এ বছরও শহরের অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শনের কাজ হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের দৃষ্টিতে শহরের নয়ামাটি ও টানবাজার এলাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অধিকাংশ ভবনের ফায়ার লাইসেন্স নেই। একটি ভবন আরেকটির গাঁ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। মার্কেটে নেই পানির রিজার্ভার। নেই বিকল্প সিঁড়ি। যে সিঁড়ি আছে তাও অত্যন্ত সরু। সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়ামাটি হোসিয়ারি এলাকার সড়কটি অত্যন্ত সরু। ভয়াবহ অগ্নিঝুঁকিতে থাকা নয়ামাটি এলাকার ব্যবসায়ীরা এ ব্যাপারে উদাসীন।
সূত্র মতে, নয়ামাটি হোসিয়ারি এলাকা অগ্নিকাণ্ডের রেডজোন। এখানে কোনো ধরনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। এক সময় এখানে তিন/চার তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং ছিল। বর্তমানে সাত তলা থেকে আট তলা পর্যন্ত ভবনের অভাব নেই। নয়ামাটির ভেতরে অধিকাংশ ভবনেই পানির রিজার্ভারই নেই। এই এলাকায় নেই কোনো জলাধারও। সত্তরের দশকেও থানা পুকুরপাড় নামে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার সামনে একটি বড় পুকুর ছিল। আশির দশকেও পুকুরের অস্তিত্ব ছিল। নব্বইয়ের দশকে এসে পুকুর ভরাট করে ফেলা হয়।
জানা গেছে, নয়ামাটি এলাকায় ব্যস্ত সময় দুদিক থেকে দুটি রিকশা আসলে সাইড দেওয়ার জায়গা থাকে না। গলির মুখে ঠেলাগাড়ি ঢুকলে আর রক্ষে নেই। যানজট অবধারিত। নয়ামাটির ভেতরে অধিকাংশ ব্যবসায়ী হেঁটে চলাফেরা করতে অভ্যস্ত। অনেকে নিজের প্রাইভেটকার করিম মার্কেটের সামনে বা গুলশান সিনেমা হল এলাকায় রেখে ভেতরে হেঁটে প্রবেশ করেন। নয়ামাটিতে কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভেতরে ঢুকতে পারে না। তাদের বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হয়। সূত্র মতে, নয়ামাটি বিখ্যাত হোসিয়ারির জন্য। পাশাপাশি এখানে সুতা ও কেমিক্যালের ব্যবসা আছে। সেই হিসেবে টানবাজার ও নয়ামাটি এলাকা দুটিকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস। টানবাজার ও নয়ামাটি এলাকা ফায়ার সার্ভিসের ‘রেডজোন’ চিহ্নিত এলাকা। অথচ এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা একেবারেই উদাসীন। বড় দুর্ঘটনার পর পর কয়েক দিন প্রশাসন তত্পর থাকে। এরপর আবার পুরোনো চিত্র। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি শহরের টানবাজার এলাকায় আবাসিক ভবন থেকে কেমিক্যালের গোডাউন সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন। এ জন্য ১০ দিন সময় চেয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু প্রায় তিন বছর পার হতে চলল, প্রতিশ্রুতি আর সিদ্ধান্ত কোনোটিরই প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে ভয়ানক ঝুঁকিতে রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নয়ামাটি এলাকায় ২০-২৫টি পুরাতন বিল্ডিং রয়েছে। এগুলো উচ্চতায় তিন-চার তলা বিশিষ্ট হবে। বর্তমানে ১৫-২০টি ভবন রয়েছে যেগুলোর উচ্চতা সাত-আট তলা বিশিষ্ট। যেগুলোতে ভবন নির্মাণের শর্তাবলী মানা হয়নি। সাত তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করতে হলে ৩০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা থাকা চাই। অথচ নয়ামাটির রাস্তা ৬-৭ ফুটের বেশি চওড়া হবে না। ব্যস্ত সময়ে আরো সরু হয়ে আসে মানুষ হেঁটে চলাফেরা করার কারণে। বহুতল ভবনে পানির রিজার্ভার থাকতে হয়। নয়ামাটির দুই-একটি ভবন বাদে অধিকাংশ ভবনেই পানির রিজার্ভার নেই। রাস্তা প্রশস্ত না হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকে না। বিকল্প পথে পাইপ টেনে আগুন নেভাতে হয়। এভাবে চলবে কত দিন?