পরিবহন ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত না করে অনার্স ও মাস্টার্স চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু করায় ভোগান্তিতে পড়েছে দেশের একমাত্র অনাবাসিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ ২০ ডিসেম্বর শুরু হয়েছে অনার্স ও মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নিয়মিত যাতায়াতের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা থাকলেও এ সুবিধা পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, করোনাকালীন সময়ে আমরা গ্রামের বাড়ি চলে যাই। এখন ঢাকায় এসে কয়েকদিনের জন্য বাসাভাড়া নেওয়া আমাদের সাধ্যের বাইরে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িও চলে না, এটা আমাদের জন্য আরেকটা ভোগান্তি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ দিকে নজর দেওয়া উচিৎ।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে পরীক্ষা বাবদ ফি আদায়ের বিজ্ঞপ্তিতে ভোগান্তির চরম মাত্রায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। ভর্তি ও পরীক্ষা বাবদ ফি মওকুফের জন্য উপাচার্যের নিকট লিখিত আবেদন জানালেও এ ব্যাপারে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ সম্পর্কে একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, আমাদের সেমিস্টার ভর্তি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের জন্য টাকা প্রয়োজন। আমাদের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর পারিবারিক অবস্থা ভালো না। তারা টিউশন করে তাদের খরচ চালাতো। এই ডিসেম্বরে কারো টিউশন নাই। ফলে তারা অনেক বড় সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। এমতাবস্থায় যদি প্রশাসন আমাদের ফরম ফিলাপের টাকা মওকুফ বা বিকল্প ব্যবস্থা করে দিতো, তাহলে সবার জন্য অনেক ভালো হতো।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেকে ঢাকায় অবস্থানরত মেস-বাসা ছেড়ে দিয়েছে। এ মুহূর্তে ঢাকায় এসে মেস-বাসা ঠিক করে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। অনেকের টিউশন, পার্টটাইম জব কোনোটাই নেই। ফলে অনেক শিক্ষার্থী বাসা ভাড়া, টিউশন ফি দিতে প্রস্তুত নয়।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘ডিনস কমিটির সভায় যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটাই বাস্তবায়ন হচ্ছে। কী কারণে শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধা ও টিউশন ফি মওকুফ হচ্ছে না, সেটা আমি বলতে পারবো না। এটাতো অফিসিয়াল বিষয়, আনঅফিশিয়ালি আমি বলতে পারবো না। আমার নিজের মতো দেওয়া যাবে না। আমি শুধু ডিনস কমিটির সভার সিদ্ধান্তটা বলতে পারবো।’




