মাত্র ৩৩ বছর বয়সে স্বামীকে হারিয়েছেন জয়পুরহাটের রুলি বেগম। ছেলে-মেয়ের মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দিতে অন্যের বাড়িতে কাজ করেন তিনি।
রুলি বেগমের বাড়ি পাঁচবিবি উপজেলার শালাইপুরে। তিনি জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী। তার বাম পা একেবারে অকেজো। একটি প্রতিবন্ধী বা বিধবা কার্ডের জন্য ঘুরছেন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে।
রুলি বেগমের প্রতিবেশী রাশিদা খাতুন বলেন, ‘রুলি বেগমের স্বামী ছিলেন একজন দিনমজুর। তার উপার্জনে চলতো সংসার। মাত্র ৪ শতকের ওপর একটা বাড়ি ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই। স্বামী মারা যাওয়ার পর বেচারা খুব কষ্টে আছে। একটি কুঁড়েঘর, তার মাঝে দুই সন্তান নিয়ে বসবাস। একটু ঝড়-বৃষ্টিতেই নড়ে ওঠে তাদের এই ঘরটি।’
রুলি বেগম বলেন, ‘দুই বছর আগে আমার স্বামী মারা গেছে। কখনও ভাবতে পারিনি এতো অল্প বয়সে স্বামীকে হারাতে হবে। আমি তো অক্ষম মানুষ। পায়ে কোনো জোর পাই না। ৮ বছরের এক মেয়ে ও ৪ বছরের এক ছেলে আছে। তাদের লেখাপড়া আছে। এই সংসারের বোঝা আমি আর টানতে পারছি না। কেউ যদি আমাকে একটা প্রতিবন্ধী কিংবা বিধবা কার্ড দিতো তাহলে চলার পথটা একটু সহজ হতো।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবু মিয়া বলেন, ‘আমরা বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতা কার্ডের জন্য গ্রামবাসীকে অবগত করেছি। রুলি বেগমের বিষয়ে আমি জানি। সে একজন অসহায় বিধবা প্রতিবন্ধী নারী। আগামীতে আমি তার একটি প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।’
কুসম্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুক্তার হোসেন বলেন, ‘রুলি বেগমের বিষয়ে জানলাম। যদি সে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড পাওয়ার উপযুক্ত হয় তাহলে কার্ড করে দেওয়া হবে। আর যদি তা না হয় তাহলে তাকে বিধবা ভাতা’র কার্ড অবশ্যই করে দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সেলিম রেজা জানান, প্রতিবন্ধীদের তালিকা দেখতে হবে রুলি বেগমের নাম আছে কি না। নাম থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




