চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের কর্তৃপক্ষ সুপার মার্কেট, বিভিন্ন দপ্তর ও বিমানবন্দরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোভিড শনাক্তকরণ পরীক্ষার ‘নেগেটিভ’ ফল দেখানোর বিধান তুলে নিয়েছে। গত মাসের ব্যাপক বিক্ষোভের পর চীন যে দেশ জুড়ে ধীরে ধীরে কোভিড বিধিনিষেধ শিথিলের পথে হাঁটছে মঙ্গলবার কার্যকর হওয়া এ সিদ্ধান্তে তারই প্রতিফলন ঘটছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদপত্র চায়না ডেইলির এক শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘বেইজিং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। লোকজন ‘ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তনকে’ উত্সাহের সঙ্গে মেনে নিচ্ছে।’ গত মাসে দেখা দেওয়া সবচেয়ে বড় জন-অসন্তোষের পর চীনের কর্তৃপক্ষ সামনে বিধিনিষেধ আরো শিথিল করতে যাচ্ছে বলেও আভাস পাওয়া গেছে। ২০১২ সালে শি জিনপিং প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এক দশকে দেশটির মূল ভূখণ্ডে এমন বিক্ষোভ আর দেখা যায়নি। বেইজিংয়ের এক বাসিন্দা বলেন, পুনরায় সবকিছু স্বাভাবিক হতে যাওয়া সত্যিই আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। শহরটির সাবওয়েতে চলাচলে কোভিড পরীক্ষার ফল দেখানোর শর্তও তুলে নেওয়া হয়েছে। বেইজিংয়ের দুটি বিমানবন্দরের টার্মিনালে প্রবেশের ক্ষেত্রেও এখন আর পরীক্ষার দরকার পড়ছে না বলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে বিমানের ওঠার আগে যাত্রীদের পরীক্ষার নেগেটিভ ফল দেখানোর নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না তার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা করোনা ভাইরাসজনিত কঠোরতা নিয়ে সুর নরম করার পর থেকে চীনের বিভিন্ন শহরের কর্তৃপক্ষকে একটার পর একটা বিধিনিষেধ তুলে নিতে দেখা যাচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশই বছরখানেকেরও বেশি সময় ধরে বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে ভাইরাসকে সঙ্গী করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে; চীনও এখন ধীরে ধীরে সে পথে হাঁটছে। চীন সম্ভবত বুধবারের মধ্যেই দেশ জুড়ে থাকা আরো ১০টি বিধিনিষেধ শিথিলের ঘোষণা দেবে বলে বিষয়টি সম্বন্ধে জ্ঞাত দুটি সূত্র জানিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহর এর মধ্যেই স্থানীয়ভাবে থাকা লকডাউনগুলো তুলে নিচ্ছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে বিধিনিষেধ উঠতে শুরু করলে তা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে চাঙ্গা করবে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও এমন প্রত্যাশা বাড়ছে।




