আজ রবিবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
আজ রবিবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি সিপিজের

প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামানের দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংগঠনটি বলেছে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে সাংবাদিক শামসুজ্জামানকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। তাঁর কাজ সংক্রান্ত তদন্ত বন্ধ করতে হবে এবং প্রথম আলো পত্রিকার কর্মীরা যেন হস্তক্ষেপ বা প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার ভয় ছাড়াই খবর তৈরি করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে। বুধবার সিপিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

বুধবার ভোররাত চারটার দিকে সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের আমবাগান এলাকায় শামসুজ্জামানের বাসায় যান ১৪-১৫ ব্যক্তি। নিজেদের সিআইডি সদস্য পরিচয় দিয়ে শামসুজ্জামানের থাকার কক্ষ তল্লাশি করে তাঁর ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, দুটি মুঠোফোন ও একটি পোর্টেবল হার্ডডিস্ক নিয়ে যান। পরে শামসুজ্জামানকে নিয়ে যান তাঁরা।

সিপিজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাত ২টা ১৫ মিনিটে ঢাকার তেজগাঁও থানায় একটি মামলার তথ্য পাওয়া যায়। স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওই মামলা করেছেন। কর্তৃপক্ষ সেটি তদন্ত করার কথা বলেছে। বুধবার রাত পর্যন্ত শামসুজ্জামানকে আদালতে নেওয়া হয়নি।

নিউ ইয়র্কে সিপিজের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর কার্লোস মার্টিনেজ দে লা সেরনা বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক শামসুজ্জামান শামসকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো, যাতে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে শামসকে মুক্তি দিতে হবে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। যাঁরা সরকারের সমালোচনা করেন, তাঁদের কণ্ঠরোধে এই আইন বার বার ব্যবহার করা হচ্ছে।’

গত ২৬ মার্চ প্রথম আলো অনলাইনের একটি প্রতিবেদন ফেসবুকে প্রকাশের সময় দিনমজুর জাকির হোসেনের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি ‘কার্ড’ তৈরি করা হয়। সেখানে উদ্ধৃতিদাতা হিসেবে দিনমজুর জাকির হোসেনের নাম থাকলেও ভুল করে ছবি দেওয়া হয় একটি শিশুর। পোস্ট দেওয়ার ১৭ মিনিটের মাথায় অসংগতিটি নজরে আসে এবং দ্রুত তা প্রত্যাহার করা হয়। পাশাপাশি প্রতিবেদন সংশোধন করে সংশোধনীর বিষয়টি উল্লেখসহ পরে আবার অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনের কোথাও বলা হয়নি যে উক্তিটি ওই শিশুর; বরং স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে, উক্তিটি দিনমজুর জাকির হোসেনের।

ওই প্রতিবেদনের প্রতিবেদক ছিলেন শামসুজ্জামান। এই ঘটনার জের ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন সৈয়দ মো. গোলাম কিবরিয়া নামের এক ব্যক্তি।

সিপিজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক একাধিকবার বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযোগ দায়েরের পর অবিলম্বে কোনো সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হবে না। কিন্তু বারবার বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করে কারাদণ্ড এবং সাংবাদিকদেরকে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে।

শামসুজ্জামানের বিষয়ে জানতে সিপিজের পক্ষ থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া দেয়নি ডিএমপি। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা কিবরিয়ার সঙ্গে সিপিজে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin