আজ সোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
আজ সোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল

কয়েক বছর বিরতির পর মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল আগামী সপ্তাহে ঢাকায় আসছে। বাংলাদেশের নির্বাচনকে ঘিরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকার একধরনের টানাপোড়েনের পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং রিপাবলিকান পার্টির সমন্বয়ে গড়া প্রতিনিধিদলটি এ দেশে আসছে। তারা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবে।

দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, হাওয়াই থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট পার্টির কংগ্রেস সদস্য এড কেইস এবং জর্জিয়া থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেস সদস্য রিচার্ড ম্যাকরমিক ১২ আগস্ট চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন। গতকাল রাতে রিচার্ড ম্যাকরমিকের দপ্তর তাঁর বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

কূটনৈতিক একটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা সফরের সময় মার্কিন কংগ্রেসের দুই সদস্য আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদাভাবে মতবিনিময় করবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গতকাল বুধবার জানিয়েছেন, মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা মূলত রোহিঙ্গা শিবিরের আর্থিক অবস্থাসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখতে বাংলাদেশে আসছেন। তাঁরা কক্সবাজার সফরের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উদ্যোগে সে দেশের কংগ্রেসের ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং রিপাবলিকান পার্টির দুই সদস্য বাংলাদেশে আসছেন। রোহিঙ্গাদের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই হিসেবে দুই কংগ্রেস সদস্য এখানে তাঁদের অর্থায়ন কীভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে তা দেখতে আসছেন। পাশাপাশি এখন যে আর্থিক সংকট চলছে, তার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আর কী করার আছে সেটিও তাঁরা সরেজমিনে দেখবেন। কূটনৈতিক একটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা সফরের সময় মার্কিন কংগ্রেসের দুই সদস্য আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদাভাবে মতবিনিময় করবেন।

কয়েক বছর ধরেই মানবাধিকার ও সুশাসন নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাব এবং বাহিনীটির সাবেক ও বর্তমান সাত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। এরপর গত মে মাসে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতাকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মার্কিন ভিসায় বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণার পর নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উদ্যোগে সে দেশের কংগ্রেসের ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং রিপাবলিকান পার্টির দুই সদস্য বাংলাদেশে আসছেন। রোহিঙ্গাদের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই হিসেবে দুই কংগ্রেস সদস্য এখানে তাঁদের অর্থায়ন কীভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে তা দেখতে আসছেন।

-ADVERTISEMENT-

Ads by

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ওয়াশিংটনের পাশাপাশি মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা বেশ সরব রয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন সদস্য পৃথকভাবে সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এবং জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি লিন্ডা টমাস গ্রিনফিল্ডকে চিঠি লিখেছেন। গণতন্ত্র এবং নির্বাচনের পাশাপাশি মার্কিন কংগ্রেসের এসব সদস্য মতপ্রকাশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ সামগ্রিকভাবে মানবাধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

মানবাধিকার ও সুশাসন নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বহুমাত্রিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈশ্বিক দুর্নীতি দমন বিভাগের সমন্বয়ক রিচার্ড নেফিউ ঢাকা সফর করে গেছেন।

চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিরক্ষা সংলাপে যোগ দিতে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো প্যাসিফিক কমান্ডের কৌশলগত পরিকল্পনা ও নীতিবিষয়ক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল টমাস জেমস। এ ছাড়া আগামী মাসের প্রথমার্ধে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া-বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ ঢাকায় আসছেন।

 

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin