আজ বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আজ বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সময়-খরচ দুটোই বাড়ছে

সময় বাড়ছে, খরচও বাড়ছে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও খাল-নালা পুনরুদ্ধার প্রকল্পটির। কাজ যথাসময়ে শেষ হয়নি তাই রিভাইজড প্রজেক্ট প্রপোজাল (আরপিপি) সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

এ নিয়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) একটি বোর্ড সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। ফলে চূড়ান্তভাবে আরপিপি খুব শিগিগরই যাচ্ছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায়। এ তথ্য জানালেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস ইত্তেফাককে বলেন, এই প্রকল্পটি চউক বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪, ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মাধ্যমে।

৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দে চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংবাত্সরিক ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিরসন ও ভরাট হয়ে যাওয়া খাল-নালা পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের প্রকল্পটি সরকার গ্রহণ করেছিল। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব ন্যস্ত হয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হাতে। প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৭ সালের জুলাই মাসে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল প্রকল্পটি সুচারুরূপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি করে। একই বছরের শেষ দিকে সেনাবাহিনীর ৩৪, ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কাজ শুরু করে। কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছর বা ২০২২ সালের জুন মাসে। কিন্তু তা সম্ভব না হওয়ায় কাজ সমাপ্তির টার্গেট বাড়ানো হয়েছে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত ২৪, ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কর্মকর্তা কর্নেল শাহ আলী ইত্তেফাককে বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও প্রকল্পের কাজ থেমে নেই। তিনি জানান, বর্তমানে এই প্রকল্পের পাঁচটি স্লুইস গেটের কাজই সমাপ্ত হয়েছে। ২৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পুরাতন ড্রেন প্রশস্ত বা বড় করা হয়েছে। ১০ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। রাস্তার পাশের সরু হয়ে যাওয়া ১৫ কিলোমিটার ড্রেন প্রশস্ত করা হয়েছে। নগরীর যে ৩৬টি খাল পুনরুদ্ধারের কাজে হাত দেওয়া হয়েছে, তার দুই পাশে সর্বমোট ১৭৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ এবং খালের দুই পাড়ে ১৫ ফুট প্রশস্ত রাস্তা তৈরির কাজ চলমান রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে মোট ৯৫ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়ালের নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, নগরবাসী অব্যাহতভাবে খাল-নালায় ময়লা আবর্জনা ফেলছে। সিটি করপোরেশন এই প্রবণতা বন্ধ করতে পারছে না। ফলে কোথাও এক্সকাভেটর দিয়ে খনন করে খাল গভীর করা হলেও ময়লা-আবর্জনায় তা ১৫ দিনেই ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামে দখল ও লুপ্ত হয়ে যাওয়া খাল নিয়ে নানা বিতর্ক চলছে। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, অবৈধ দখলদাররা নানা স্থানে গুরুত্বপূর্ণ খাল নিশ্চিহ্ন করে বহুতল ভবন ও দোকানপাট নির্মাণ করে দিব্যি আছে। যা নগরীতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহকে রুদ্ধ করে দিয়ে প্রতি বছর জলাবদ্ধতা নগরডুবির মতো বিপর্যয়ের সৃষ্টি করছে।

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin