ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। সূত্রমতে, ভারতীয় হাইকমিশনের মিনিস্টার (কনস্যুলার অ্যান্ড এডুকেশন) রাজেশ কুমার অগ্নিহোত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে বুধবার দুপুরে তার বারিধারাস্থ বাসভবনে যান জাপা চেয়ারম্যান। এর আগেও তিনি বেশ কয়েকবার রাজেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়াও মি. কাদের গত ১৮ নভেম্বর ভারতীয় দূতাবাসের ডেপুটি হাই কমিশনার ড. বিনয় জর্জ’র সঙ্গে তার বারিধারাস্থ বাসভবনে দীর্ঘ বৈঠকে মিলিত হন। গত ২২ নভেম্বর দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে সঙ্গে নিয়ে রাজেশ কুমার অগ্নিহোত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন জাপা চেয়ারম্যান। অন্যদিকে রওশন এরশাদ, এবিএম রুহল আমীন হাওলাদার ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করছেন বলে নিশ্চিত করেছে ওই কূটনৈতিক সূত্র। জাপা নেতারা ছাড়াও আ.লীগের সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে মন্ত্রী,এমপি এবং অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। সূত্রের দাবি অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা কোনো দ্বিধা ছাড়াই ১৪ এবং ১৮ সালের চেয়েও আরো জুড়ালো ভূমিকা পালন করছেন। কার্যত দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কারণেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জাপা। যেমনটি ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে দলটির প্রয়াত চেয়ারম্যান এরশাদকে বাধ্য করেছিলেন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং। তবে সে সময় এরশাদ গণমাধ্যমে ফাস করে দেন সুজাতার ওই বৈঠকের খবর। বলেন,‘সুজাতা আমাকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে বলেছেন। তা না হলে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় চলে আসবে’। এরশাদের এমন সাহসী ভুমিকা এবং নির্বাচনে ভারতের নগ্ন হস্তক্ষেপের বিষয়টি তখন টক অব দা কান্ট্রিতে পরিণত হয়। কিন্তু বর্তমান নেতৃত্বের বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে গৃহ পালিত বিরোধী দল খ্যাত জাতীয় পার্টি। এক সময় দেশের তৃতীয় বৃহত্তম দলটির জনসমর্থন এখন খুবই সামান্য এবং তা ক্রমশ নিম্ন মুখী। চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন এবং জামায়াত ইসলামের থেকেও পিছিয়ে পড়েছে তারা। কখনো সরকারের আজ্ঞাবহ ভূমিকা কখনো কঠোর সমালোচনা এবং ভারত নির্ভরতা দলটির বর্তমান অবস্থার জন্য বহুলাংশে দায়ী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অনেকে এটিকে আর রাজনৈতিক দল না বলে ক্ষমতাশ্রয়ী রাজনৈতিক ক্লাব বলে রসিকতা করেন। বিশেষ করে দলের সংকটময় মূহুর্তে গত কয়েক সপ্তহ ধরে জি.এম কাদেরের নির্লিপ্ততা রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে। বিস্তার ঘটছে নানা জল্পনা-কল্পনার। সরকারের কঠোর সমালোচনা করে আলোচিত এরশাদের অনুজ এই চেয়ারম্যান গোয়েন্দাদের বিছানো হানি ট্র্যাপে আটকে গেছেন বলেও চলছে জোর ণ্ডঞ্জন। বিশেষ করে নির্বাচনে অংশ নিয়েও স্বস্তিতে নেই জাতীয় পার্টি। কারণ, দলটির নেতাদের বড় একটি অংশ নির্বাচনে জয়ের নিশ্চয়তা চান। সে জন্য তাঁরা নৌকা প্রতীকও চান। জাপার নেতারা বলছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একদিকে দলীয় মনোনীত প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে প্রায় সব আসনে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রেখে নির্বাচনের মাঠ জটিল করে দিয়েছে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের নামে-বেনামে থাকা প্রার্থীদের সরিয়ে না নিলে জাপার নির্বাচনে জেতার সুযোগ কম। তাই জাপার অধিকাংশ নেতাই ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হওয়ার ঝুঁকি নিতে রাজি নন।
এ ক্ষেত্রে দলের বর্তমান সংসদ সদস্যসহ নেতাদের বড় একটি অংশ গত দুবারের মতো এবারও সরকারের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে নির্বাচনে যেতে চান। কারণ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেও তাঁদের জেতার সম্ভাবনা নেই। তাঁরা সমঝোতার মাধ্যমে ভোট করে সহজে জিততে চান। এই অংশ এখন পর্যন্ত সরকারের দিক থেকে কোনো সমঝোতার উদ্যোগ না দেখে অস্বস্তিতে রয়েছে। এই মুহূর্তে জাপার জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে একমাত্র মহাসচিব মো. মুজিবুল হক (চুন্নু) ছাড়া প্রায় সবার আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছে। আবার সব আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীও আছেন। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে সরকার প্রধানের সুদৃষ্টি ফেরাতে মরিয়া জি.এম কাদের-চুন্নুর সাবালক জাপা।