আজ মঙ্গলবার, ৩রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আজ মঙ্গলবার, ৩রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

আওয়ামী লীগ,বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে শর্তহীন সংলাপের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের:ডনাল্ড লু’র চিঠি

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শর্তহীন সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির উদ্দেশ্যে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডনাল্ড লু। ওই চিঠি গতকাল বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কাছে চিঠি পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাতে না পৌঁছালে আজ আওয়ামী লীগের হাতেও ডনাল্ড লু’র চিঠি পৌঁছে যাবে বলে সূত্র জানিয়েছে। সোমবার বিকালে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র স্টিফেন ইবেলির পাঠানো জরুরি বার্তায় বলা হয়, আসন্ন নির্বাচন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করতে দেশের প্রধান ৩ রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস্‌। দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বাংলাদেশে একটি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়। তারা সব পক্ষকে সহিংসতা পরিহার এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায়। যুক্তরাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক দলের বিপরীতে অন্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না জানিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বিবদমান সব পক্ষকে শর্তহীন সংলাপে বসার আহ্বান জানায়। সেই সঙ্গে দূতাবাসের বার্তায় এটাও স্মরণ করানো হয় যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যারা গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ন্ন করবে তাদের বিরুদ্ধে পূর্বঘোষিত মার্কিন ভিসানীতি কার্যকর হবে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডনাল্ড লু’র চিঠি ও নতুন করে সংলাপ আহ্বানকে নয়া উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের তরফে আগেও সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে নতুন উদ্যোগে চলমান অচলাবস্থার বরফ গলতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। সংলাপ আহ্বানের চিঠি নিয়ে গতকাল বিকালে জাতীয় পার্টির বনানীর কার্যালয়ে যান ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস্‌। সেখানে দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু ও কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। আধাঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠকটি চলে। পরে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ডনাল্ড লু’র চিঠি পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন। চিঠিতে শর্তহীন সংলাপের আহ্বান এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ দেয়া হয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান। ওই বৈঠকের পর বিএনপি’র পক্ষ থেকে ডনাল্ড লু’র চিঠি পাওয়ার তথ্য জানা যায়। চিঠি পাওয়ার বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। যদিও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংলাপ আহ্বানের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি বিএনপি।

আওয়ামী লীগের কাছে গতকাল রাত পর্যন্ত ডনাল্ড লু’র চিঠি পৌঁছেনি বলে দলের দপ্তর সূত্র জানায়। খুলনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশ থাকায় দলের বেশির ভাগ নেতা সোমবার সেখানে অবস্থান করেন।  সোমবার রাতে তারা ঢাকায় ফিরেছেন। আজ যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠি আওয়ামী লীগের হাতে পৌঁছাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দলগুলো সংলাপে বসলে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য রূপরেখা দেবে জাতীয় পার্টি। দলটির মহাসচিব বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. মুজিবুল হক চুন্নু এ তথ্য জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের জন্য আমরা একটা রূপরেখা তৈরি করেছি। যেহেতু এক টেবিলে বসা হয় নাই, তাই এখনো তা দেয়া হয় নাই। যদি এক টেবিলে বসা হয় তাহলে এটা দেয়া হবে।গতকাল বেলা তিনটার পর বনানীস্থ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস্‌। এরপর দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠক শেষে মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস্‌ এসেছিলেন ডনাল্ড লু’র চিঠি হস্তান্তর করার জন্য। উনি বলেছেন, একই চিঠি বাংলাদেশের তিনটি দলকেই দেয়া হয়েছে। সেই চিঠিতে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। সেখানে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়েও কথা বলেছেন। তবে ওনার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল চিঠি হস্তান্তর করা। চিঠিটা আমাদের সামনে পড়েছেন, আমরাও শুনেছি। চিঠিতে মাত্র কয়েক লাইন লেখা।

নির্বাচনের বিষয়ে চুন্নু বলেন, অবাধ নির্বাচনতো আমাদের দাবি, জনগণের দাবি। সরকারের কাছে চেয়ারম্যান বারংবার বলেছেন, অবাধ নির্বাচনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে অন্যান্য দল নির্বাচনে গেলে আমরাও চিন্তা করবো। আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক আছে মঙ্গলবার। এরপর সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে একটা সিদ্ধান্তে আসবো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের উন্নয়ন সহযোগী। কিন্তু নির্বাচন কিভাবে হবে, না হবে সেটা নিজস্ব বিষয়।

এক প্রশ্নের জবাবে চুন্নু বলেন, বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা আসবেন তাদের বক্তব্য শুনবো। এরপর হয়তো সিদ্ধান্ত নেব। দলের কে কে প্রার্থী হবেন তার একটা প্রাথমিক কাজ করে রেখেছি। দলীয় নেতাকর্মীরা কী বলেন, দ্বিতীয় নীতি নির্ধারক ফোরাম কী বলেন, আর পরিবেশটা কী? এরপরই আমরা সিদ্ধান্ত জানাবো। সম্প্রতি হওয়া নির্বাচনগুলোতে খুব বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে উল্লেখ করে জাপা মহাসচিব বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লক্ষ্মীপুরে আমরা ভাবীই নাই আমাদের পার্টি পাস করবে। সেখানেও এভাবে সিল মারার দরকার ছিল? সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ এখনো হয় নাই।

 

 

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin