আজ বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আজ বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

তুষারঝড়ে চরম বিপর্যয়ে যুক্তরাষ্ট্র

শীতকালীন তুষারঝড়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ। জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। এই শীতকালীন ঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় আবহাওয়া সতর্কতার মুখে রয়েছে ২৫ কোটির বেশি মানুষ। ঝড়জনিত কারণে যুক্তরাষ্ট্রের এখন পর্যন্ত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বেশির ভাগ মানুষেরই মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। গত শনিবারও দেশটির ৭ লাখের বেশি মানুষ তীব্র ঠান্ডার মধ্যে বিদ্যুত্হীন ছিল। এই ঝড়ের কারণে প্রতিদিনই হাজার হাজার ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে। ফলে বড়দিন ও ছুটির সময়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। খবর সিএনএন ও বিবিসির।

যুক্তরাষ্ট্রের এই শীতকালীন ঝড়কে বলা হচ্ছে ‘বোম্ব সাইক্লোন’। এই ঝড়ের কারণে ব্যাপক তুষারপাত হচ্ছে। আর তাপমাত্রা শুধুই নামছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক জায়গার তাপমাত্রা মাইনাস ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে চলে গেছে। পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্য তুষারপাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে। মিনেসোটা, আইওয়া, উইসকনসিন এবং মিশিগানেও বলা চলে একই অবস্থা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোচুল ইরি কাউন্টি ও বাফেলো শহরে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের মোতায়েন করেছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রচণ্ড তুষারঝড়ের কারণে এসব এলাকার জরুরি সেবাব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে।

তাপমাত্রা দ্রুত নামতে থাকায় ঘর উষ্ণ রাখার চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু বিদ্যুত্ সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই বিদ্যুত্ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকালের দিকেও দেশটির ১৮ লাখ ঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুত্হীন ছিল, পরে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। এখনো ৭ লাখ মানুষ বিদ্যুত্হীন। আবহাওয়া বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ও মধ্য-পশ্চিমের এলাকাগুলো মঙ্গলবারের মধ্যে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরতে পারে, তবে পূর্ব উপকূলের অঙ্গরাজ্যগুলোকে এজন্য শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

ব্যাপক তুষারপাতে অনেক রাস্তা গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিমান চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার ৩ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ, এতে আটকা পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ার এর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার বিকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বা বাইরে প্রায় ৬ হাজার ২০০ ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে এয়ারলাইনসগুলো।

এদিকে কর্তৃপক্ষ লাইব্রেরি ও থানায় উষ্ণতা কেন্দ্র খুলে গৃহহীনদের জন্য অস্থায়ী আবাসের ব্যবস্থা করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির দক্ষিণের সীমান্তে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যে ঢল নেমেছে, ভয়াবহ এ শীতকালীন ঝড় তাদের জন্য ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হয়েছে।

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin