বগুড়ায় নুরুল ইসলাম হক নামের এক মাইক্রোবাস চালককে হত্যার দায়ে ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ছয়মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাবিবা মণ্ডল এ রায় দেন।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. নাছিমুল হক হলি।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর মো. শাহিন ও শাহিনুর রহমান, একই জেলার ভুরুঙ্গামারীর নজরুল ইসলাম নজু ও রোকেয়া বেগম গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ইলিয়াস হোসেন ও মো. শাহাজুদ্দিন, বরিশালের বাকেরগঞ্জের রাসেল মিয়া, নরসিংদীর আমির হামজা, পটুয়াখালীর বাউফলের জালাল গাজী।
সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রায় ঘোষণার সময় ছয়জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি তিনজন পলাতক আছেন। এছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে তিনজন ফাঁসির আসামিও রয়েছেন।
ফাঁসির আসামিরা হলেন রাসেল, নজরুল ইসলাম ও আমির হামজা।
আইনজীবী নাসিমুল হক হলি বলেন, ওই তিনজন কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যা করেন। সেই মামলায় তাদেরকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আদালত।
মাইক্রোবাস চালক হত্যার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত পলাতকরা হলেন জালাল গাজী, রোকেয়া বেগম, শাহিনুর রহমান।
আইনজীবী নাসিমুল হক হলি বলেন, মাইক্রোবাস ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালের ২ জুন শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর এলাকায় নুরুল হককে হত্যা করা হয়। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পরদিন বগুড়ার শেরপুর থানার তৎকালীন এসআই সেরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে মামলার তদন্তে আসামিদের শনাক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
তিনি আরও বলেন, নুরুল হক ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে মাইক্রোবাস নিয়ে বের হন। সেই সূত্রে পুলিশ প্রথমে কুড়িগ্রাম থেকে রাসেল, শাহীন ও নজরুলকে গ্রেফতার করে। তারা হত্যার দায় স্বীকার করে জড়িত অন্যদের নাম প্রকাশ করেন।
আইনজীবী নাসিমুল হক হলি বলেন, আদালতে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায় ঘোষণা শেষে উপস্থিত থাকা আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।




