ইরানি সেনাবাহিনী মার্কিন বাহিনীর উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিয়েছে: “আরও কাছে আসো।”
“বছরের পর বছর আমরা অপেক্ষা করছি আমেরিকানরা নির্ধারিত অবস্থানগুলোতে পৌঁছাবে। এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আমরা এই মুহূর্তের জন্য অসমমিত যুদ্ধ কৌশল নিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এখন আমেরিকান সৈন্যদের জন্য আমাদের একটাই বার্তা: আরও কাছে আসো।”
মার্কিন ৮২ এবং ১০১ এয়ারবোর্ন ডিভিশন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ৬ জুন ১৯৪৪ নরমান্ডি ল্যান্ডিং বা অপারেশন ডি ডেতে অবতরণ করে শত্রুর কমিউনিকেশন জোনে আঘাত করে বাকি ফোর্স এর অবতরণ নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে ফ্রান্স মুক্ত করা সহজ হয়ে যায় মিত্রবাহিনীর। কিন্তু বর্তমানে ইরানে এরকম ছত্রী বাহিনীর কার্যকারিতা সেই সময়ের মত হবে না। শুধু শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় ভীতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
ইরান একটি বৃহৎ পরিসরের স্থলযুদ্ধের সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে—এমন রিপোর্টে বলা হচ্ছে যে নিয়মিত বাহিনী, রিজার্ভ এবং মিত্র ইউনিট মিলিয়ে এক মিলিয়নেরও বেশি যোদ্ধা মোতায়েন করা হয়েছে। এটি সীমিত সংঘর্ষ থেকে সরে এসে একটি বিস্তৃত যুদ্ধ প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। এত বড় মাত্রার মোতায়েন দেখায় যে তারা স্বল্পমেয়াদি অভিযান নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থলবাহিনী, অনিয়মিত ইউনিট এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কৌশলকে এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য কোনো আগ্রাসন প্রতিহত করা যায়।
এই কৌশলটি একটি স্তরভিত্তিক প্রতিরক্ষা (Layered Defense) নির্দেশ করে—যেখানে ভৌগোলিক সুবিধা, জনশক্তি এবং বিকেন্দ্রীকৃত কমান্ড ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের প্রযুক্তিগত সুবিধাকে মোকাবিলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাছাড়া এই যুদ্ধ চীন ও রাশিয়ার জন্য অনেকটা অর্থনৈতিক অস্তিত্বের লড়াই। তারা কোনভাবেই চাবেনা ইরান ব্যর্থ হোক। সেই সাথে আমেরিকাকে অনেকদিন যুদ্ধে লিপ্ত রেখে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল সহ এক কেন্দ্রিক বিশ্ব শাসনকে খর্ব করা।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানির মতো আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি তাদের চিন্তার কারণ করে তুলছে। কারণ, একটি স্থলযুদ্ধ শুরু হলে সংঘাত অনেক বেশি জটিল ও ব্যয়বহুল পর্যায়ে পৌঁছাবে, যার প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরান হয়তো আগ্রাসী মনোভাব প্রকাশ করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন দখল করে ফেলতে পারে। যা দিয়ে পরবর্তীতে বার্গেনিং ইন্সট্রুমেন্ট হিসাবে ব্যবহার করতে পারে।
ইরানের শক্তি ইতিমধ্যেই পরীক্ষা হয়েছে ইরান-ইরাক যুদ্ধ (১৯৮০–১৯৮৮)-এর সময়। সেই সময় প্রায় সব আরব দেশ ইরাককে সমর্থন করেছিল, এমনকি আমেরিকা ও ইউরোপও বিভিন্নভাবে Saddam Hussein-কে সাহায্য করেছিল ইরানের বিরুদ্ধে। তখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি খুব উন্নত ছিল না, কিন্তু এখন তাদের অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি অনেক উন্নত হয়েছে। তাই এখন পরিস্থিতি অনেক ভিন্ন—এটি একটি কঠিন ও বড় ধরনের সংঘাত হতে পারে।
ইরানিরা অন্তত তাদের দেশকে বীরত্বের সাথে (Righteous of Cause) রক্ষা করবে।
আমেরিকান সৈন্যরা জানে না কেন তারা যুদ্ধ করছে এবং তারা কোনো কারণ ছাড়াই মারা যাবে—শুধু তাদের “অসুস্থ/বিভ্রান্ত” প্রেসিডেন্টের জন্য। যে কিনা সকালবেলা এক বয়ান দেয় এবং বিকেল বেলা আর এক বয়ান।
শেষ কথা পরিস্থিতি যাই হোক সবাইকে শান্ত হতে হবে। সব জায়গায় উইন উইন পরিস্থিতিতে চললে সমাধান হবে না। যুদ্ধটা যত বিলম্বিত হবে বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে। হতে পারে দুর্ভিক্ষ। গরিব দেশগুলো পরবে মহা বিপদে-লেখক: নিরাপত্তা বিশ্লেষক,ঢাকা।