আজ সোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
আজ সোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মার্কিন ভিসা নীতির পূর্বাপর: আমাদের জন্য আশির্বাদ নাকি অভিশাপ

মার্কিন ভিসা নীতি ঘোষণার পর থেকে এ নিয়ে নানা রকম বিশ্লেষণ চলছে। এটিকে সাধারণভাবে দেখলে মনে হবে আমেরিকা এখানে গণতন্ত্র,মাবাধিকার, মত প্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে ত্রাণকর্তার ভূমিকা নিয়েছে। সত্যিই হয়ত তারা (আমেরিকা) চাইছে এসবের অবাধ চর্চা হোক। কিন্ত আমেরিকার বিগত অন্তত চার দশকের বিদেশ নীতির ইতিহাস এবং ভিসা নীতি ঘোষণার পূর্বাপর অত্যন্ত গভীর ও নির্মোহভাবে পর্যালোচনা করলে অনেক গুলো যদি-কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। এসবের বিশ্লেষণ নিয়েই আমার এই লেখা।
১.গণতান্ত্রিকভাবে মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নির্বাচনের মাধ্যমে ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি সরকার তার মেয়াদ শেষে রাষ্ট্রপতির নেতৃাত্বাধীন তত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। কিন্তু রাষ্টপতি যেহেতু বিএনপি মনোনীত তাই আ.লীগ তাকে মেনে নেয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে বন্দুকের মুখে রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ’র নেতৃাত্বাধীন তত্বাবধায়ক সরকার প্রধানকে ১/১১’র ঘটনায় হটানোর মধ্যদিয়ে এ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপের সূচনা করে আমেরিকা। রাষ্ট্রপতি ও তত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ইয়াজ উদ্দিন আহমেদকে ক্ষমতা থেকে সরাতে একদমই বেগ পেতে হয়নি। সেনাবাহিনীকে জাতিসংঘের নামে একটি ভিত্তিহীন ই-মেল চিঠি দিয়ে জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত বৈধ সরকারের রাষ্ট্রপতিকে আঙ্গুলের ইশারায় ফেলে দিয়েছিল আমেরিকা। প্রকৃত পক্ষে এর পর থেকেই বাংলাদেশে শেখ হাসিনা তথা আ.লীগের যুগ চলছে এবং ভারত পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। এর বিনিময়ে ভারতের প্রত্যক্ষ মদদে হাসিনা জনগণকে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসাতে ভারতের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট প্রণব মূখার্জি কী ভূমিকা রেখেছিলেন সেসব তার ঞযব ঈড়ধষরঃরড়হ ণবধৎং (১১৯৬-২০১২) বইয়ে নিজেই সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন। কার্যত ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আ.লীগ সরকার গঠন করলেও বিরোধীদের প্রতি সরকার এতটা সহিংস হয়ে ওঠেনি। বরং সরকারের মনোযোগের কেন্দ্রে ছিল দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার জন্য রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সমূহকে করায়ত্ত করার পাশাপাশি প্রতিবেশী ও বিদেশী শক্তি সমূহের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করা। এ ক্ষেত্রে বিএনপি সরকারামলে দেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এবং দুর্নীতি বিস্তারের বিষয়টিকে তারা তুলে ধরে। পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে হাসিনা সরকার বিশ্ব সম্প্রদায়ের আশাতীত সাড়া লাভ করতে সক্ষম হয় এবং ক্ষমতা দীর্ঘ স্থায়ী করার জাল বুনতে শুরু করে। প্রথমেই প্রধান রাাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিকে সরকার তার পাতা জালে বন্দি করতে বিচার ভিাগ ও পুলিশকে কাজে লাগাতে পেরেছে দারুন সফলতার সঙ্গে। এজন্য হাসিনা সরকার দেশের ইতিহাসে নিষ্ঠুরতম শাসকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়। কারণ দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় হাসিনা খুব সচেতনতার সঙ্গে এটা বুঝতে পেরেছিল যে জনগণের ভোটে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনা একদমই ক্ষীণ। আর তাই তিনি স্বনির্বাচিত হওয়ার জন্য সমস্ত নীতি-আদর্শকে ব্র্যাকেট বন্দি করে যা কিছু করা দরকার তা-ই করেছেন দু’চোখ বন্ধ করে। বিরোধী মত বিশেষত বিএনপিকে দমনে হাসিনা রাষ্ট্রীয় যন্ত্রকে ব্যবহার করেছেন উন্মাদের মতো। বিরোধীদের হত্যা-গুম, মিথ্যা-গায়েবী মামলার উৎসবের মধ্যেই সীমিত ছিল না সে উন্মদনা। বরঞ্চ এই উন্মাদনার সব থেকে বেশী নির্মম-নিষ্ঠুর শিকার হয়েছে রাষ্ট্র্ নিজেই। দলীয় করণের সহিংস থাবায় গণতান্ত্রিক চরিত্র হারিয়ে রাষ্ট্র এখন হাসিনাময় হয়ে ওঠেছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি এখন তার মালিককেই (জনগণ) চিনতে পারছে না। গুরুতর অসুস্থ মানুষ যেমন তার প্রিয়জনকে চেনার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিরোধী শক্তিকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে নির্বাচনের নামে এ দেশে যা হয়েছে তা কি গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ফেরিওয়ালারা এতদিন দেখেন নি। তাদের সাম্প্রতিক তৎপরতা কি সত্যিই আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য। না কি তাদের নিজস্ব স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বঞ্চিত বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আবেগকে ব্যবহার করতে ছাইছে সেদিকেও সজাগ দৃৃষ্টি রাখতে হবে আমাদের।
২.স্বাধীনতা লাভের ৫১বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো সরকারই বিরোধীদের দমনে এতটা বেপরোয়া হয়ে ওঠেনি। রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক তার স্বভাবিক অধিকার এবং স্বাধীনতার সুফল থেকে সম্পূর্ণরুপে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে এটাও স্বীকার করতেই হবে যে বিএনপির বেশ কিছু রাজনৈতিক ভুল হাসিনার স্বনির্বাচিত মসনদ টিকিয়ে রাখতে অফুরান রসদ যুগিয়েছে। বিডিআর ট্র্যাজেডি,গণজাগরণ মঞ্চ এবং শাপলা চত্বরের ঘটনাগুলো সরকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বদলে আরো বেশী এগিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি-জামাত সরকারামলের ১০ ট্রাক অস্ত্র, গেনেড হামলা এবং সারা দেশে একযুগে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা অনেক বড় জ্বালানি হিসেবে এখনো কাজ করছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে বিজয়ী হতে হলে বিএনপিকে এসবের আরো গভীরে প্রবেশ করতে হবে। কারা বা কোন শক্তি সমূহ সরকারের অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা পালন করছে তা বিস্তারিত বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।
৩.২০১৪ এবং ২০১৮ সালে নির্বাচনের নামে এ দেশে কি হয়েছে এর চেয়েও বড় বিষয় হল শেখ হাসিনা সরকার তার ক্ষমতাকে দীর্ঘ স্থায়ী ও নিষ্কন্টক করতে বিরোধীদের দমনে যে নির্মম-নিষ্ঠুর উপায় বেছে নিয়েছে তা গোটা বিশ্বই প্রত্যক্ষ করেছে। সরকারে কথিত উন্নয়নের গণতন্ত্রের আড়ালে শেখ হাসিনার ইচ্ছা-অনিচ্ছার পরিপুরক হয়ে ওঠেছে দেশের আইন ও সংবিধান। প্রায় দেড় দশক ধরে সরকারের নৃশংস-বর্বর অত্যাচারের শিকার বিরোধীদের হাহাকার ও আর্তনাদ চলছে। কিন্তু গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ফেরিওয়ালারা এতদিন তা দেখেও না দেখার ভান করেছেন। এখন যারা মনে করছেন যে আমেরিকা এবার গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধার করে দেবেন। তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। কার্যত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে চীন ও তার মিত্রদের দ্বারা যাতে কোনো ভাবেই আমেরিকার প্রভাব ক্ষুন্ন না হয় সে দিকেই তাদের মূল লক্ষ্য। এ জন্যই তারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বিষয়টিকে সামনে এনে সরকারকে চাপে রাখছেন। হাসিনা সরকার যে করেই হোক আমেরিকার প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হলে আগামী জাতীয় নির্বাচন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে আমেরিকার ভূমিকা কী হবে তা সহজেই অনুমেয়।

৪.অতি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া তাঁর সফরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন যে ‘কেয়ারটেকার সরকার’ গঠন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়’।এ পর্যায়ে তার এই বক্তব্য একদিকে ভোটার বিহীন আরেকটি বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজনে হাসিনা সরকারকে দারুনভাবে উৎসাহিত করেছে অন্যদিকে গণতন্ত্রকামী প্রতিটি মানুষকে আশাহত করেছে। উজরা জেয়া জবাবটি সরাসরি না দিয়ে কূটনৈতিক ভাষায় দিতে পারতেন অথবা এড়িয়ে যেতে পারতেন যা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে পারত। আপাত দৃষ্টিতে তার এ সফর সরকারের উপর চাপ হ্রাস পেয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। কারণ উজরা জেয়ার সফর শেষে সরকার ও পুলিশ বিরোধীদের দমনে পুরনো ধারায় ফিরে গেছে। গতকাল বিএনপির পদযাত্রায় সরকার দলীয় লোকজন এবং পুলিশ সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বিরোধী নেতা-কর্মীদের উপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। কয়েকটি জেলা অফিসে হামলা ও ভাংচুর করেছে। এতে শত শত নেতা-কর্মী আহত এবং নড়াইল ও লক্ষীপুরে দু’জনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। শুধু মেরেই ক্ষান্ত হয়নি। হাজার হাজর নেতা কর্মীর নামে মামলা দেয়া হচ্ছে। অবাক ব্যাপার হচ্ছে এসব ঘটনার ৪৮ ঘন্টা পরও আমেরিকা, জাতিসংঘ বা পশ্চিমাদের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। অথচ ঢাকা -১৭ আসনের উপ নির্বচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমকে কিল-ঘুঁষি মারার ১২ ঘন্টার মধ্যে আমেরিকা-জাতিসংঘ প্রতিক্রিয়া-উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ইইউসহ ১২টি দেশের রাষ্ট্রদূত নিন্দা জ্ঞাপন করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির দু’জনকে প্রকাশ্যে হত্যা এবং শত শত নেতা-কর্মীকে আহত করার ঘটনা থেকেও হিরো আলমের কিল-ঘুঁষি মারার ঘটনাটি পশ্চিমাদের নিকট কেন বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল।

৫.আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, আজকের হাসিনা সরকারকে ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানবে পরিণত করার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করা আমেরিকা বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি হলেও এখন আর আগের মত একক ক্ষমতার অধিকারি নয়। যা ইচ্ছা তা করার ক্ষমতা তারা অনেক আগেই হারিয়েছে। প্রকৃত পক্ষে আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদে ১/১১’র ঘটনা পরবর্তী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে হাসিনা ক্ষমতারোহন করলেও ২০১৪ ও ২০১৮’র বিতর্কিত নির্বাচনকে তারা স্বীকৃতি দেয়নি। তখন হাসিনা আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও রাশিয়াকে কাছে ভিড়িয়েছে। আর হাসিনার প্রতি আমেরিকার মিত্র ভারতের সরাসরি আশির্বাদ তো সব সময়ই রয়েছে। অন্যদিকে ১৪’র নির্বাচনের পর থেকে সরকার আমেরিকাকে পাত্তা না দেয়ার বহু নজির আমাদের সামনে রয়েছে। রাষ্ট্রদূত ড্যান মজেনাকে কাজের মেয়ে মর্জিনা বলে ঠাট্টা করা থেকে শুরু করে মার্সা বার্নিকাটের উপর সশস্ত্র হামলা, মায়ের কান্না কর্তৃক পিটার হাসকে ঘিরে ধরা এবং গত কয়েক মাস ধরে অব্যাহতভাবে আমেরিকার গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন হাসিনা ও তার মন্ত্রীরা।
৬.মার্কিন ভিসা নীতির আওতায় কারা পড়বেন তা অত্যন্ত স্পষ্ট করে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও আ.লীগ এবং মন্ত্রীরা অব্যাহতভাবে প্রচার করছেন যে নির্বাচনে বাধা দিলে বিএনপি ভিসা নিষেধাঙ্গায় পড়বে। প্রশ্ন হচ্ছে চুরি-চামারি বন্ধে কিংবা চোরকে শাস্তি দিতে যদি কোনো আইন করা হয় সে আইনে চোরকে বা চুরির কাজে বাধা প্রদানকারি কীভাবে শাস্তি পেতে পারেন। শেখ হাসিনার অধীনে আরেকটি প্রহসনের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে কেউ যদি একটি অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে তা ঠেকিয়ে দিতে পারে তাহলে ভবিষ্যতে তাদের জন্য মার্কিন ভিসা নীতি অভিশাপ নয় বরং আশির্বাদ হয়ে ওঠবে। ভিসা নীতি বিরোধী দলের জন্যও প্রযোজ্য হবে বলে যা বলা হয়েছে এটার পেছনে একটা সাধারণ কূটনীনৈতিক বিষয় ছাড়া অন্যকিছু থাকার বাস্তব কোনো কারণ দেখছি না। সত্যিকার অর্থে আ.লীগ তথা সরকার মার্কিন ভিসা নীতির একমাত্র ভিকটিম হলেও তারা চতুরতার সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত করতে সফল হয়েছেন। বিএনপির প্রথম সারির অনেক নেতাই গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভিসা নীতি নিয়ে আশংকার কথা প্রকাশ করেছেন। আমি মনে করি ওই নেতাদের অবিমৃষ্যকারিতা সাধারণ নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত করছে। যেসব বিএনপি নেতা গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভিসা নীতি নিয়ে আশংকার কথা প্রকাশ করেছেন তাদের অন্তত এটুকু সচেতনতা ও জ্ঞান থাকা দরকার যে এটা আন্তর্জাতিক কূটনীতির অংশমাত্র।

শেষ কথা: গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রশ্নে পশ্চিমাদের চাওয়া এবং বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চাওয়া কাকতালীয়ভাবে মিলে যাওয়ায় মনে হচ্ছে যে তারা এবার আমাদের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধার করেই চাড়বেন। নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে এমন আশা করে ঘরে বসে থাকলে মার্কিন ভিসা নীতির আমাদের জন্য আশির্বাদ না হয়ে অভিশাপ হয়ে উঠতে পারে। ঐতিহ্যগতভাবে পশ্চিমাদের উদ্বেগ আর নিন্দা জানানোর সংস্কৃতির মধ্যেই হয়ত আমাদেরকে হাসিনাময় (২০১৪ ও ২০১৮’র মতো আরেকটি ভোটার বিহীন ও বিতর্কিত) সুষ্ঠু নির্বচনের প্রহসন দেখতে হবে।

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin