টানা চার মেয়াদ ধরে ক্ষমতা ধরে রাখা আওয়ামী লীগ সরকারের গণঅভ্যুত্থানে পতনের পর নয়াপল্টনে গতকাল সমাবেশ করেছে বিএনপি। সমাবেশে ভিডিও বার্তায় দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, প্রতিশোধ নয়, শান্তি চাই। আসুন আমরা ভালোবাসা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলি। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর মাইকে ঘোষণা করা হয় এখন ভিডিও বার্তায় বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মী চোখে-মুখে ভেসে ওঠে আনন্দ ও উল্লাস। প্রিয় নেত্রীর নামে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে নয়াপল্টন এলাকা। তাদের প্রিয় নেত্রীর বক্তব্য শুরু হলেই পুরো এলাকায় পিনপতন নীরবতা নামে। বেগম খালেদা জিয়ার দুই মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন বিএনপি’র নেতাকর্মীসহ উপস্থিত জনসাধারণ। দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য রাখলেন। জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শান্তি-প্রগতি আর সাম্যের ভিত্তিতে আধুনিক বাংলাদেশ নির্মাণে আসুন আমরা তরুণদের হাত শক্তিশালী করি।বেলা ২টা ৩৮ মিনিটে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্যদিয়ে সমাবেশ শুরু হয়।
কোরআন তিলাওয়াতের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। খালেদা জিয়া বলেন, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আপনাদের সামনে কথা বলতে পারার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমার কারাবন্দি অবস্থায়, আপনারা আমার কারামুক্তির জন্য সংগ্রাম ও রোগমুক্তির জন্য দোয়া করেছেন। সেজন্য আমি আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদী অবৈধ সরকারের কাছ থেকে মুক্তি পেয়েছি। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই, আমাদের বীর সন্তানদের। যারা মরণপণ সংগ্রামের মধ্যদিয়ে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। শত শত শহীদদের জানাই শ্রদ্ধা। এই বিজয় আমাদের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিনের নজিরবিহীন দুর্নীতি, গণতন্ত্রের ধ্বংস স্তূপের মধ্য থেকে আমাদের নির্মাণ করতে হবে এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। ছাত্র-তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তরুণরা যে স্বপ্ন নিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে মেধা, যোগ্যতা ও জ্ঞানভিত্তিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায় বিচার ও সাম্যের ভিত্তিতে নির্মাণ করতে হবে শোষণহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
এদিকে সমাবেশকে ঘিরে সকাল ১১টা থেকে নয়াপল্টন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীরা আসেন। বিভিন্ন জেলা থেকেও আসেন নেতাকর্মীরা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নয়াপল্টন এলাকায় নেতাকর্মীদের ঢল নামে।