ঋতুচক্রে প্রকৃতিতে শীতকাল এসেছে পক্ষকালের বেশি আগে। দেশবাসী শীতের তীব্রতা টের পেতে শুরু করেছে পৌষের মাঝে এসে। উত্তরাঞ্চল কাঁপছে শীতের দাপটে। রাজধানী ঢাকাতেও ক্রমশ জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে—পঞ্চগড়, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, নীলফামারী ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। নতুন বছরের শুরুতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বাড়বে শীতের দাপট। জানুয়ারি মাস জুড়ে তিন থেকে চারটি শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
গতকাল প্রভাত থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা। কুয়াশার সাথে ঠান্ডা হাওয়ায় বাড়ে শীতের আমেজ। রাজধানীতে গতকাল তাপমাত্রা নামে ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে কমেছে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা। ঘন কুয়াশার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করে যানবাহন। ভোরে ঘন কুয়াশায় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সারা দেশে উড়োজাহাজ চলাচল বিলম্বিত হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাড়ে তিন ঘণ্টা ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ছিল। দুপুর ১টা ৪০ মিনিট থেকে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঘন কুয়াশার কারণে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের শিবালয়ের পাটুরিয়া নৌপথে স্বাভাবিক পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। পদ্মা নদীর দুই পাড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা থাকছে ফেরিপারের জন্য আসা অসংখ্য গাড়ি। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তেঁতুলিয়াতে ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক দিন আগে শুক্রবারও একই তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায়।
আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, এমন তাপমাত্রা আরো তিন দিন স্থায়ী হবে। ৩-৪ জানুয়ারির পরে গিয়ে তাপমাত্রা একটু বাড়বে। তবে আবার সেটি কমে যাবে। জানুয়ারি শীতলতম মাস। এই মাসে তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। এই মাসেও মৃদু থেকে মাঝারি মানের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে সারা দেশে। কোথাও কোথাও তীব্র হতে পারে। তবে উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রার পারদ বেশি নামতে পারে।




