বর্তমান সরকারের দুই মাসের মাথায় সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে দলীয় মিছিলের মাধ্যমে আস্ফালন করেছে গণহত্যার আসামী, পতিত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের দোসররা।প্রকাশ্য খুনিদের দোসররা ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ শ্লোগান দিয়ে আস্ফালন করায় স্তম্ভিত দেশের সাধারণ মানুষ।
আদালতে এসময় ৩ থেকে ৪শ পুলিশ থাকলেও তারা ছিল নির্বিকার, নিরব। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিএনপি, জামায়াতসহ বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোর বড় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি, যা সত্যিই দুঃখজনক।
এদিকে সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে ঘেরাও কর্মসূচি দিয়েছে।তাদের সাহসি ভূমিকায় দেশের প্রতিটি ফ্যাসিবাদ বিরোধী মানুষ আশার আলো দেখছেন।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার, খুনি হাসিনার দোসর, পতিত সরকারের কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাকের দুদিনের রিমান্ড দেয়ায় মায়াকান্না করে আওয়ামী আইনজীবী ও তাদের দোসররা এসময় তাদের তর্জন-গর্জনে হতাশ দেশের সাধারণ জনগণ।তাদের প্রশ্ন, আদালত প্রাঙ্গনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ এসময় কেন নিরব ভূমিকা পালন করলো, তাদের কি কোনো দায়িত্ব ছিল না? এ ঘটনার দায় কি তারা কোনোভাবে এড়াতে পারবে?
তাদের প্রশ্ন, পুলিশ কি তাহলে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই?
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর আদালত প্রাঙ্গণে হামলার ঘটনাগুলোর শত শত রিপোর্ট হলে আদালত প্রাঙ্গণে শৃঙ্খলা ফিরে আসে।কিন্তু এঘটনাটির যেভাবে ট্রিটমেন্ট হওয়ার দরকার ছিল, মিডিয়ায় তা সেভাবে হয়নি।তাহলে কি মিডিয়াগুলোও খুনি-ফ্যাসিবাদের সমর্থক হিসেবে নিরব ভূমিকা পালন করছে?
সরকার কি এদিকে নজর দেয়ার সময় পাবেন? সন্দেহ-সংশয় তৈরি হচ্ছে সচেতন মহলে।
অভিজ্ঞ মহল দাবি করছে, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে।তাদের মতে, পুলিশের এমন দুঃখজনক ভূমিকার কারণ কী, তা দ্রুত খতিয়ে দেখতে হবে। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও নিতে হবে কঠিন আইনগত ব্যবস্থা।




