাং প্রাসঙ্গিকভাবেই এখানে প্রশ্ন ওঠে যে, তিনি যদি সশরীরে বা ভিডিওতে উপস্থিত হতে না-ই পারেন, তবে এই রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলো কার বুদ্ধিতে এবং কার স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে?
হাসিনার এই সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট হলো,সাক্ষাৎকারে হাসিনা একদিকে দাবি করেছেন তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, আবার পরক্ষণেই তিনি উল্টো সুর গেয়ে বলেছেন, “আমি ফিরলে এয়ারপোর্টেও আমাকে হত্যা করতে পারে… প্রত্যেকের জীবনের ঝুঁকি আছে। আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজেই নিজের দেশে না ফেরার সিদ্ধান্ত পরিষ্কার করে দিয়েছেন। এর আগেও বহুবার একাধিক আর্টিকেলে আমি বলেছিলাম যে, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেশবাসীকে দেওয়া একটি মনস্তাত্ত্বিক ধোঁকা মাত্র।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি যখন নিজের নিরাপত্তা ও বিমানবন্দরে হত্যার আশঙ্কার কথা বলেন, তখন কার্যত তা রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী অনুপস্থিতিরই আগাম স্বীকারোক্তি। এতে আমার ন্যূনতম সন্দেহ নেই।
সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হলো, শেখ হাসিনা তাঁর অনুপস্থিতিতে যাকে বেছে নিয়েছেন সেই শেখ সেলিম নিজেও তো ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে পলাতক ও আত্মগোপনে আছেন! সুতরাং সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো,একজন পলাতক ও দৃশ্যপট থেকে গায়েব হয়ে যাওয়া নেতা কীভাবে মাঠে থেকে একটি ধ্বংসপ্রায় রাজনৈতিক দলকে পুনর্গঠন করবেন? আমি মনে করি,এটি এক চরম রূপকথা ও অবাস্তব কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
এখানে আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে,শেখ হাসিনার এই আকস্মিক বক্তব্য এবং রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিতের পেছনে সবচেয়ে অনুঘটক ভূমিকা পালন করছে সাউথ ব্লক তথা দিল্লির নতুন ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ।
বিশ্বের ব্যাপার হল,দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে অন্ধ সমর্থন দিয়ে আসা শেখ হাসিনা এই সাক্ষাৎকারে উল্টো ভারতের ভূমিকা নিয়েই ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি প্রশ্ন করেছেন, ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে ভারত কেন সমর্থন করল? কিংবা তারেক রহমানকে ভারত কেন দেশে ফিরতে দিল? এমনকি বিএনপি নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে তিনি ‘দরকষাকষি’ ও ‘দেশকে খাটো করা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শেখ হাসিনার এই হতাশা ও ক্ষোভ আসলে একটি বিষয়কেই স্পষ্ট করে—দিল্লি এখন শেখ হাসিনাকে একটি ‘রাজনৈতিক বোঝা’ (Political Liability) হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনীতিতে ভারত এখন দারুণ বাস্তববাদী। ভারতের সাড়ে দেড়শো কোটি মানুষের জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখতে তাদের ঢাকার সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করা অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন বাংলাদেশ সরকারের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও জোরদার করতে দিল্লি এখন মরিয়া। কিন্তু এই দুই দেশের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের পথে সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন শেখ হাসিনা এবং ভারতে বসে তাঁর একের পর এক রাজনৈতিক উসকানিমূলক মন্তব্য বিশেষ করে বিভিন্ন অডিও বার্তা এবং সাক্ষাৎকার।
ফলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে সাউথ ব্লক শেখ হাসিনাকে কৌশলগতভাবে রাজনৈতিক তৎপরতা থেকে নিষ্ক্রিয় করার নীতি গ্রহণ করেছে বলেই মনে হচ্ছে। এই ‘প্রেসক্রিপশন’ বা নির্দেশনার অংশ হিসেবেই হয়তো হাসিনাকে বলা হয়েছে—আপাতত নেতৃত্ব হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সরে দাঁড়ান।
ভারত খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে, অতীত আঁকড়ে ধরে হাসিনাকে তোষণ করতে গেলে বাংলাদেশের আপামর জনগোষ্ঠীর সাথে শত্রুতা চিরস্থায়ী হবে এবং ভূরাজনৈতিকভাবে চীন বা অন্যান্য পরাশক্তির সুবিধা হবে। নিজেদের ভূরাজনৈতিক ও ভূকৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করতেই ভারত আজ হাসিনাকে দূরে ঠেলে দিয়ে নতুন কূটনৈতিক বন্দোবস্তের দিকে পা বাড়াচ্ছে।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,শেখ হাসিনা অধ্যায়ের অবসান ঘটে থাকলেও দল হিসেবে আওয়ামী লীগের টিকে থাকা বা পুনরুত্থানের পথ এত সহজ নয়। গত দেড় দশকে এবং বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সংঘটিত গণহত্যা, চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন, মৌলিক অধিকার হরণ,দিনের ভোট রাতে করা, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, ব্যাংকিং খাত ধ্বংস এবং গুম-খুনের যে ইতিহাস রচিত হয়েছে, তা বাংলাদেশের মানুষ কোনোদিন ভুলবে না।
সুতরাং নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে,শেখ সেলিম বা অন্য কাউকে প্রধান বানিয়ে কেবল কিছু পুরনো বয়ান দিয়ে আওয়ামী লীগ আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হতে পারবে না। একথা আমি এর আগেও বহুবার বলেছি। দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে যদি কোনো দিন সাধারণ মানুষের কাছে ফিরতে হয়, তবে সর্বপ্রথমে তাদের যা করতে হবে তা হলো:
১. বিগত সাড়ে ১৫ বছরের সর্বগ্রাসী শাসন এবং জুলাই গণহত্যার জন্য দেশবাসীর কাছে প্রকাশ্যে, আনুষ্ঠানিকভাবে বিনা শর্তে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
২. শেখ হাসিনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সকল আসামিকে আদালতের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা।
৩. ফ্যাসিবাদের দোসর ও দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্বকে পুরোপুরি বর্জন করে নতুন ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বের হাতে দল গঠন করা।
কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা হলো, আওয়ামী লীগ এখনও সেই অপরাধবোধ ও অনুশোচনার মানসিকতা থেকে বহু দূরে। শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আড়ালে পাঠিয়ে কিংবা ভূরাজনৈতিক নতুন সমীকরণের অজুহাত দেখিয়ে আওয়ামী লীগ যদি মনে করে তারা কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ফিরে আসবে, তবে তা হবে তাদের সবচেয়ে বড় এবং চূড়ান্ত ভুল। বাংলাদেশের আপামর ছাত্র-জনতা ও সচেতন নাগরিক সমাজ এই পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত আর কখনোই মেনে নেবে না। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব এবং আত্মকেন্দ্রিকতা কেবল তাঁকেই নিঃশেষ করেনি, দেশের অন্যতম প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলটিকেও এক গভীর খাদে ফেলে দিয়েছে—যেখান থেকে উদ্ধার পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত তবে অসম্ভব নয়। এজন্য আওয়ামী লীগকে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে সামনে তাকানোই একমাত্র পথ।
লেখক:সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।
ই-মেইল:ahabibhme@gmail.com