আজ বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আজ বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

‘বঙ্গবন্ধুর আপসহীন নেতৃত্ব বিশ্বের ইতিহাসে বিরল’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য একটি অধ্যায়। ২৪ বছরের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসের মহাকাব্যের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বেশির ভাগ সময় কারাগারে কাটাতে হয়েছে। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও বাঙালির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠায় তার আপসহীন নেতৃত্ব বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।
শুক্রবার বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট, ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত ও পাঁচ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটা কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধুর কারামুক্তির বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালের এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের বন্দি শিবির থেকে টানা ৯ মাস কারাভোগের পর মুক্তি লাভ করেন। এরপর থেকেই দিনটি ‘বঙ্গবন্ধুর কারামুক্তি দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকহানাদার বাহিনীর গণহত্যা চলাকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরে তাকে পাকিস্তানের মিলানওয়ালি কারাগারে নির্জন কক্ষে বন্দি অবস্থায় রাখা হয়।

তিনি বলেন, ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হলেও তখনও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি। সাড়ে সাত কোটি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া স্বাধীনতার আনন্দের পূর্ণতা ছিল না। পরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ব্যাপক কূটনৈতিক চাপ এবং বিশ্ব শীর্ষ নেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

মন্ত্রী আরো বলেন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিয়ে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি খুব ভোর বেলা লাহোর বিমানবন্দর থেকে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ বিমানে উঠিয়ে বিদায়ী সংবর্ধনা দেন। বঙ্গবন্ধুর মুক্তির খবর প্রথম প্রচার করে রেডিও পাকিস্তান। এতে বলা হয়, শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিয়ে লাহোর বিমানবন্দর থেকে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তার গন্তব্যস্থল সম্পর্কে রেডিও পাকিস্তান কোনো খবর না দিয়ে অজ্ঞাত রাখে। পাকিস্তানি বন্দিশিবির থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বহুল প্রত্যাশিত মুক্তির খবর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিবিসি নিয়মিত অনুষ্ঠান স্থগিত করে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে শেখ মুজিবুর রহমানের অবতরণের খবর লাইভ প্রচার ও বিশেষ বুলেটিন প্রচার শুরু করে। বঙ্গবন্ধুকে হিথ্রো বিমানবন্দরে সংবর্ধনা জানানোর জন্য ছুটে এলেন ব্রিটেনের তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও লেবার পার্টির প্রধান হ্যারল্ড উইলসন (পরবর্তীতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী) এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তারা। বঙ্গবন্ধুর অবতরণের খবর প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে লন্ডনের রাজপথে নেমে আসে হাজার হাজার মানুষের ঢল।

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin