আজ রবিবার, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
আজ রবিবার, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
* অর্থ পাচার ও আত্মসাতের দায়ে জেলবন্দি খালেক-নজরুল * বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিতে তৎপর কয়েকটি পক্ষ

প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাষ্টিজ পুনর্গঠন: অস্ত্র মামলার আসামীর নাম প্রস্তাব ইউজিসির

অর্থ পাচার ও আত্মসাতের দায়ে জেলবন্দি খালেক-নজরুল

সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি আর লুটপাটে বিপর্যস্ত প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই চেয়ারম্যান এম এ খালেক এবং নজরুল ইসলাম হাজার কোটি টাকা পাচার ও আত্মসাতের মামলায় জেলে আছেন গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে। এরইমধ্যে নজরূলকে দু’দফায় রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আর খালেক ও তার ছেলেকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফারইস্ট ইসলামী লাইফের সাবেক পরিচালনা পর্ষদের খালেক-খালেদ ও নজরুল গং হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে আমেরিকা ও কানাডায় বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। তাদের বিরদ্ধে দুদকের দুটি মামলাসহ প্রায় দুই ডজন মামলা রয়েছে। এছাড়াও ৫-৬ মাস পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নারী কর্মী ধর্ষণের অভিযোগ করলে নিবন্ধনহীন বোর্ড অব ট্রাষ্টিজ চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম এবং ভাইস চেয়ারম্যান রায়হান আজাদ টিটুকে আটক করে মিন্টু রোডের প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে যায় মহানগর ডিবি পুলিশ। অবশ্য অজ্ঞাত কারণে তারা কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ছাড়া পেয়ে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে গত ২ অক্টোবর প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাষ্টিজ পুনর্গঠনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, ওয়াহেদ মুরাদ জামিল নামের এক ব্যক্তির নাম ওঠে এসেছে ওই প্রস্তাবে। যার নামে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানায় অস্ত্র আইনের দুটি মামলা চলছে। গত ৭ আগস্ট রেকর্ডকৃত দুটি মামলার নম্বর ৯ এবং ১০। ধারা যথক্রমে ৩০৭/৫০৬/৩৪) এবং ১৯৭৮-২০/এ/১৮৬/৩০৭)। অনুসন্ধানে জানা যায়,গত ৭ আগস্ট উক্ত জামিল মদ্যপ অবস্থায় শহরের ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান কালুর বাসায় গিয়ে এলোপাতারি গুলি করতে থাকেন। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। নিকটবর্তী ফারির পুলিশ এগিয়ে গেলে তাদের লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়া হয়। ওই দিনই ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান কালু এবং পুলিশ বাদি হয়ে পৃথক দুুট মামলা করেন। এ ঘটনায় জামিল বোয়ালিয়া থানায় ৩ দিন রিমান্ডে এবং ১৬ দিন জেলবন্দি থাকার পর জামিনে বেরিয়েছেন। এব্যাপারে তার বক্তব্য জানতে ফোনে যোগাযোগ করা হলে ওয়াহেদ মুরাদ জামিল আমার দিন’কে বলেন,‘এক্সিডেন্টালী,এটাতো অলরেডি ডান। পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।’ ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান কালুর সঙ্গে পূর্ব শত্রতা বা কোনো বিরোদ ছিল কী না-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন ‘আমি তো আপনাকে ইন্টারভিউ দিতে বসিনি’। এ ব্যাপারে বোয়ালিয়া থানার ওসি মাজহার ইসলাম বলেন,‘চার্জশিট দেয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে সিআইডি’র ব্যালিস্টি পরীক্ষার রিপোর্ট চলে এসেছে।’ তিনি আরো বলেন,‘আটকের পর ৩ দিনের রিমান্ডে ওয়াহেদ মুরাদ জামিল ওরফে লিংকন মুখ খোলেন নি। আমি তার ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি। যতদূর জানতে পেরেছি সে মিরপুর এলাকার একজন ত্রাস-শীর্ষ সন্ত্রাসী। যেহেতু সিআইডি’র ব্যালিস্টি রিপোর্ট হাতে চলে এসেছে তাই এখন আবার তাকে রিমান্ডে আনা হবে। সে যেই হোক না কেন এ ঘটনায় তাকে শাস্তি পেতেই হবে।’ রাজশাহী মহনগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক এ বিষয়ে আমার দিনকে বলেন,‘ গুলি চালানোর সময় ওয়াহেদ মুরাদ জামিল মাদকাসক্ত ছিল।’ তিনি আরো বলেন,‘সে তার বৈধ লাইসেন্স দিয়ে অবৈধভাবে গুলি চালিয়েছে। জমিজমা নিয়ে ভাই-বোন ও পরিাবারে বিরোধ রয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে। আমাদের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যয়ে। চার্জশীট দেয়ার আগে তাকে পুনরায় রিমান্ডে নেয়ার জন্য শীঘ্রই আদালতে আবেদন করা হবে।’এমন বিতর্কিত ও মাদকাসক্ত একজন ব্যক্তিকে প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাষ্টিজ পুনর্গঠনে অর্ন্তভুক্ত করলে সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড.বিশ্বজিৎ চন্দ আমার দিন’কে বলেন,‘ প্রাইমএশিয়ার তদন্তে আমি ছিলাম না। যিনি তদন্ত করেছেন তিনি এ কাজে খুবই নির্বভরযোগ্য। এর পরও এমন কিছু ঘটে থাকলে প্রয়োজনে আমরা পুনরায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’ তিনি আরো বলেন,‘ প্রাইমএশিয়ার বিষয়ে অনেকেই প্রায়ই তদবির করেন। কিন্তু আমরা এসবকে পাত্তা দিই না। য হবার তা আইন এবং বিধি মেনেই হতে হবে।’ সূত্রমতে অর্থ আত্মসাতের দায়ে চেয়ারম্যানের পদ হারানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি ধ্বংসের মূল হোতা এম এ খালেকের ঘণিষ্ঠতম ফাউন্ডার মেম্বার প্রয়াত এম এ ওয়াহাবের ছেলে হলেন এই ওয়াহেদ মুরাদ জামিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং বিবাদমান খালেক-নজরুলের প্রধান সহযোগী, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পরিচালক ও গেটকো গ্রুপের মালিক ইঞ্জিনিয়ার কে.এম. খালেদ রহস্যজনক কারণে এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কথিত আছে যে, এই ধূর্ত কে.এম খালেদই পেছন থেকে সবকিছুর কলকাঠি নারতেন। কে.এম খালেদের বিরুদ্ধেও প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের একাধিক মামলা রয়েছে। ভবিষ্যতে দূরতম সুযোগ পেলে এই জামিল-খালেদরা আবার খালেককে টেনে আনবেন বলে মনে করছেন অনেকেই। তাই সংশ্লিষ্টরা বলছেন তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাষ্টিজ পুনর্গঠনে অর্ন্তভুক্তকরণের মানে হল নতুন বোতলে পুরোনো মদ রাখার মত ব্যাপার। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন প্রেরিত প্রস্তাবের আলোকে বোর্ড অব ট্রাষ্টিজ পুনর্গঠন প্রত্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য জোর লবিং করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সুবিধাভোগী এবং ওয়াহেদ মুরাদ জামিলের অনুসারীরা। এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারের অতি ঘণিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি গ্রুপ অব কোম্পানী। এছাড়া প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করছে অর্থ আত্মসাতের দায়ে জেলবন্দি এবং বর্তমান নিবন্ধনহীন বোর্ড অব ট্রাষ্টিজের চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলামের গ্রুপটি। নিবন্ধনহীন বোর্ড অব ট্রাষ্টিজের প্রধান উপদেষ্টা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য কমোডর (অবঃ) জোবায়ের আহমেদ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার নিকটাত্মীয় পরিচয়ে লবিং করছেন বলে একটি পক্ষ প্রচার করলেও এটাকে তিনি গুজব এবং মুর্খদের কাজ বলে নাকচ করে দিয়েছেন। টেলিফোনে কমোডর (অবঃ) জোবায়ের আহমেদ আমার দিনকে বলেন,‘আমি নিজের যোগ্যতায় সবকিছু করি। কারো নাম ভাঙ্গিয়ে চলার মানুষ আমি নই। কোনো অন্যায় সহ্য করতে পারি না বলে সব সময় প্রতিবাদ করি। আপনি আমার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন।’ বোর্ড অব ট্রাষ্টিজের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,‘খালেকরা (বোর্ড অব ট্রাষ্টিজের সাবেক চেয়ারম্যান খালেক) সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বিষফোঁড়া।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন,‘ যারা অনিয়ম দুর্নীতি করেছে তাদেরই বিচার হওয়া উচিৎ।’ তিনি আরো বলেন,‘ আমার জীবনের লব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার চেষ্ট করছি। নতুন অভিজ্ঞ রেজিষ্ট্রার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নানা অনিয়ম চিহ্নিত করে দায়িদের বিরুদ্ধে তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’অন্যদিকে বিবাদমান খালেক-নজরুলের দুটি গ্রুপ ছাড়াও তৃতীয় আরেকটি পক্ষ প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিতে তৎপরতা চালাচ্ছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর আব্দুল্লাহ জামিল মতিন নামের এক ব্যক্তি শিক্ষা সচিব বরাবর আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রয়াত এম এ মতিনের একমাত্র ছেলে উল্লেখ করে বলেন, কতিপয় ব্যক্তির আর্থিক অনিয়ম বুঝতে পেরে তার বাবা পদত্যাগ করেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয় ফাউন্ডেশনকে প্রদত্ত তার বাবার ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ১ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছেন। বাকি ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা খালেক-নজরুল কেউই পরিশোধ করেন নি। তাদের বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা চলছে। বর্তমানে তারা জেলে রয়েছেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী,কমকর্তা-কর্মচারির স্বার্থে বোর্ড অব ট্রাষ্টিজের সংস্কার ও পুনর্গঠন জরুরী বলে দাবি করেছেন।

ঘোষণা:
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার নিয়োগে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। নীতিমালা অনুযায়ী ভিসি, প্রো ভিসি এবং ট্রেজারার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রস্তাবের সঙ্গে বোর্ড অব ট্রাষ্টিজের নিবন্ধিত দলিল সংযুক্ত করা বাধ্যতামুলক। কিন্তু ২০১৮ সালে মোঃ নজরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে গঠিত বোর্ড অব ট্রাষ্টিজের দলিল নিবন্ধিত হয়নি এখনো। নানা অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের কারণে দলিল নিবন্ধন করেনি আরজেএসসি। অথচ সম্প্রতি ড. ইফ্ফাত আরা জাহানকে ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনও মিলেছে ইতোমধ্যে। বিষয়টি অনুসন্ধান করছে আমার দিন। বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন আমার দিন পত্রিকায় ।

ওই আবেদনে তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এসোসিয়েশনের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয় শেখ কবীর হোসেনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাষ্টিজের চেয়ারম্যান করার দাবি জানিয়ে আরো উল্লেখ করেন যে,‘শেখ কবীর হোসেন বোর্ড অব ট্রাস্টি’র প্রেসিডেন্ট হলে সবাই উপকৃত হবে। দেশের উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের সার্বিক পরিবেশের মানোন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিতে শেখ কবীর হোসেন এর অব্যাহত প্রচেষ্টার বিষয়টি সর্বজনবিদিত। তাই প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসন করে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের জন্য তিনিই সবচেয়ে যোগ্যতম মানুষ।’ বিবাদমান পক্ষ গুলোর দলাদলির কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ। হুমকির মুখে পড়েছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাষ্টিজ পুনর্গঠনে ইউজিসির প্রস্তাবের বিষয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী আমার দিনকে বলেন,‘বিষয়টি নিয়ে মাননীয় মন্ত্রী,ইউজিসি এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সঙ্গে কথা বলে আইন ও বিধি মোতাবেক শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন,‘ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ ও মানোন্নয়নে আমরা অব্যাহতভাবে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি।’উল্লেখ, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ২০২১ সালের এপ্রিলে সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোম্পানিকে ফারইস্ট লাইফের ওপর নিরীক্ষা করার দায়িত্ব দেয়। গত মে মাসে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আইডিআরএর কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমটিডিআর বন্ধক রেখে ১ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ফারইস্ট লাইফের সাবেক পরিচালনা পর্ষদের খালেক-খালেদ ও নজরুল গং। ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ফারইস্টের এমটিডিআর বন্ধক রেখে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির নামে ১৬৪ কোটি, পিএফআই প্রোপার্টিজের নামে ১৬০ কোটি, ফারইস্ট প্রোপার্টিজের নামে ১৫১ কোটি, প্রাইম এশিয়া ফাউন্ডেশনের নামে ৯২ কোটি, মিথিলা প্রোপার্টিজের নামে ৬৪ কোটি, পিএফআই সিকিউরিটিজের নামে ৫৫ কোটি, মিথিলা টেক্সটাইলের নামে ৪৮ কোটি, কে এম খালেদের নামে ২১ কোটি, মোল্লা এন্টারপ্রাইজের নামে ২০ কোটি, আজাদ অটোমোবাইলসের নামে ৯ কোটি এবং কামাল উদ্দিনের নামে ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। তবে মিথিলা টেক্সটাইল ও মিথিলা প্রোপার্টিজ এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয় বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin