স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেকের সামনেই স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী। মঙ্গলবার বিকেলে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় চিফ হুইপ স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার নানা অনিয়ম তুলে ধরে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
চিফ হুইপের ক্ষোভের বিষয়টি স্বীকার করে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে আমাদের জনবল সংকটের কারণে মূলত নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়াও সরকারি হাসপাতালে বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে যন্ত্রপাতি কম টেকসই হচ্ছে যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।’
তবে মন্ত্রী ও চিফ হুইপ দুজনই করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ট ভূমিকায় বিনামূল্যে ৪০ হাজার কোটি টাকায় টিকা প্রদান এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন।
মতবিনিময় সভায় চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট রয়েছে আমরা তা বুঝি। মন্ত্রীর কাছে আমি অনুরোধ করব। আমাদের যে জনবলের কাঠামোই আছে তা যদি আমরা ঠিকমতো কাজ করাতে পারি তাহলে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ত। বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ায় অনেক টাকা আমাদের বিদেশে চলে যাচ্ছে। এটা ঠেকান যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুপুর হলেই ডাক্তাররা বেসরকারি ক্লিনিকে চলে যায়। অনেক দেশেই এগুলো নেই। সরকারি চাকরি করবেন না হলে বেসরকারি চাকরি করবেন। শিবচরেও জনবল সংকট আছে। কিন্তু কিছু ডাক্তার শিবচর থেকে বেতন নেবে অথচ ঢাকায় ডেপুটেশনে থাকবে, এটাতো হতে পারে না। এটা এলাকার মানুষকে সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’
সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৩-৪ লাখ পদে জনবল সংকট রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে আমরা ১৫ হাজার চিকিৎসক, ২৫ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। অথচ ৪০ বছরে ডাক্তার ছিল মাত্র ১৮ হাজার, নার্স ছিল ২০ হাজার। করোনা পরিস্থিতি ও ডেঙ্গু সামাল দিয়ে আমরা এখন স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট নিয়ে কাজ করছি। আমরা কমিটিও তৈরি করেছি। এখন করোনা যেহেতু কম আছে আমরা বিভিন্ন উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোতে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সরকারি হাসপাতালগুলো ভালভাবে চলছে কিনা এ বিষয়টি আমরা পরিদর্শন করছি। মেশিনগুলো যাতে সচল থাকে সেটাও দেখা হচ্ছে। এটা সত্যি যে, আমাদের মেশিনগুলো বেশি নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে আর পাশের প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর এক্সরে বা প্যাথোলজিক্যাল মেশিনগুলো ভাল চলে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়।’
কর্মসূচীগুলোতে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সাইফুল হাসান বাদল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হামিদ, পরিবার পরিকল্পনা ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক যুগ্ন সচিব মো. মাহাবুব আলম, স্বাস্থ্য বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিয়া, মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সামিউল ইসলাম সাদিক, শিবচর ডায়াবেটিক সমিতির চেয়ারম্যান রাজিয়া চৌধুরী, শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ মোল্লা, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাজাহান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. সেলিমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এ দিন স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও চীফ হুইপ জেলার শিবচরের সন্ন্যাসীরচরে ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ট্রমা সেন্টার উদ্বোধন ও জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের জমি পরিদর্শন, চৌধুরী ফাতেমা বেগম মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে উন্নীতকরণের কাজ উদ্বোধন, শেখ হাসিনা ইনষ্টিটিউট অব হেলথ এ্যান্ড টেকনোলজি উদ্বোধন, নির্মানাধীন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব নার্সিং ইনষ্টিটিউট এন্ড কলেজ পরিদর্শন, শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।