আজ বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আজ বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

জাসাসের সভাপতি হতে লবিং করছেন মনির খান!

দেশের জনপ্রিয় গায়ক মনির খান জাসাসের সভাপতি হতে লবিং করছেন। সূত্রমতে মঙ্গলবার সন্ধায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান তিনি। দেখা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর সঙ্গে। এর পরপরই আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে তাকে নিয়ে। কেউ বলছেন তার ভূমিকা বিতর্কিত। আবার কেউ বলছেন, জাসাসের সভাপতি হওয়ার জন্য তিনি সবচেয়ে উপযুক্ত।

এদিকে একটি ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। ‘ওরে তোর শরীরে মীরজাফরের রক্ত। তোর পিতা মাতা সীমারেরও ভক্ত। রাজাকারের মতো যে তুই করলে বেঈমানী।বাংলাদেশে জন্ম যে তোর স্বভাব পাকিস্তানী’। ‘তারেকের বিরুদ্ধে গানে গানে মনির খানের ক্ষোভ’ শিরোনামে ভিডিওটি ৪ বছর পূর্বে ইউটিউবে আপলোড করা হয়।

প্রায় ১ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি কয়েক লক্ষবার দেখা হয়েছে। স্টুডিও এবং আউটডোরে ধারণকৃত সম্পূর্ণ গানজুড়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চরিত্র হনন এবং চরম ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে। ভিডিওর চিত্রায়ন অত্যন্ত অরুচিকর। তারেক-খালেদা ও জিয়ার সঙ্গে রাজাকারের বিকৃত প্রতিকী ছবির ব্যবহার করা হয়েছে। যা অসভ্য-অবর্ণনীয়।

তবে এই ভিডিওটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন মনির খান। এ ব্যাপারে তার বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি আমার দিনকে বলেন,‘এটাতো ৪-৫ বছর আগের বিষয়। অঞ্জনাকে নিয়ে গাওয়া একটি গানের ওপর ইউটিউবাররা ভিডিওটি বানিয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক’ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভিডিওটি সড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেবেন কি না প্রশ্নে তিনি বলেন,‘ অবশ্যই নেব’।

জানা যায়, রাতের ভোটের নির্বাচন খ্যাত ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়ার কারণে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক থাকাবস্থায় ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন মনির খান ।
এর আগে তিনি দলের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস’র সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
জাসাস পুনর্গঠনের বিষয়ে বিএনপির সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বলের মতামত জানতে একাধিকবার ফোন করে এবং খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার সাড়া মেলেনি।

জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) বিএনপির অন্যতম একটি সহযোগী সংগঠন হলেও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে এবং গ্রæপিং-লবিংয়ের কারণেএটি দলের জন্য যথাযথ ও কার্যকর অবদান রাখতে পারছে না বলে মনে করেন অনেকে। এ ব্যাপারে বিএনপির শীর্ষ মহলকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য অনুরোধ করেছেন জাসাসের সক্রিয় নেতা-কর্মীরা।

উল্লেখ্য ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদকে সভাপতি ও চলচ্চিত্র অভিনেতা হেলাল খানকে সাধারণ সম্পাদক করে জাসাসের ৩০ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাস আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর।

তারও আগে ২০১০ সালে জাসাস’র ৩৪৫ সদস্যের নতুন কমিটি অনুমোদন করে বিএনপি। ওই কমিটির সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক হন কণ্ঠশিল্পী মনির খান। সিনিয়র সহসভাপতি হন চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল।
জাসাসের সর্বশেষ কমিটি হয়েছিলো ২০০০ সালের ৩ জানুয়ারি। ওই কমিটিতে এম এ মালেক ছিলেন সিনিয়র সহসভাপতি। ২০০৮ সালে সংগঠনের সভাপতি ওয়াসিমুল বারী রাজিবের মৃত্যুর পর এম এ মালেক সভাপতির ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন।

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin