পুলিশের জন্য শটগান, কার্তুজ, সাউন্ড গ্রেনেড, কালার স্মোক গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেলসহ অনেক সরঞ্জাম কেনা হচ্ছে। এর সবই বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে। কিছু ইতিমধ্যে দেশে এসেছে।
সবশেষ চারটি পৃথক দরপত্রে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮০০ কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড আমদানির ব্যাপারে অনাপত্তি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পুলিশের জন্য কেনা এসব মালপত্র ছাড় করতে কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর ছয়–সাত মাস পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের জন্য এসব উপকরণ কেনা হচ্ছে। তবে পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, এটি পুলিশের রুটিন কেনাকাটা। বিশেষ কিছু নয়, স্বাভাবিক আমদানি।
জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। সামনে এই উত্তাপ আরও বাড়বে। সূত্রগুলো বলেছে, এই অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে পুলিশ বাহিনীও প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শটগান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল আমদানি করা হচ্ছে। সবশেষ ১১ মে পুলিশের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এসব আমদানির পৃথক চারটি অনাপত্তিপত্র দেয়। এর একটিতে ১ কোটি ৯২ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় ১০ হাজার কালার স্মোক গ্রেনেড কেনার কথা জানানো হয়। এগুলো সরবরাহ করছে রাজধানীর দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকার কমার্স ক্যাভ নামের প্রতিষ্ঠান। আরেকটি অনাপত্তিপত্রে ৫ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকায় ২০ শতাংশ ভেরিয়েশনের ২৮ হাজার ৫০০ সাউন্ড গ্রেনেড কেনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো সরবরাহ করবে বারিধারার তাসনীম–ই–ফেরদাউস স্প্রিং স্পার্ক নামের প্রতিষ্ঠান। অপর দুটি অনাপত্তিপত্রে ১ লাখ ৯৬ হাজার কাঁদানে গ্যাসের শেল কেনার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এর একটিতে রয়েছে ১২ কোটি ৪৭ লাখ ৬২ হাজার টাকায় ১ লাখ ১০ হাজার কাঁদানে গ্যাসের শেল। অন্যটিতে ১০ কোটি ৪৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় ৮৬ হাজার কাঁদানে গ্যাসের শেল কেনার কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব কাঁদানে গ্যাসের শেল সরবরাহ করবে দিলকুশার কমার্স ক্যাভ।
এসব উপকরণ খালাসসহ প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে আমদানি–রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, জননিরাপত্তাসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনারকে চিঠি দিয়েছে।
সূত্র বলেছে, ৮ হাজার সেমি অটো রাইফেল, শটগানের ১৫ লাখ কার্তুজ, ৬ লাখ ব্ল্যাংক কার্তুজ, ২ লাখ কাঁদানে গ্যাসের শেল, ৩৯ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড, সার্ভিলেন্স যন্ত্রপাতি এবং স্পাই ক্যামেরা কেনার জন্য পৃথক দরপত্র দেওয়া হয়। এর বাইরে ২৪ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড এবং ১৫ হাজার মাল্টি–ইম্প্যাক্ট কাঁদানে গ্যাসের শেল কেনার দরপত্র আহ্বান করা হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের প্রধান ও সহকারী মহাপরিদর্শক মনজুর রহমান বলেন, এ ধরনের কেনাকাটা পুলিশের রুটিন কেনাকাটা। কী পরিমাণ মালপত্র কেনা হচ্ছে, তার সঠিক হিসাব তাঁর জানা নেই। তবে বেশ কিছু উপকরণ আমদানির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এগুলো বিশেষ কিছু নয়, স্বাভাবিক আমদানি।