আজ শুক্রবার, ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২২শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আজ শুক্রবার, ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২২শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

প্রেসিডেন্ট ইস্যুতে হঠকারি সিদ্ধান্ত চায় না বিএনপি: মির্জা ফখরুল

 

প্রেসিডেন্ট অপসারণ ইস্যুতে সরকারকে কোন হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা এর আগেও বলেছিলাম গণঅভ্যুত্থানের ফসলকে যদি ঘরে তোলার জন্য বাংলাদেশের বিপ্লবকে সংহত করতে হয়, তাহলে জাতীয় ঐক্য ও কোন রকম হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। তার জন্য বেশি প্রয়োজন অতিদ্রুত নির্বাচন কেন্দ্রিক সংস্কার শেষে নির্বাচন করা।

রোববার রাজধানীর শেরে বাংলানগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে যুবদলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি আন্দোলন করছে। শনিবার আপনার সাথে তারা বৈঠক করেছে। প্রেসিডেন্টের প্রশ্নে আপনাদের অবস্থান কি? এর জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির অবস্থান তো আমরা এভাবে দেবো না, আমাদের ফোরাম আছে সেই ফোরামের মিটিং হবে, সেখানে আলোচনা করে আমাদের অবস্থান আমরা পরিষ্কার করব।

তিনি বলেন, আমরা বারবার বলছি, নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করে অতি দ্রুত একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। সেটা একমাত্র সমস্ত সংকটগুলোকে নিরসন করতে পারে। নির্বাচন বিলম্ব হলে সংকট প্রকট হবে বলে মনে করেন কিনা প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা আমরা বারবার বলছি, পার্টির তরফ থেকে বলা হচ্ছে যে, যত দ্রুত সম্ভব সাধারণ নির্বাচন, নিরপেক্ষ নির্বাচন করা দরকার এবং একটা সাংবিধানিক রাজনৈতিক শক্তির দেশের দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা দরকার।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে আজকে শপথ নিয়েছি আমাদের যে স্বাধীনতা সেটা যেকোন মূল্য রক্ষা করবো। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে গত ৫ আগস্ট দ্বিতীয়বার দেশ স্বাধীন হয়েছে। এই সংগ্রামে যুবদলের ভূমিকা নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা সত্ত্বেও আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে যুবদল আগের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। এই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সফল পরিণতি তাদের (যুবদলের) ভূমিকা অক্ষুণ্ন থাকবে। বাংলাদেশের যারা ভালো চায় না তাদের প্রতিহত করার জন্য যুবদল অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

এর আগে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপি মহাসচিব শেরে বাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে আসেন। তারা মরহুম নেতার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।

এই সময়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নিরব, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনসহ যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম শেরে বাংলা নগরে জাতীয়তাবাদী যুবদলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে চন্দ্রিমা উদ্যানে প্রবেশ করে। কর্মীদের মুখে মুহুর্মুহু শ্লোগান ছিলো ‘আজকের এই দিনে জিয়া তোমায় মনে পড়ে’, ‘খালেদা জিয়ার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘তারেক রহমান বীরের বেশে আসবে ফিরে বাংলাদেশে’ ।

এরপর পরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্প ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এ সময়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

 

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin