শ্বাসরুদ্বকর ক্রিকেট ম্যাচের মতো রং বদল করছে দেশের রাজনীতি। ক্রিকেটে যেমন প্রতি বলে বলে প্রতিদ্বন্দ্বী দু’দলের জয়-পরাজয়ের হিসেব বদলে যায় তেমনই অবস্থা এখন আ.লীগ বিএনপির। পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ার আর প্রতিপক্ষের অগণিত বাউন্সার দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করে ২৮ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত স্পষ্টতই এগিয়ে ছিল বিএনপি। কিন্তু সেদিন দুপুরের সূর্য পশ্চিমাকাশে যত দ্রুত গড়িয়েছে তার চেয়েও বেশী দ্রুত বেগে সার্বিক পরিস্থিতি চলে যায় হাসিনা সরকার তথা আ.লীগের অনুকূলে। আবার গোধূলী বেলার অন্ধকার ভেদ করে আকাশে ‘ক্রিসেন্ট মুন’ ওঠার পর থেকেই ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে প্রেক্ষাপট। সহিংস ঘটনার ৭২ ঘন্টা না পেরোতেই আবারো পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বিএনপি তথা গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষে। পাঠক, চলুন তবে দেখি নিই এসব ঘটনা প্রবাহের বিস্তারিত পেক্ষাপট।
১.এতটা ফুরফুরে মেজাজে আ.লীগের নেতা-কর্মীদের দেখা যায়নি অনেক দিন। তাদের চোখে মুখে বিজয়ের আনন্দ। এ আনন্দের হেতু যে তাদের বহুদিনের পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন তা বোধ করি পাগলও বুঝতে পেরেছে। ২৮ অক্টোবরের বিকেল থেকেই বিজয় উদযাপনের জোর প্রস্তুতি চলছিল আওয়ামী শিবিরে। এরই মধ্যে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিশ্চিত বিজয় ভেবে শেষ বল বাকি থাকতেই একটু আগ বাড়িয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার অগেই ঘোষণা করে বসলেন ম্যাচের ফল। বললেন,‘ এবারও চতুর্থ বারের মতো সরকার গঠন করবে আ.লীগ’। পক্ষপাতদুষ্ট, নিজেদের অনুগত ও পছন্দের আম্পায়ারের অধীনে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে খেলে অভ্যস্ত হাসিনা-কাদেররা কল্পনাও করতে পারেন নি যে থার্ড আম্পায়ার শেষ বলটিকে নো বল ডেকে বসবেন! কারণ মাঠের আম্পায়াররা সব সময় তাদের ওয়াইড-নো বলকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এমনকি ওভারের প্রতিটি বল বাউন্সার করলেও নির্লাজ মেনে নিয়েছেন। কিন্তু এবারই প্রথমবার মাঠের আম্পায়ারকে চ্যালেঞ্জ করে থার্ড আম্পায়ার টিভি রিপ্লে দেখে জানিয়ে দিলেন যে ২৮ অক্টোবর নো বল করেছ তোমরা অর্থৎ হামলাকারীরা তোমাদের লোক। কথিত জঙ্গিবাদ,অগ্নি-সন্ত্রাস,গাড়ী ভাংচুর, লাঠি,রামদা,হাতুড়ি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করার পর অন্যের দিকে আঙুল তুলার মত বাউন্সার বল দেয়ায় দক্ষ ও কুশলী খেলোয়ার কারা তাও জানিয়ে দিয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। ২৮ অক্টোবরের সহিংস ঘটনার পর পরই আমেরিকা নিন্দা জ্ঞাপন করে সব পক্ষকে শান্ত থাকার এবং শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির আহবান জানায়। পরের দিন একই রকম আহবান জানায় ২৭ রাষ্ট্রের সংগঠন ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং দ.কোরিয়া-জাপানসহ ইউরোপ-আমেরিকার ৭টি দেশ। বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জন্য একসঙ্গে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার শনিবার ঢাকায় বিএনপি’র মহাসমাবেশ চলাকালে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বলেছে বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে সমর্থন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া নির্বাচনপূর্ব উত্তেজনা কমাতে এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথ খুঁজতে কোনো শর্ত ছাড়াই রাজনৈতিক দলণ্ডলো সংলাপ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। পিটার হাস বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনে কোনো পক্ষের রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো জায়গা নেই। তিনি আরও বলেন, সহিংসতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার প্রয়োগে বাধা, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখাসহ গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এমন যেকোনো উদ্যোগ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
২.আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে,বাংলাদেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভকালে মৃত্যু, গ্রেপ্তার এবং দমনপীড়ন অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। ঢাকায় বিরোধী দলের সরকারবিরোধী মহাসমাবেশ চলাকালে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষে কমপক্ষে দু’জন নিহত হন। এরপর থেকেই বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক ক্যাম্পেইনার ইয়াসাসমিন কাভিরত্নে সোমবার একটি বিবৃতিতে বলেছেন, সপ্তাহান্তে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের বিরুদ্ধে তীব্র দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে। আগামী জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে ভিন্নমত পুরোপুরি দমনের এটি একটি উদ্যোগ বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আরেক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলেছে, ২৮শে অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ চলাকালে অপ্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করেছে বলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এতে আরও বলা হয়েছে, যদিও সব পক্ষই সহিংসতা করেছে, তবু রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর পুলিশের অব্যাহত দমনপীড়নের কারণে এসব ঘটনা ঘটেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সবচেয়ে ণ্ডরুত্বপূর্ণ, অমোঘ সত্য ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়। বিশ্ব সংস্থাটি মারাত্মক ইয়র্কার বলে সরাসরি উপড়ে দিয়েছেন হাসিনা সরকারের মিডেল স্ট্যাম্প। বাংলাদেশে চলমান বিক্ষোভে সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেছে, ধারণা করা হচ্ছে- ২৮শে অক্টোবর সহিংসতাকারীরা ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক। মঙ্গলবার কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে এ নিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ যখন নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে তখন আমরা সকল রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যে, এ ধরনের সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য। আমরা তাদেরকে সহিংসতায় উস্কানি সৃষ্টি করতে পারে এমন বিবৃতি প্রদান বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, চলমান এই সহিংসতায় বেশ কয়েকজন মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, পথচারী ও বিরোধী দলের কর্মীরা রয়েছেন। গত ২৮শে অক্টোবর বিরোধী দলের বিক্ষোভকারীরা প্রধান বিচারপতিসহ অন্য কয়েকজন বিচারকদের বাসভবনে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৩০ জন সাংবাদিক বিক্ষোভকারী ও মোটরসাইকেলে চড়ে আসা মুখোশধারী ব্যক্তিদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলাকারীরা ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক ছিলেন। জানা গেছে, বিরোধী দলের বিক্ষোভের জবাবে পুলিশ রড, লাঠিসোটা, রাবার বুলেট এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিয়ে পাল্টা হামলা করেছে। তারা সারাদেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বাড়িতেও অভিযান চালিয়েছে এবং নির্বিচারে নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও আটক করেছে। পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয় বলেছে, পুলিশ যেনো খুব প্রয়োজন হলে তবেই যেন বলপ্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। এমন সিদ্ধান্তের পেছনে বৈধতা ও সতর্কতা থাকা জরুরি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, গত ৩০শে অক্টোবর প্রধান বিচারপতির বাসভবনে কথিত অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে ‘বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে’ অভিযুক্ত করা হয়। তিনি এখনও বন্দী রয়েছেন। গ্রেপ্তারের ভয়ে আরও বেশ কয়েকজন সিনিয়র বিরোধী নেতা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয় বলেছে, সরকারকে অবশ্যই এই সংকটময় সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা রোধে সর্বোচ্চ সংযম অবলম্বন করতে হবে এবং নির্বাচনের আগে, চলাকালীন এবং পরে সকল বাংলাদেশিদের জন্য মানবাধিকার সম্পূর্ণভাবে সমুন্নত রাখতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৩. হাসিনা-কাদেররা ২৮অক্টোবরের ঘটনায় বিএনপি’র ফখরুল-খসরুদের আউট দেয়ার জোড়ালো আবেদন করলেও তাতে সাড়া মিলছে না কিছুতেই। উপরন্তু থার্ড আম্পায়াররা উপরোক্ত সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে হাসিনা-কাদেরের দাবি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জরুরি নির্দেশনা পেয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা’য় এক কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে তা তুলে ধরা হয় সোমবার। ঢাকাস্থ প্রায় অর্ধশত বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের প্রধান (রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার বা চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স), জাতিসংঘের অধীন বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ পরিস্থিতি বিষয়ক ণ্ডরুত্বপূর্ণ ওই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ব্রিফিংয়ে ৩টি বিষয় খোলাসা করা হয়। এক. অতীতের ধারাবাহিকতায় ২৮শে অক্টোবর বিএনপি ‘ধংসাত্মক’ কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। একজন পুলিশকে স্পটে হত্যা করাসহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর ওপর উপর্যুপরি আক্রমণ হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ধৈর্য্যর সঙ্গে তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে, বাড়তি বল প্রয়োগ করেনি।
দুই. বিদ্যমান সংবিধান মেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। তাতে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের চেষ্টা করা হবে। নির্বাচনটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতায় অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার। সরকারের এমন অবস্থান মেনে বিএনপি চাইলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। এর বাইরে কিছু চিন্তা করলে আইন নিজস্ব গতিতেই চলবে। তিন. বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের যখন-তখন বিবৃতি নয়, বরং কোনো বক্তব্য থাকলে ভিয়েনা কনভেনশনের আলোকে সরকারের সঙ্গে আগে কথা বলতে হবে। এর বাইরে গিয়ে কোনো দূতাবাস (আগ বাড়িয়ে) কোনো ইস্যুতে বিবৃতি দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। সূত্রমতে, ২৮শে অক্টোবরের সব ঘটনার দায় একতরফাভাবে বিএনপি’র ঘাড়ে চাপানো, আসন্ন নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের অনড় অবস্থান এবং সর্বশেষ বিদেশিদের বক্তব্য-বিবৃতি প্রদানে নিরুৎসাহিত করার বয়ান শুনে ব্রিফিংয়ের প্রায় পুরোটা সময় নীরব ছিলেন কূটনীতিকরা। কাছের কিংবা দূরের, পূর্বের বা পশ্চিমের কোনো বন্ধু রাষ্ট্র কিংবা উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি।ব্রিফিংয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি ছাড়াও বৃটেন, রাশিয়া, চীন, জার্মানি, ফ্রান্স, কানাডা, ইতালি, জাপান, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, স্পেন, সিঙ্গাপুর, রাশিয়া, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ইইউ’র জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক এবং জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ৬ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। উল্লেখ্য, ২৮শে অক্টোবর বিশ্বের নানা প্রান্তে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাসণ্ডলোতে পাঠানো এক নোটে বলা হয়েছিল, বিএনপি প্রতিটি নির্বাচনের আগেঅসদুদ্দেশ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিঘ্নিত এবং অগণতান্ত্রিক শক্তিকে উৎসাহিত করতে সহিংসতা চালায়। ২৮শে অক্টোবরের সহিংসতা এরই ধারাবাহিকতা মাত্র। কিন্ত অ.লীগের এই আবেদনে সাড়া না দিয়ে আম্পায়াররা পূর্বের সিদ্ধান্তে হিমালয়ের মতো অটল থাকায় তাদের ওপর বেজায় নাখোশ হাসিনা-কাদের শিবির।
৪.অপরদিকে ফখরুল-খসরুরা আবেদন করার অগেই আঙ্গুল উঠিয়ে আম্পায়াররা হাসিনা-কাদেরকে আউটের সংকেত দিয়ে দিলেন। ২৮শে অক্টোবর শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশে সংঘর্ষের ঘটনায় সরকার ও পুলিশকে দায়ী করে ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। চিঠিতে বলা হয়, গত ২৮শে অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ চলাকালীন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু ব্যক্তি এবং ক্ষমতাসীন দলের ‘সন্ত্রাসীরা’ সহিংস হামলা চালায়, যার ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং জনজীবন ও সম্পদের ক্ষতি হয়। বিএনপির গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলনে লাখ লাখ মানুষ যোগ দিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এসব সমাবেশে এতো মানুষের সমাগম নজিরবিহীন। বাসে, ট্রেনে, হেঁটে, নদী পার হয়ে সকল পেশার এবং সকল স্তরের মানুষ দৃঢ়তার সাথে বিএনপির সমাবেশে যোগ দিয়েছে। চিঠিতে বিএনপি অভিযোগ করে যে, গত ২৮শে অক্টোবরের মহাসমাবেশ এবং ২৯শে অক্টোবরের শান্তিপূর্ণ হরতাল চলাকালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সদস্যদের আক্রমণে চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিএনপির ৬৯০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে এবং তিন হাজারের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ২০টি (এরই মধ্যে মামলা ও আসামীর সংখ্যা কয়েক ণ্ডণ বেড়েছে) মিথ্যা মামলাও দায়ের করা হয়েছে বলেও চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের মূলনীতি পরিত্যাগ করে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছেন। ২৮শে অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকার ও তার অনুগত পুলিশ বাহিনী বিএনপির মহাসমাবেশে ঢাকায় সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনা করে। সারাদেশের মানুষ যাতে ঢাকায় আসতে না পারে সেজন্য তারা মোবাইল চেক করতে রাস্তার পাশে চেকপয়েন্ট বসায়। কারও মোবাইল ঘেটে বিএনপির নেতা-কর্মীর পরিচয় পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া বিএনপির মহাসমাবেশস্থলে ইন্টারনেট সংযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগ প্রশাসন। সমাবেশ চলাকালীন তারা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মাইক্রোফোনের মাধ্যমে বক্তৃতা সম্প্রচারে বাধা দেয়। ফখরুল-খসরুদের এই আবেদনে মাঠের অম্পায়ার বরাবরের মতই নিঃশ্চুপ থাকলেও নিরপেক্ষ আম্পায়াররা আঙ্গুল উঁচিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ‘ইয়েস দিস ইজ আউট’।
৫. এবার এক নজরে দেখে নেয়া যাক ২৮ অক্টোবরের পূর্বে কোন দলের প্রস্তুতি কেমন ছিল। ১৬ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী যুবলীগ আয়োজিত যুব সমাবেশে ওবায়দুল কাদের বলেন,‘এবার বিএনপির পরিণতি শাপলা চত্বরের চেয়েও করুণ হবে’। তিনি আরো বলেছিলেন, ‘বিএনপিকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। শেখ হাসিনা কারও কাছে মাথা নত করেন না। আল্লাহ ছাড়া তিনি কাউকে ভয় পান না। ডিসেম্বরের চেয়ে এবার বিএনপির জন্য ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি হবে’। অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব গত এক মাস কিংবা এক বছর নয় গোটা রাজনৈতিক জীবনে কখনো কোনো উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। বরং তার শিক্ষা-সততা,রাজনৈতিক সৌজন্যতা ও ব্যক্তিগত সদাচারণ সর্ব মহলে প্রশংসিত। মির্জা ফখরুলের আটক ও চলমান রাজনীতি নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাকে উপদেষ্টা, খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন এভাবে- দেশের রাজনীতি বিপর্যয়ের দিকে এণ্ডচ্ছে এটা সবাই বোঝে। আমি নিজে বইপত্র লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও সচেতন নাগরিক হিসেবে চলমান পরিস্থিতির খবর না রেখে উপায় নেই, বিশেষত যেহেতু স্বল্পোন্নত দেশের জন্য পৃথিবীব্যাপী ভূরাজনীতির নতুন মেরূকরণ কী তাৎপর্য বহন করছে তা নিয়ে কিছু গবেষণা করছি। তবে সেটা এ লেখার বিষয় নয়। সুশীল সমাজের পক্ষ হয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ করার অবস্থানেও আমি নেই। তবে আমার মনে হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এ সময়ে আটক করা আগামী নির্বাচন পূর্ববর্তী পরিস্থিতির জন্য সমীচীন হয়নি। উভয় প্রধান দলের নেতৃস্থানীয় রাজনীতিকদের মধ্যে তিনিই বোধহয় ক্রমাগত এককভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা বলে আসছেন এবং সংঘাত সৃষ্টির মতো উস্কানিমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থেকেছেন। বাইরে থেকে ঘটনাপ্রবাহ দেখলে এবং তার বক্তব্য শুনলে অন্তত আপাতদৃষ্টে মনে হবে তিনি কোনো রকম সংঘাত এড়িয়ে শুধু স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণের মাধ্যমেই তার দলের লক্ষ্য অর্জন করতে চাইছেন; সেটা সফল হবে কিনা তা ভিন্ন প্রশ্ন। তার গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থাকলেও তা নিয়ে তো আমাদের মন্তব্য করার সুযোগ নেই; যা দৃশ্যমান তা নিয়েই শুধু তার রাজনীতিকে এ মুহূর্তে বিচার করতে পারি। এর বিপরীতে উভয় দলের অন্যান্য অনেক নেতার গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্য থেকে এ ধরনের অহিংস আন্দোলনের বদলে যুদ্ধংদেহী মনোভাবের পরিচয়ই বেশি দেখা যায়। এ অবস্থায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেয়ার মানে হলো সংঘাতময় পরিস্থিতির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়া। অবশ্য তিনি তার দলকে কতোখানি সংযত রাখার ক্ষমতা রাখেন তা আমার মতো রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ মানুষের জানার কথা নয়। নানা দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের খবরও আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। কিন্তু আপাতদৃষ্টে তার মতো ঘোষিত একজন অহিংসতাবাদী মূল রাজনৈতিক নেতার অনুপস্থিতি চলমান রাজনীতির সংঘাত প্রশমনের সহায়ক হবে না বলেই মনে হওয়ার কথা। চলমান রাজনীতির সমাধান অহিংস পথে হবে না সংঘাতের মাধ্যমে ফয়সালা হবে তার ওপর নির্ভর করবে দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ: মূল্যস্ফীতির চাপ নির্দিষ্ট বা বাঁধা আয়ের মানুষের ওপর আরও কতো দুর্বিষহ হয়ে উঠবে, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি কতোখানি ধরে রাখা যাবে এবং আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে আদৌ এণ্ডতে পারবো কিনা। এই বড় প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুলের আটকের ঘটনাকে হয়তো অতটা ণ্ডরুত্বপূর্ণ মনে নাও হতে পারে, কিন্তু এটা বড় কিছুর অনুঘটক হিসেবে কাজ করলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। তাকে আবার তার অহিংস রাজনীতির ধারায় ধরে রাখার প্রচেষ্টায় ফিরে যেতে দেয়াই দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য হয়তো মঙ্গলকর হবে।
৬.গণভবনে বেলজিয়াম সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ১৬০ কি.মি গতির বাউন্সার ডেলিভারি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সে (পিটার হাস) বসে ডিনার খাক, সে বসে ডায়ালগ করুক। তিনি আরো বলেন, ‘যারা খুন করার পরও বলে, ডায়ালগ করতে হবে। কার সঙ্গে ডায়ালগ করতে হবে? ট্রাম্প সাহেবের সঙ্গে কি বাইডেন ডায়ালগ করতেছে? যেদিন ট্রাম্পের সঙ্গে বাইডেন ডায়ালগ করবেন, সেদিন আমিও করব।’ পাঠক কী বুঝলেন?
একটি ব্যাপার খুবই লক্ষনীয় যে, প্রধানমন্ত্রী যে দিন বিএনপিকে এবার শিক্ষা দেয়ার কথা বলেছেন সে দিন থেকে যুবলীগ-ছাত্রলীগ পূর্বের ন্যয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়ী-ঘড় ও প্রতিষ্ঠানে হামলা শুরু করেছে। আমেরিকার ভিসা নীতি ঘোষণার পর থেকে এ ধরণের হামলা এতদিন বন্ধ ছিল। ২৮অক্টোবরের সহিংস ঘটনার পর থেকে পুলিশ’র একটি অংশ এবং আ.লীগ কার্যত পুরনো ধারায় প্রত্যাবর্তন করেছে বলেই মনে হচ্ছে। বিএনপিকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের বাইরে রাখতে সরকার যে মরণ কামড় দিতে পারে তা অবশ্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অনুমিতই ছিল। তবে সে কামড় যে এতটা নগ্নরুপে দেবে তা হয়ত অনেকেই ভাবতে পারে নি। সূত্রমতে পুলিশের একটি অংশ প্রথমে সরকারের এই পরিকল্পনায় তেমন একটা সাড়া দেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে সরকার অনসার-ভিডিপিকে তদন্ত ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেয়ার বিষয়টি সামনে আনে। তবে পুলিশের তীব্র বিরোধিতার মুখে সরকার সিদ্ধান্ত বদল করে। এসবের পেছনে ণ্ডরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করে পার্শ্ববর্তী দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এবং সিভিল প্রশাসনের একটি শীর্ষ সিন্ডিকেট।উচ্চ পর্যায়ের একটি কূটনৈতিক সূত্র আমার দিনকে নিশ্চিত করেছে এসব তথ্য।
শেষ কথা:শাপলা চত্বরের মতো ঘটনা ঘটানোর হুমকি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। শাপলা চত্বরের মতোই বিএনপির সমাবেশস্থলে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে সমাবেশ পন্ড করে দেয়া হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে মানব জমিন এর খবরে বলা হয়েছে যে, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ কাকরাইল উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের পাশে ইটপাটকেল ছোঁড়াছুড়ি শুরু হয়। মূলত আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে যোগ দিতে শত শত নেতাকর্মী নিয়ে গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের গাড়িবহর কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনের মোড়ে আসলে বিএনপিকর্মীরা তাদের ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দেন। তখন দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যা পরে সহিংসতায় রূপ নেয়। ওই সময় ঘটনাস্থলে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার উপস্থিত হয়ে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেন। পরে বিজিবি, এজিবি ও একাধিক এপিসি সহ পুরো এলাকায় সর্বাত্মক অভিযান শুরু হয়। এতে পুরো এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে বিএনপির হাজার হাজার নেত-কর্মীতে ঠাসা এ রাস্তায় আওয়ামী লীগের গাড়িবহর কেন আসতে দিল পুলিশ? বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করে সংঘাত এড়ানোর উদ্যোগ কেন নেয়নি পুলিশ। এ ব্যর্থতার দায় কি পুলিশ এড়াতে পারে? আসল ব্যাপার হচ্ছে, ওবায়দুল কাদেরের ঘোষণা অনুযায়ী বিরোধীদের দমনে এটা ছিল (জামায়াতকে সমাবেশ করতে দেয়াটাও) সরকারের পূর্ব পরিকল্পনার অংশ। এর মাধ্যমে সরকার পশ্চিমাদের এই বার্তা দিতে চেয়েছিল যে, দেখ তোমরা কাদেরকে সর্মথন করছ। জামাত বিএনপি আবার এক হয়ে সন্ত্রাস শুরু করেছে। এরা ক্ষমতায় এলে এ দেশ মৌলবাদ-জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য নষ্ট হবে। সূতরাং ভুল পথ ছেড়ে এবার সঠিক পথে ফিরে এসো। কিন্তু বিধিবাম, হাসিনা-কাদের সরকারের এই দুর্বল চিত্র্যনাট্য বুঝতে একদমই ভুল করেন নি শ্যান-সতর্ক দৃষ্টি রাখা আম্পায়াররা।
দেশের প্রতিটি নাগরিকের যে কোনো দাবিতে আন্দোলন করার সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার এবং বৈধতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও শিক্ষার্থী,শ্রমিক কিংবা রাজনৈতিক আন্দোলন দমনে যুবলীগ,ছাত্রলীগ ও আ.লীগ রাম দা,হাতুড়ি,লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ইচ্ছামত পিটিয়ে,ণ্ডলি চালিয়ে মেরে ফেললেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় না। মামলা হয় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে, ভিকটিমের বিরুদ্ধে। এর পর নিরপরাধ বিরোধী নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে দেয়া আর আক্রমণকারীদের পুরুষ্কৃত করা যেন অলিখিত আইনে পরিণত হয়েছে। যুবলীগ,ছাত্রলীগ ও আ.লীগ এখন পুলিশের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। সরকার যে প্রক্রিয়ায় বিএনপির আন্দোলন দমনের পথ বেছে নিয়েছে তা কি সাংবিধানিক-আইনসম্মত? দেশের আইন ও সংবিধান কি শুধু সরকার ও তাদের মদদপুষ্টদের জন্য? বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা কি ভিন গ্রহ থেকে এসেছেন। তারা কি এদেশের নাগরিক নয়? পুলিশের মনে রাখা উচিৎ যে বিএনপি দেশের অন্যতম প্রধান জনপ্রিয় দল। বিএনপি কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল নয়। সরকার না চাইলেও পুলিশের উচিৎ বিএনপি তথা বিরোধী নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ন্যূনতম আইনগত সদাচারণ করা। বর্তমান সার্বিক প্রেক্ষাপটে প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের এটুকু সচেতনতা থাকা খুবই জরুরী যে তারা কোনো সরকারের বাহিনী নয়, রাষ্ট্রীয় বাহিনী। সরকার আসবে যাবে কিন্তু বাংলাদেশ চিরস্থায়ী। এ দেশটা আপনার-আমার সবার। কোনো সুস্থ মানুষই ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে অবজ্ঞা করতে পারেন না।
২৮অক্টোবরের সহিংস ঘটনার পর কিছু কথিত মিডিয়া,সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবি যারা বিএনপির আন্দোলনের কৌশল, দক্ষতা ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাদেরকে বলব সত্য বলতে না পারলেও মিথ্যার আশ্রয় থেকে বিরত থাকুন। মহান আল্লাহ’র দেয়া বিবেকের স্বাধীনতাকে আর পরাধীন করবেন না।বাস্তবতা হচ্ছে, একটি কর্তৃত্ববাদী সরকারের বেপরোয়া দমন-পীড়নের মুখে দাঁড়িয়ে তারেক-ফখরুলের যৌথ নেতৃত্বে নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ যেভাবে সংগঠিত হয়েছে দেশের রাজনীতির ইতিহাসে তা মাইল ফলক হয়ে থাকবে।
মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপির দীর্ঘ সময়ের শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফুর্ত আন্দোলন যখন একটি সফল পরিণতির মূহুর্তে অবস্থান করছিল ঠিক সে সময় ক্ষমতা হারানোর ভয়ে সরকার নিরস্ত্র-শান্তিকামী আন্দোলনকারীদের ওপর নৃশংস ও নগ্ন আক্রমণ চালাল। এ ঘটনা আমাদেরকে ৭১ এর ২৫ মার্চ কালরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সেদিন স্বধীনতাকামী নিরস্ত্র-নিরপরাধ মানুষের ওপর ক্ষমতালোভী ইয়াহিয়া সরকারের নৃশংস-নির্মম বর্বরতাই বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিল। তবে কি ২৮অক্টোবরের সহিংস ঘটনা গণতন্ত্রকামী মানুষের বিজয় ত্বরান্বিত করবে? কারণ, বিশ্ব বলছে হামলাকারীরা ক্ষমতাসীন হাসিনার দলের মুখোশধারী সমর্থক ছিল। -লেখক: সাংবাদিক।