আজ বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
আজ বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি

বাইডেন-কমলার শপথের আগেই আরও ৭০ হাজার মার্কিনির মৃত্যুর আশঙ্কা

নব নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ক্ষমতা গ্রহণের আগেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭০ হাজার মার্কিনির মৃত্যু হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে আরও ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যদি তাদের কৌশল পরিবর্তন করে এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর সরকার যদি কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়, তখনই কেবল এমন পরিস্থিতি ঠেকানো সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ১ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ছিল দৈনিক আক্রান্তের রেকর্ড। ওইদিন আক্রান্ত ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৬ জন। একদিনে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ত্রিশ হাজারের বেশি।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার একদিনে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫১৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটির প্রায় প্রতিটি রাজ্যেই নভেম্বরে করোনার ঊর্ধ্বমুখী ও রেকর্ড সংক্রমণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা এখন ১ কোটি ৭ লাখের বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আরও কোনো দেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ এখনও কোটি ছাড়ায়নি। এ ছাড়া শুক্রবার করোনা আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৪৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ৪৪ হাজারের বেশিতে দাঁড়ালো।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম দফার প্রকোপ ছড়িয়েছিল বসন্তকালে। তখন বড় বড় উপকূলীয় শহরগুলো বেশি আক্রান্ত হয়েছিল। দ্বিতীয় দফার করোনা প্রকোপ ছড়ায় গ্রামীণ এলাকাগুলোতে। তৃতীয় দফার প্রকোপ ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ এলাকাতে। এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়েছে। শুধু বুধবারেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষ। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও শহরগুলোতে নতুন বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পাওয়া ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবেন ২০ জানুয়ারি। এরই মধ্যে তিনি অঙ্গীকার করেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর করোনাভাইরাস মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মাস্ক পরিধানের ওপর জোর দেওয়া এবং বিভিন্ন ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে আরও বেশি প্রণোদনা দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

তবে তার শপথগ্রহণের আরও দুই মাস বাকি। আর তার আগে যুক্তরাষ্ট্রে করোনার প্রকোপ ৮০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। মৃতের সংখ্যা ২৯ শতাংশ বেড়ে যাওয়ারও আভাস দিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। তারা আশঙ্কা করছে এ দুই মাসে আরও ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করতে পারে।

দ্য ইন্সটিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন (আইএইচএমই) ও একই রকমের আভাস দিয়েছে। তারা বলেছে বর্তমান সরকারের কৌশলে পরিবর্তন আনা না হলে নভেম্বর ১২ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত অতিরিক্ত ১ লাখ ১৭ হাজার মানুষের প্রাণহানি হতে পারে।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি মোকাবিলা অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠবে। পরিস্থিতি ঠেকাতে এখনই যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারকে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিতে হবে।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারিবিষয়ক অধ্যাপক গ্রেগ গনসালভেস বলেন, ‘করোনা মহামারি বসন্তে যেমন ছিল, সামনে তা আরও খারাপ হতে পারে। আমেরিকানদের জন্যও তা আগের চেয়ে খারাপ হবে।’

গনসালভেস আরও বলেন, ‘কাজ বন্ধ রেখে জনগণকে বাড়িতে রাখার জন্য তাদেরকে যে যে সহায়তা দেওয়া দরকার, তা নিরূপণের চেষ্টা করছি আমরা। বাড়িতে রাখতে গেলে তাদেরকে বেতন দেওয়া যেতে পারে। সবার বাড়িতে বাড়িতে আমরা মাস্ক পাঠাতে পারি।’

নির্বাচনি প্রচার ও ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোট চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজের করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সকে খুব কম সময় দিয়েছেন তিনি। তাছাড়া, বাইডেন ক্ষমতা নেওয়ার আগ পর্যন্ত কংগ্রেসে উল্লেখযোগ্য প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব পাসের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

বিভিন্ন আঞ্চলিক টাস্ক ফোর্সের একটি জোট ট্রাম্পের করোনাভাইরাস টাস্ক ফোর্সকে বর্জন করেছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগ ডাকো বলেন, ‘এটি সম্ভবত খুব একটা কার্যকর সমাধান নয়, তবে একেবারে কিছু না হওয়ার চেয়ে ভালো।’

শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print