আজ রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আজ রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

এক সপ্তাহে ২৬০০ সেনা হারাল পুতিনের বাহিনী

টানা ৯ মাস ধরে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে রাশিয়া। অভিযানের নামে পূর্ব ইউরোপের এই দেশটিতে চলছে হত্যা আর ধ্বংসযজ্ঞ। তবে ইউক্রেনীয় বাহিনীর অব্যাহত পালটা প্রতিরোধে বিপর্যস্ত রুশ বাহিনী। শুক্রবার নিউজউইকের খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে এক সপ্তাহেরও কম সময়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০ যোদ্ধাকে হারিয়েছে মস্কো। লড়াইয়ে রাশিয়ার পশ্চাদপদে যাওয়ার বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এদিকে ইউক্রেনের খেরসন শহরে রুশ দখলদারিত্ব অবসানের পর ক্রমেই সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। দীর্ঘ আট মাস পর কিয়েভ থেকে খেরসনে একটি ইউক্রেনীয় ট্রেন গেছে।

খেরসনের পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে গেলেও অন্যান্য স্থানে দুই পক্ষের আক্রমণ পালটা আক্রমণ চলছেই। পশ্চিমাদের অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দখলদার রুশ বাহিনীর ওপর হামলা দিনকে দিন বাড়িয়ে তুলছে কিয়েভের সেনারা। ফলে রুশ সেনাদের প্রকৃত বিপর্যয়ের চিত্রটা আরো দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। ঐদিন যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রকাশিত পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, শুধু শুক্রবারই প্রায় ৩৫০ রুশ সেনাকে হত্যা করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী । চলতি সপ্তাহে এটিই সবচেয়ে কম হতাহত। গত সোমবার থেকে আনুমানিক ২ হাজার ৬০০ রুশ সেনাকে হত্যা করেছে ইউক্রেনীয় যোদ্ধারা। যার মধ্যে মঙ্গলবার সর্বোচ্চ ৭১০ জন ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর রুশ সেনা নিহতের সংখ্যা ৮৩ হাজার ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
শুধু সেনা নিহত বা আহতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, অনেক ট্যাংক, সামরিক যান এবং ড্রোন ধ্বংস করে যাচ্ছে ইউক্রেন। যেসব ড্রোনে গত মাস থেকে রাজধানী কিয়েভ এবং ইউক্রেনের অন্যান্য শহরে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মস্কো। ইউক্রেনসহ পশ্চিমারা দাবি করছে, এসব ড্রোন ইরানের তৈরি কামিকাজে বা শাহেদ ১৩৬। এক সপ্তাহে ৭৩টি ক্রুইজ মিসাইল ভূপাতিত করেছে ইউক্রেন। রাশিয়ার এমন ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নিউজউইক ক্রেমলিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে কোনো প্রতিক্রিয়া পায়নি। এই মাসের শুরুতে নিউ ইয়র্কের ইকোনমিক ক্লাবে জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ চেয়ারম্যান মার্ক মিলি বলেন, যুদ্ধে রাশিয়ার হতাহতের সংখ্যা আনুমানিক ১ লাখ হতে পারে। বেসামরিক নাগরিকের হতাতের সংখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেনের আনুমানিক ৪০ হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। সেইসঙ্গে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অবশ্য ভিন্ন কথা বলছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়। তাদের মতে, এই হতাহতের সংখ্যা ৭ হাজার হতে পারে ।

এদিকে দীর্ঘ আট মাস পর শুক্রবার প্রথমবারের মতো কিয়েভ থেকে খেরসনে একটি ইউক্রেনীয় ট্রেন ছেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেনটিতে ২০০ জনের মতো যাত্রী ছিল। টেলিগ্রামে দেওয়া পোস্টে এই ট্রেনযাত্রার ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের উপপ্রধান কিরিলো টিমোশেঙ্কো। তার ভাষায়, ‘এটা আমাদের বিজয়ের টেন! এই টেনের মতো, স্বাভাবিক জীবন ফেরাতে আমরা খেরসনে ফিরে যাবো।’

গত আট মাস ধরে রুশ দখলদারিত্বের মধ্যে ছিল এ অঞ্চলের বাসিন্দারা । তবে গত ৯ নভেম্বর রুশ সেনাদের খেরসনের পশ্চিম তীর থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু। সেপ্টেম্বরে যে চারটি ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে ঘোষণা করে খেরসন সেগুলোর একটি। ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার দখল করা একমাত্র প্রাদেশিক রাজধানী এটি। ডিনিপ্রো নদীর পশ্চিম তীরে এই শহরটির অবস্থান।

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin