আজ শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আজ শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

শ্রীলঙ্কা থেকে সব ম্যাচ সরিয়ে নিতে চায় পাকিস্তান

হাইব্রিড মডেলে আয়োজিত এবারে এশিয়া কাপের বেশির ভাগ ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। বৃষ্টির মৌসুম না চললেও শেষ কিছুদিন দেশটিতে অতি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গ্রুপ পর্বে ইতিমধ্যে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে বৃষ্টিতে। এ কারণে সুপার ফোরের শ্রীলঙ্কা পর্বের আগে বৃষ্টি বাধা এড়াতে ভেন্যু পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। আর বৃষ্টির বাগড়ার পর এবার এশিয়া কাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কা থেকে সরিয়ে নিতে বলছেন আসরের মূল আয়োজক পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান জাকা আশরাফ। এ ব্যাপারে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) চেয়ারম্যান ও বিসিসিআইয়ের সচিব জয় শাহর সঙ্গেও আশরাফের কথা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকেট পাকিস্তান। বৃষ্টির কারণে ভারত ও পাকিস্তানের পাল্লেকেলের ম্যাচটি শেষ হতে পারেনি, এক ইনিংস খেলা হওয়ার পর পরিত্যক্ত হয় সেটি। গতকাল নেপাল-ভারতের মধ্যকার ম্যাচও বারবার বিঘ্নিত হয় বৃষ্টিতে। সুপার ফোরে লাহোরে প্রথম ম্যাচটি হওয়ার পর বাকি ম্যাচগুলো হওয়ার কথা কলম্বোতে। ফাইনালও হওয়ার কথা সেখানেই।

তবে সেখানে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে সামনের দিনগুলোতে। সে ম্যাচগুলো অন্য ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়া হবে কি না, এ ব্যাপারে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এদিকে ক্রিকেট পাকিস্তান বলছে, বৃষ্টির পূর্বাভাসের কারণে সুপার ফোরের ম্যাচগুলো পাকিস্তানে সরিয়ে নিতে বলেছেন জাকা আশরাফ। টেলিফোনে জয় শাহর সঙ্গে কথা হয়েছে তার। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামনের ম্যাচগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও পর্যালোচনা করতে বলেছেন তিনি। অবশ্য রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে পাকিস্তান সফরে ভারত যাবে না বলেই শ্রীলঙ্কাকে সহ-আয়োজক হিসেবে নেওয়া হয়েছে, এমনিতে এবারের আসরের মূল আয়োজক পাকিস্তানই। সুপার ফোরে দুই দলই উঠলে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচটি দুবাইয়ে আয়োজন করা যেতে পারে বলেও প্রস্তাব দিয়েছেন আশরাফ। ক্রিকেট পাকিস্তানের দাবি, আশরাফের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখবেন বলে জানিয়েছেন শাহ। টুর্নামেন্টের মাঝপথে আবহাওয়ার কারণে ভেন্যু বদলানোর প্রস্তাব এলেও বাস্তবতা স্বাভাবিকভাবেই কঠিন। সুপার ফোরের ম্যাচগুলো কলম্বোয় না হলে বিকল্প ভেন্যু হতে পারে ক্যান্ডি, ডাম্বুলা বা হাম্বানটোটা। তবে ক্যান্ডিতেই ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচটি পণ্ড হয়ে যায়। সেখানে আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। এবারের এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কায় গ্রুপপর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে ক্যান্ডির পাল্লেকেল্লে স্টেডিয়ামে। ফাইনালসহ সুপার ফোরের ৫টি ম্যাচ হওয়ার কথা কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে। কিন্তু কলম্বো শহরের উত্তরাঞ্চলে গত কিছুদিন ধরে ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যা হয়েছে। প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম থেকে বন্যার অঞ্চলটা খুব বেশি দূরে নয়। স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আরও দুই সপ্তাহ টানা বৃষ্টি হবে কলম্বোয়। সেটা হলে, ভারত-পাকিস্তান তো বটেই সুপার ফোরের ম্যাচগুলোও ভেসে যাবে। এতে এসিসি ও প্রধান সমপ্রচারকারী চ্যানেল স্টার স্পোর্টস বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে । এ কারণেই জরুরী ভিত্তিতে ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য এসিসির সঙ্গে আলোচনায় বসে এশিয়া কাপের সমপ্রচারকারী সংস্থা ডিজনি স্টার। যদিও কলম্বোয় বৃষ্টির মৌসুম শুরু হয় অক্টোবর থেকে। গত ৯ বছরে সেপ্টেম্বর মাসে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এখন পর্যন্ত ৯ টি ম্যাচ আয়োজিত হয়। যেখানে মাত্র দুটি ম্যাচই বৃষ্টি বাধায় পড়েছিল। যদিও ফল হয়েছে সব ম্যাচের। তবে এবার আবহাওয়া সম্পূর্ণ বিরুপ আচরণ করছে। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর মতে, সুপার ফোরে নির্ধারিত সূচির দিন কলম্বোতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলে আবার  বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিকল্প ভেন্যু হিসেবে ক্যান্ডি থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরের শহর ডাম্বুলার নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। এই মাঠেই ২০১০ সালের এশিয়া কাপের ফাইনাল মাঠে গড়িয়েছিল।  তবে এতো দ্রুত সময়ের মধ্যে এশিয়া কাপের ম্যাচ আয়োজনে মাঠটি প্রস্তুত নয়। এছাড়া সেখানে ফ্লাডলাইট ঠিক করার কাজও চলছে এখন। আর সেখানকার আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে ভারতের অসন্তষ্টি তো রয়েছেই।   ডাম্বুলা না হলে ‘শেষ বিকল্প’ হতে পারতো হাম্বানটোটা। কিন্তু শ্রীলঙ্কার দক্ষিণের এই বন্দর নগরীতে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামটির  কাছাকাছি কোনো হোটেল নেই। জঙ্গল ঘেঁষা এই মাঠের আবাসন ব্যবস্থাও সন্তোষজনক নয়।  হাম্বানটোটা নিয়ে আপত্তি রয়েছে সমপ্রচারকারী চ্যানেল স্টার স্পোর্টসেরও। বাকি ম্যাচগুলো দুটি শহরে আয়োজনে আগ্রহী নয় তারা। কারণ হিসেবে সমপ্রচারের সরঞ্জাম আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি ঝামেলার কথা জানায় তারা। এছাড়া সড়ক পথে তাদের অতিরিক্ত একটি ভেন্যুতে সমপ্রচার সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম, ক্যামেরাপার্সন ও অন্যান্য লোকবল পাঠানোর ঝামেলা নিতে চায় না ভারতীয় এই চ্যানেলটি। সবমিলিয়ে শেষ পর্যন্ত কলম্বোর আরেক স্টেডিয়াম পিসারা ওভালের কপাল খুলে যেতে পারে। এই মাঠে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ওয়ানডে হয়েছে ২০০৭ সালে। যেখানে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ওভাল না হলে বাকি থাকে সিংহলিজ স্টেডিয়াম। যে মাঠে সর্বশেষ ওয়ানডে হয়েছে ৩ বছর আগে।

 

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin