প্রচণ্ড ঠান্ডা ও তীব্র তুষার ঝড়ে উত্তর আমেরিকার দুটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০ হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক শহরের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। সোমবার নিউইয়র্কেও বাফেলো এবং এরি কাউন্টিতে শৈত্যপ্রবাহ ও তুষারঝড়ে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের রাতে এ সংখ্যা ছিল ১৩। নিউইয়র্কের গভর্নর পরিস্থিতিকে একটি ‘যুদ্ধ অঞ্চল’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। রয়টার্স, সিএনএন ও বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ২২ ডিসেম্বর প্রচণ্ড ঠান্ডা এবং তীব্র তুষারঝড় শুরু হয়। দুই দেশেই লাখ লাখ মানুষ বরফের মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছেন। হাজার হাজার বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তুষারে ঢেকে গেছে। লক্ষাধিক বাসিন্দা ঘরের ভেতরে আটকা পড়েছেন। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন মুখপাত্র বলেছেন, পশ্চিম নিউইয়র্কে ঝড় সম্পর্কিত ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিউইর্কের বাফেলোতে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিছু এলাকায় ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়া কানাডার কাছে গ্রেট লেক থেকে মেক্সিকান সীমান্ত বরাবর রিও গ্র্যান্ডে পর্যন্ত বিস্তৃত। মার্কিন জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতার অধীনে রয়েছে। রকি পর্বতমালার পূর্ব থেকে অ্যাপালাচিয়ান পর্যন্ত তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল জানিয়েছেন, শনিবার শহরের প্রায় প্রতিটি ফায়ার ট্রাক আটকা পড়ে ছিল ও রোববার মানুষকে এই অঞ্চলে চলমান ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দ্য ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর) জানিয়েছে, বাফেলো নায়াগ্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার সকাল ৭টা পর্যন্ত মোট তুষারপাতের পরিমাণ ছিল ৪৩ ইঞ্চি (১.১ মিটার)। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, বিমানবন্দরটি মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, ব্যাপক এই ঝড়ে আরও মানুষ নিহত হয়েছে কারণ কিছু বাসিন্দা ঝড়ে নিজেদের বাসার ভেতরে আটকা পড়েন। ঝড়ের ফলে হাজার হাজার বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
ঝড়টি মেইন থেকে সিয়াটল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যাহত করেছে। পাওয়ারআউটেজ.ইউএসের তথ্যমতে সোমবার সকাল ৭টায় (পূর্ব উপকূলীয় ডেলাইট সময়) ১,০০,০০০ এরও কম গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিলেন। এই সংখ্যাটি এর আগে সর্বোচ্চ ১৭ লাখে পৌঁছেছিল। মধ্য আটলান্টিক অঞ্চলের গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থাটি শনিবার সকালের হিমবাহের সময়ে তাদের ৬ কোটি ৫০ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য আহ্বান জানিয়েছিল।
নিউইয়র্কের অবস্থা ভয়াবহ : নিউইয়র্কে আরও তুষারপাত হতে পারে ও বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ মাইল (৬৪ কিলোমিটার) পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ জানায় যে, ঝড়ের সময়ে লুটপাটের দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।
নিউইয়র্কের চিকটোওয়াগার উপশহর এলাকায় দুই ব্যক্তি নিজেদের বাসায় মারা যান। তাদের অসুস্থতার চিকিৎসা দিতে জরুরি কর্মীরা শুক্রবার সময়মতো তাদের বাসায় পৌঁছতে ব্যর্থ হলে তাদের মৃত্যু হয়। ইরি কাউন্টির নির্বাহী মার্ক পোলোনকার্জ বলেন যে, অপর আরও ১০ জনের ঝড়ের সময়ে মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে বাফেলোতে ছয়জন রয়েছেন। তিনি সতর্ক করেন যে, আরও নিহত মানুষ থাকতে পারেন।