আজ বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আজ বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও রেমিট্যান্স কমার কারণে ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমেছে অর্ধেক

ব্যাংকিং খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। গত অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আমানত কমেছে ১৮ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমেছে প্রায় ৪৯ শতাংশ। আমানত কমলেও ঋণ প্রবাহ বাড়ছে। এতে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট বাড়ছে।

সোমবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, ব্যাংকিং খাতে একদিকে আমানত কমছে, অন্যদিকে ঋণ প্রবাহ বাড়ছে। এতে ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের প্রবাহ কমে গেছে। ব্যাংকগুলোতে আমানত কমার জন্য এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমা, ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি ও নতুন সঞ্চয় কমে যাওয়ার কারণে ব্যাংকে আমানত কমেছে। আমানত বাড়াতে ব্যাংকগুলোতে নানা পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে চলতি ডিসেম্বর মাস শেষে আমানত প্রবাহ আবার বেড়ে যাবে।

এদিকে ব্যাংকে আমানত কমার জন্য ডলার সংকটও একটি কারণ। এজন্য আমদানি ব্যয় বেড়েছে। পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে ভোক্তাকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। এদিকে অর্থনৈতিক মন্দায় ভোক্তার আয় বাড়েনি। বাড়তি দামে পণ্য কেনার কারণে ভোক্তারা আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছে না। ফলে তারা সঞ্চয় করতে পারছে না। এতে ব্যাংকে নতুন সঞ্চয় কমে গেছে। একই সঙ্গে সংসারের বাড়তি ব্যয় মেটাতে ব্যাংক থেকে আগের সঞ্চয় ভেঙে খরচ করতে হচ্ছে। ফলে ব্যাংকে সঞ্চয় কমে গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে ব্যাংকিং খাতে আমানত বেড়েছিল ৩৭ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আমানত বেড়েছে ১৮ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আমানত ১৮ হাজার ২০৬ কোটি টাকা কম বেড়েছে। শতকরা হিসাবে বৃদ্ধির হার কমেছে ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে আমানতের প্রবৃদ্ধি প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে আমানত বেড়েছিল। আগে কখনোই এত বেশি হারে আমানত কমেনি।

২০১৯ সালের অক্টোবরে আমানত ছিল ১১ লাখ ৬ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। ২০২০ সালের অক্টোবরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৫১ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে আমানত বেড়েছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ শতাংশ। ২০২১ সালের অক্টোবরে আমানত বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। ওই এক বছরে ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমেছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯০ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা। ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এই এক বছরে আমানত বেড়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৯০ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

অর্থাৎ গত তিন বছরে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে আসছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালের অক্টোবরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৩ শতাংশ। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

এদিকে ব্যাংকে আমানত কমলেও বেড়ে যাচ্ছে ঋণের প্রবৃদ্ধি। গত অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছিল ৪২ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছে ৬১ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ঋণ বেড়েছে ৪৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

আমানত ও ঋণে এ রকম ভারসাম্যহীনতার কারণে ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। চলতি অর্থবছরের জন্য সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করলেও ঋণ প্রবাহে লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না।

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin