আজ বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আজ বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

শুভ জন্মাষ্টমী আজ

সনাতন ধর্মের মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ’র শুভ জন্মাষ্টমী আজ। দ্বাপর যুগে এ মহাপুণ্য তিথিতে মথুরা নগরীতে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। বন্দি দেবকী ও বাসুদেবের বেদনাহত ক্রোড়ে তিনি আবির্ভূত হন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। আজ সরকারি ছুটির দিন।

সনাতন শাস্ত্র অনুসারে, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন করতেই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এ পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। অত্যাচারীর বিরুদ্ধে দুর্বলের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিহীন পৃথিবীতে শান্তি আনতেই শান্তিদাতা শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব। তার শিক্ষা হলো-অন্যায়কে পরাভূত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। তার জন্মের সময় এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পাপ ও অরাজকতায় পরিপূর্ণ ছিল। নানা ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে শ্রীকৃষ্ণ মানব জাতির কাছে জীবন ধারণের অনন্য উদাহরণ রেখে গেছেন। তার বাণী হাজার হাজার বছর ধরে আলোড়িত করছে বিশ্বকে।

হিন্দু পঞ্জিকা মতে, ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার হয়ে শ্রীকৃষ্ণ এদিন জন্ম নিয়েছিলেন মাতা দেবকীর গর্ভে। ছোটবেলায় তাকে সবাই আদর করে গোপাল বলে ডাকত। তাই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে এদিন শ্রীকৃষ্ণ বা গোপাল পূজার আয়োজন করা হয়। তিনি গোবর্ধন পর্বতকে এক আঙুলে তুলেছিলেন বলে তার আরেক নাম গোবর্ধন। আজ দেশব্যাপী ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা, ধর্মীয় আড়ম্বর ও আনুষ্ঠানিকতায় শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হবে।

এদিন সব অকল্যাণ ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে অন্তরাত্মাকে জাগ্রত করার শপথ নেবেন কৃষ্ণপ্রেমীরা। দিনটি উপলক্ষ্যে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে কেন্দ্রীয়ভাবে দুদিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-আজ সকাল ৯টায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় গীতাযজ্ঞ এবং বেলা ৩টায় ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমী মিছিল ও রাতে শ্রীকৃষ্ণ পূজা।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশের সভাপতি সত্য রঞ্জন বাড়ৈ যুগান্তরকে বলেন, গভীর ভক্তি, শ্রদ্ধা ও উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে হিন্দু ধর্মের প্রাণপুরুষ শ্রীকৃষ্ণ’র জন্মদিন ‘শুভ জন্মাষ্টমী’ উদ্যাপিত হবে। গীতাযজ্ঞ, আনন্দ শোভাযাত্রা, কৃষ্ণপূজা, আলোচনাসভা, কীর্তন ও প্রসাদ বিতরণসহ নানা আচার পালন করবে বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জেএল ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ, সাধারণ সম্পাদক রমেন মণ্ডল দিবসটি উপলক্ষ্যে হিন্দু সম্প্রদায়সহ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দেশবাসীকে শুভেছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এছাড়া শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

 

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin