আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, হাজার বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আমরা কখনো স্বাধীন ছিলাম না। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যপীড়িত অমানিশার অন্ধকারে নিমজ্জিত জাতি ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সমবেত হয়। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে লক্ষ প্রাণ ও এক নদী রক্তের বিনিময়ে আমাদের মহান স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তাই স্বাধীনতার চেতনা আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। একে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে হবে।
বুধবার বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ‘চেতনায় স্বাধীনতা’ ম্যুরাল উদ্বোধনকালে আইজিপি এসব কথা বলেন।
পুলিশপ্রধান বলেন, স্বাধীনতা আমাদের অন্যতম চালিকাশক্তি। একে মূলমন্ত্র হিসেবে ধরে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
আইজিপি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নের পথে ধাবমান। সমগ্র বিশ্বকে তাক লাগিয়ে বাংলাদেশ ‘ম্যাজিক’ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান। অনলাইনে যুক্ত হয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার।
এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিরা, ডিআইজিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চেতনায় স্বাধীনতা ম্যুরালটির মূল উপজীব্য মাস্তুলসহ (জাহাজের পাল তোলার খুঁটি) একটি নৌকার প্রতিচ্ছবি যা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনার প্রতীক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের আটটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক পৃথকভাবে আটটি ফলকে প্রতিস্থাপিত হয়েছে।
নৌকার মাস্তুলের বা দিকের চারটি ফলকে ৫২, ৫৪, ৫৬ ও ৬২ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক ঘটনা এবং ডান দিকের চারটি ফলকে ৬৬, ৬৯, ৭০ ও ৭১ সালের উল্লেখযোগ্য ঘটনা পোড়া মাটির তৈরি শিল্পকর্মের নান্দনিকতায় বিধৃত (ধারণ করা) হয়েছে।
মাস্তুলের উপরিভাগের পটভূমিতে রয়েছে একটি উদীয়মান লাল সূর্য, লাল সূর্যের বুকে রয়েছে বাংলাদেশের একটি সোনালী মানচিত্র। মানচিত্রের সম্মুখে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গবন্ধুর চার সহযোদ্ধা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ, শহীদ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী ও শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামানের আবক্ষ ভাস্কর্য।




