আজ মঙ্গলবার, ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আজ মঙ্গলবার, ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

এক দিনে বৈশ্বিক মৃত্যুতে রেকর্ড, শনাক্ত ছয় কোটি ছাড়াল

করোনা মহামারিতে আরেকটি বিষাদময় দিন পার করল বিশ্ব। গত মঙ্গলবার ভাইরাসটির কবলে সর্বাধিক ১১ হাজার ৭১৯ জন প্রাণ হারিয়েছে। মহামারি শুরু হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার নিরিখে এর আগে এত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। একই দিন করোনা শনাক্তের সংখ্যা ছয় কোটি ছাড়িয়েছে। বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাবে এই চিত্র উঠে এসেছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রথমবারের মতো মানবদেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ১১ মাস কেটে গেলেও এখনো ভাইরাসটির উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তবে এরই মধ্যে চারটি কার্যকর টিকা উদ্ভাবনের দাবি করা হয়েছে। খুব শিগগির সেসব টিকার প্রয়োগ শুরু হবে। তবে বিশ্বের সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। সেই কারণে শিগগিরই মহামারি থেকে মুক্তির আশা নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ পরিস্থিতিতে তাঁরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাবে, গত ১৮ নভেম্বর বিশ্বে ১১ হাজার ২৪৬ জনের প্রাণ কাড়ে করোনা। এরপর দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কমতে কমতে আট হাজারে নেমে এসেছিল। এরই মধ্যে মঙ্গলবার প্রাণহানিতে উল্লম্ফন ঘটে। অঞ্চল হিসাবে এদিন সর্বাধিক মৃত্যু ঘটে ইউরোপে; পাঁচ হাজার ৭৭৪ জন। উত্তর আমেরিকায় মারা যায় দুই হাজার ৬১৪ জন। এশিয়ায় এক হাজার ৭০৬, দক্ষিণ আমেরিকায় এক হাজার ২৮১, আফ্রিকায় ৩৪২ এবং ওশেনিয়া অঞ্চলে দুজনের প্রাণহানি ঘটে। সব মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত বৈশ্বিক প্রাণহানি সোয়া ১৪ লাখে পৌঁছেছে। অবশ্য স্বস্তির খবর হলো, বৈশ্বিক গড় মৃত্যুহার ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার এই হার ৩.২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে গত মঙ্গলবার নতুন করে সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ করোনা সংক্রমিত হয়েছে। তাতে বৈশ্বিক আক্রান্তের সংখ্যা ছয় কোটি ছাড়িয়ে যায়। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বৈশ্বিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় তিন কোটিতে। অর্থাৎ মাত্র ৭০ দিনের ব্যবধানে নথিবদ্ধ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হলো।

টিকার সর্বশেষ পরিস্থিতি : গত মঙ্গলবার রাশিয়ার টিকা স্পুিনক ভি-এর চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষার দ্বিতীয় পর্বের বিশ্লেষণের ফল প্রকাশিত হয়েছে। একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই টিকার দুটি ডোজ প্রয়োগ করতে হয়। দ্বিতীয় ডোজের প্রয়োগ হয় প্রথম ডোজের ২১ দিন পর। টিকাটির দ্বিতীয় পর্বের

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রথম ডোজের ২৮ দিন পর টিকাটি করোনা সংক্রমণ রুখতে ৯১.৪ শতাংশ কার্যকরী হয়েছে। আর প্রথম ডোজের ৪২তম দিনে কার্যকারিতা বেড়ে হয়েছে ৯৫ শতাংশ।

এর আগে গত সোমবার যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনার টিকার ট্রায়ালের ফল প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, টিকাটি শতকরা ৭০ ভাগ মানুষের মধ্যে কভিড বাসা বাঁধতে দেয় না। তারও আগে মার্কিন ওষুধ কম্পানি ফাইজার ও জার্মান জৈবপ্রযুক্তি কম্পানি বায়োএনটেক উদ্ভাবিত টিকা করোনা মোকাবেলায় ৯৫ শতাংশ কার্যকর বলে তৃতীয় ধাপের চূড়ান্ত ফলে উঠে আসে। তবে এই টিকাটির বড় অসুবিধা হলো, এটিকে মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পরিবহন ও সংরক্ষণ করতে হয়। আরেক মার্কিন কম্পানি মডার্না উদ্ভাবিত করোনার টিকা ৯৪.৫ শতাংশ কার্যকর বলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে। ওই টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার পর প্রাথমিক ফলের ভিত্তিতে মডার্না এই দাবি করেছে।

সবার টিকাপ্রাপ্তি বহু দূরে, সময়সাপেক্ষ : সবার জন্য টিকা নিশ্চিতকরণের বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘কোভ্যাক্স’-এ ১৭২টি দেশ নাম লেখালেও তা বেশ সময়সাপেক্ষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নেতৃত্বাধীন এ উদ্যোগের সঙ্গে আছে কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশন (সিইপিআই) ও দাতব্য সংস্থা গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গাভি)। এ উদ্যোগের সদস্য রাষ্ট্রগুলো জনসংখ্যার ৩ শতাংশের জন্য টিকা পাবে। কার্যকর ও নিরাপদ টিকা পাওয়া মাত্রই এ সুবিধা পাবে দেশগুলো। এসব টিকা করোনার লড়াইয়ে সামনের সারিতে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীসহ সামাজিক বিভিন্ন সেবার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। প্রতিটি দেশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিকা সরবরাহের এ হার ২০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সাল শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে ২০০ কোটি ডোজ টিকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উন্নত দেশ ও কোভ্যাক্সের মাধ্যমে উৎপাদিত টিকা দিয়ে বিশ্বের ৭৮০ কোটি জনসংখ্যার চাহিদা আগামী বছরের মধ্যে কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। সবার টিকা নিশ্চিতকরণে বেশ কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। ফলে মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ সময় লেগে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin