আজ রবিবার, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
আজ রবিবার, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

বিশ্বমঞ্চ থেকে কী ছিটকে গেছেন পুতিন?

কয়েক সপ্তাহে এশিয়া-আফ্রিকাতে অনুষ্ঠিত হলো তিনটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্মেলন। সেসব সম্মেলনে যোগদান করেছেন বিশ্বের সব নেতারা। তবে কোনো সম্মেলনে হাজির হননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
পুতিন ইউক্রেনে নয় মাস ধরে বিশেষ অভিযানের নামে আগ্রাসন চালাচ্ছেন। এর ফলে ইউরোপের দেশগুলোর অর্থনৈতিক জীবন থেকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক জীবন ধ্বংসের মুখে রয়েছে। আর বিশ্বের অর্থনৈতিক দৈনতা ও খাদ্য সংকট তো রয়েছেই।

পুতিন বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক সম্মেলনে যোগদান এড়িয়ে চলছেন। এর পরিবর্তে তার যুদ্ধের কঠোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের বিরোধিতার মুখে একা থাকা শ্রেয় মনে করছেন পুতিন!

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনোমিক কো-অপারেশন (অ্যাপেক) সম্মেলন সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই সম্মেলনে জাতিসংঘের শোক রেজুল্যাশনসহ অন্যান্য ফোরামে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের পক্ষে দাঁড়ানোর অবস্থান স্পষ্ট করে সম্মেলনে আসা দেশগুলোর নেতারা।

গত সপ্তাহের শুরুতে বালিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে জি-২০ সম্মেলনে আক্ষরিক অর্থে একই ঘোষণার প্রতিধ্বনি উঠেছিল। জি-২০ জোটের প্রতিটি দেশ ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের তীব্র নিন্দা জানায়। জোটটি রাশিয়ার অভিযানের জন্য মানুষের তীব্র ভোগান্তি এবং বিশ্বের অর্থনীতির ভঙ্গুর দশার বাড়ার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

সেই জি-২০ সম্মেলনে পুতিন নিজের পরিবর্তে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভকে পাঠান। ঐ সম্মেলনে জোটটির ভিন্ন মূল্যায়নের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

কয়েক সপ্তাহের সম্মেলনগুলোতে সাইডটক বৈঠকে বসেছেন বিশ্বের নেতারা। সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি এখন বিশ্বমঞ্চ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। রাশিয়ার সর্বোচ্চ নেতা মস্কোতে পড়ে থাকতে পছন্দ করছেন এবং বৈশ্বিক বড় সভাগুলোতে নিজেদের সমমনা নেতাদের মুখোমুখি হতে নারাজ।

দ্য কারনিজিও ইনডৌমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের জ্যেষ্ঠ গবেষক আলেক্সজান্ডার গ্যাবুয়েব বলেন, রাজধানী মস্কো ছাড়লে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কৌশলের সম্ভাবনার জন্য তিনি হয়তো বিশ্বমঞ্চ এড়িয়ে চলছেন। এছাড়া ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা এবং সম্মেলনে মুখোমুখি এড়ানোর ইচ্ছা হতে পারে। কারণ ইউক্রেনে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া শোচনীয়ভাবে পরাজিত হচ্ছে। এ পরাজয় পুতিনের সিদ্ধান্তের পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে কোনো অপ্রত্যাশিত কোনো আকর্ষণ হতে চান না বলে ধরা হচ্ছে। তবে ভারত ও চীনের মতো মিত্রদের সঙ্গে উজবেকিস্তানে আঞ্চলিক সম্মেলনে পুতিন সাক্ষাৎ করেন।

সূত্র- সিএনএন।

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin