আজ বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আজ বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

কাতার কি আসলেই শ্রমিক বান্ধব নয়?

কাতারে চলছে ২২তম বিশ্বকাপ ফুটবল। কোনো আরব দেশে এটিই প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল এবং এশিয়া মহাদেশে দ্বিতীয় আয়োজন। এর আগে ২০০২ সালে কোরিয়া ও জাপানে যৌথভাবে বসেছিল বিশ্বকাপের আসর। অনেক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাতারে কর্মরত শ্রমজীবী শ্রেণি ভালো নেই উল্লেখ করে বলা হচ্ছে, দেশটির মানবাধিকারের রেকর্ড ভালো নয়। বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পাওয়ার আগ থেকেই অভিযোগটি উঠেছিল।

কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই অভিবাসী শ্রমিকদের বিষয়টি গণমাধ্যম ও সংস্থাগুলোর মনোযোগে চলে আসে। বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ কাজে লাগানোর মাধ্যমে শ্রমিক অবস্থারও উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হয়েছিল। এই প্রত্যাশা থেকে মানবাধিকার বা শ্রমিক অধিকার গ্রুপগুলো খুব একটা উচ্চবাচ্য করেনি।

কাতারে অভিবাসী শ্রমিকদের একটি দাবি ছিল ন্যূনতম মজুরি যেন বৈষম্যহীনভাবে করা হয়, শ্রমিকদের স্বাধীনভাবে চাকরি বদল করার অধিকার করা এবং ২০১৮ সালের ক্ষতিপূরণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু হোক। কাতার কিন্তু শ্রমিকদের জন্য ১৮ সাল থেকেই কাজ শুরু করেছে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বিষয়টি স্বীকার করেছে। ১ নভেম্বর সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, কাতার সেদেশে বসবাসরত হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিকের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য সর্বাত্মক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। মালিক, শ্রমিক ও কর্মকর্তাসহ বৃহত্তর অর্থে অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা যায়।

অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য কাতার কাজ শুরু করে। তবে এটা রাতারাতি করে ফেলা সম্ভব নয়। বহু কোম্পাানি ও তাদের কর্তাব্যক্তিদের আচরণ হঠাৎ করেই বদলে যাবে এটা আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। এজন্য কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। এক্ষেত্রে অনেক দেশের কয়েক দশক পর্যন্ত সময় লেগেছে। কাতারের বর্তমান কর্তৃপক্ষ যেহেতু একটি ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোচ্ছে তাই শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য যা যা করা হবে বলা হচ্ছে সেগুলো আলোর মুখ দেখবে বলে আশা করা যায়।

পশ্চিমা মিডিয়ার প্রচার ছিল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে পর্যটকদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে রাজধানী দোহায় বহু শ্রমিককে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারা শেষ পর্যন্ত ফুটপাথে আশ্রয় নিতে হয়েছে। জানা গেছে, এই অভিযোগ সঠিক নয়। কাতারে (অন্য অনেক দেশেও) সরকারি অনুমোদন ছাড়া যে কোনো ভবন বা অবকাঠামো অবৈধ। অবৈধ যে কোনো অবকাঠামো নোটিশ দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এক্ষেত্রে বসবাসকারীদের নতুন থাকার জায়গা খুঁজে পেতে কিছুটা সময় দেওয়া হয়। এই নিয়ম অনুসারে শ্রমিকদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারা এখন অন্যত্র বসবাস করছে। কাতারের শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সামিখ আলমাররির নির্দেশে দোহায় এরকম বেশ কিছু পুরোনো ভবন সম্প্রতি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

কাতার ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে যেসব সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে কাজ শুরু করেছে আইএলওর তার প্রতি সমর্থন রয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে আছে কাফালা বা স্পন্সরশিপ সংস্কার, ন্যূনতম মজুরি ও শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, আইনি সেবা পাওয়ার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি বদলানোর সুযোগ, মতপ্রকাশের অধিকার, গৃহকর্মে নিয়োজিত নারী শ্রমিকদের অধিকার, সরকারি পর্যায়ে শ্রম পরিদর্শন এবং সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আইএলওর ওয়েবসাইটে রয়েছে। বাস্তবে রূপায়ণ ঘটলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যেই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে কাতার। এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপের যতগুলো ম্যাচ হয়েছে সব মিলিয়ে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ফিফা। বিশ্বকাপের উদাহরণ সামনে রেখে বলা হয়, কাতার সম্ভবত শ্রম সংস্কার কর্মসূচিগুলোরও সফল বাস্তবায়ন করতে পারবে। তবে এটা সত্য যে এখনো অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। বিশেষ করে নিয়োগকর্তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো একটি চ্যালেঞ্জ। এর জন্য সময় প্রয়োজন হবে।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাতার যে এগিয়ে চলেছে বিশ্বকাপ শুরুর ১৯ দিন আগে (১ নভেম্বর) আইএলও কাতারের পক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অবশ্য এটি তেমন গুরুত্ব পায়নি। যে কারণে দেশটিতে শ্রমিকদের অবস্থা অনেকে এখনো নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশের বেশি। আরব দেশগুলোর জন্য আইএলওর আঞ্চলিক পরিচালক রুবা জারাদাত বলেছেন, ‘কাতারের সঙ্গে আমরা এক দীর্ঘ ভ্রমণে রয়েছি—সংস্কার কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা আঞ্চলিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।’

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin