আজ শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৪ বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ রমজান, ১৪৪২ হিজরি
আজ শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৪ বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ রমজান, ১৪৪২ হিজরি

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩

ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরো আট শতাধিক মানুষ।
রোববার দেশটির দুর্যোগ মোকাবেলা সংস্থার (বিএনপিবি) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খবরে বলা হয়, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের ঘটনায় ২৭ হাজার আটশ মানুষ ঘর-বাড়ি হারিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভূমিকম্পের ফলে কেউ কেউ পাহাড়ে আশ্রয় নেয়। আবার কেউ দুর্যোগ মোকাবেলা কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেয়। ভূমিকম্পের দুই দিন পরও ধসেপড়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের ভেতরে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে সুলাওয়েসি দ্বীপের মাজেনে শহরে শক্তিশালী ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মাজেনে শহর থেকে ৩ দশমিক ৭৩ মাইল উত্তর-পূর্বে মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে।

ভূমিকম্পে হতাহতের পাশাপাশি অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো অনেকে চাপা পড়ে আছে।

এদিকে দেশটির আবহাওয়া সংস্থার প্রধান দ্বিকোরিতা কার্নাওয়াতি শনিবার স্থানীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, আরেকটি ভূমিকম্প হতে পারে এবং সেটি ৭ মাত্রা পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। সুনামি ঝুঁকির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাগর থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রশান্ত মহাসাগরের কথিত ‘রিং অব ফায়ার’ (প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা) এর ‍উপর ছড়িয়ে থাকা ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প হয়।

২০১৮ সালে সুলাওয়েসির পালু শহরে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের পরও সুনামি সৃষ্টি হয়েছিল। ওই ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

নতুন বছরের মাত্র দুই সপ্তাহ পার হয়েছে, এরই মধ্যে বিশ্বের চতুর্থ সর্বোচ্চ জনবহুল দেশটি ফের বেশ কয়েকটি দুর্যোগের মুখে পড়েছে।

উত্তর সুলাওয়েসি ও দক্ষিণ কালিমান্তান প্রদেশে চলতি মাসে বন্যায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, ওই সময়েই পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভূমিধসে অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো জানিয়েছে।

৯ জানুয়ারি ইন্দোনেশিয়ার শ্রীবিজয়া এয়ারের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ৬২ জন আরোহী নিয়ে জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয়।

শনিবার রাতে পূর্ব জাভার সেমেরু আগ্নেয়গিরি থেকে উদ্গিরণ শুরু হয়। তবে এতে কেউ হতাহত বা ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে খবর হয়নি।

আবহাওয়া সংস্থার প্রধান দ্বিকোরিতা জানিয়েছেন, সামনের সপ্তাহগুলোতে বিরূপ আবহাওয়া ও সাগরকেন্দ্রিক ‘বিভিন্ন বিপদ’ দেখা দিতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print