আজ মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
আজ মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নির্বাচন

জানা মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ও প্রতিযোগিতামূলক প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়ে গেল ৩ নভেম্বর। এখন চলছে ভোট গণনার কাজ। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের আগেই আগাম দেওয়া হয়ে গেছে ১০ কোটি দুই লাখ ৮৬ হাজার ৭৪৮ ভোট, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বিস্ময়কর ঘটনা। এর প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব। নির্বাচনের নির্ধারিত দিনে বিশাল যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে একসঙ্গে এত মানুষের ভোট দেওয়া মোটেও নিরাপদ হতো না বলেই সেই আগাম ও পোস্টাল ব্যালট প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ বিষয়টি নিয়ে ভোট গণনা এবং নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যত বিতর্কিত কথাই বলুন না কেন, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল পেতে আরো কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। চূড়ান্ত গণনা চলতি মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত গড়াতে পারে। সে কারণেই ট্রাম্পের প্রতিপক্ষ অর্থাৎ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। এই নিবন্ধ লেখার আগে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর সকালে ভোট গণনায়, বিশেষ করে ইলেকটোরাল ভোট লাভের দিক থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন ২৬৪টি ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দিক থেকে এগিয়ে ছিলেন। তখন পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প ২১৪টি ইলেকটোরাল ভোট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তা ছাড়া জনপ্রিয় কিংবা জনগণের প্রদত্ত ভোটেও এগিয়ে ছিলেন জো বাইডেন। ট্রাম্প ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের মতো বড় রাজ্যে জিতেও স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। কারণ পেনসিলভানিয়া, আরিজোনা, মিশিগান ও নেভাডাসহ অন্যান্য রাজ্যে জো বাইডেনের সম্ভাব্য বিজয় নিয়ে শঙ্কিত হয়ে উঠেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনপ্রিয় ভোট ছাড়াও মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজের ভোটের মধ্যে অন্তত ২৭০টি ভোট পেতেই হবে বিজয়ীকে।এই নিবন্ধ লেখার আগ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের আরো ১৭টি ইলেকটোরাল ভোটের প্রয়োজন ছিল। এ ক্ষেত্রে পেনসিলভানিয়া রাজ্যের রয়েছে ২০টি ইলেকটোরাল ভোট। তা ছাড়া রয়েছে বাইডেনের এগিয়ে থাকা আরিজোনা রাজ্যের ১১টি, নেভাডার ছয়টি এবং মিশিগান রাজ্যের ১৬টি ইলেকটোরাল ভোট পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা। জর্জিয়াসহ অন্য আরো কয়েকটি রাজ্যেও চলছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা ছিল পেনসিলভানিয়া রাজ্য নিয়ে। সেখানে ভোটের কিছুটা ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ার মতো বিশাল এলাকার ব্যাপক ভোট গণনা বাকি ছিল। তাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট বাইডেনের পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেটি নিয়েই ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সীমাহীন আশঙ্কা। তাঁর বক্তব্য ছিল, স্বাভাবিক ভোট গণনার পর প্রদত্ত আগাম ভোট কিংবা পোস্টাল ব্যালট গণনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাতে ভোটে কারচুপি করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি নির্বাচনের পর রাতারাতি সব ভোট গণনার ওপর জোর দিয়েছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে তিনি বিভিন্ন রাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু আগাম ভোট কিংবা পোস্টাল ব্যালট গণনার ব্যাপারটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সেই হিসেবে দেশের উচ্চতম আদালত ডাক বিভাগকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। তাতে ভোট গণনার ক্ষেত্রে ১০ কোটি আগাম বা পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়াজাত করতে বাড়তি সময় তো লাগতেই পারে।পেনসিলভানিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, জর্জিয়া, আরিজোনা, নেভাডা ও উইসকনসিনের মতো রাজ্যগুলোতে ডাক বিভাগের আগে থেকেই জনশক্তি ও অন্যান্য সুযাগ-সবিধার অভাব ছিল। সে কারণেই ভোট গণনা অনেকটাই পিছিয়ে গেছে। কিন্তু তাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের খুব একটা ক্ষতির আশঙ্কা ছিল না। কারণ পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া, মিশিগান ও আরিজোনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রাপ্ত ভোটের দিক থেকে তখনো এগিয়েই ছিলেন। কিন্তু তাঁর মনে হয়েছে, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে এক বিরাট ষড়যন্ত্র চলছে। তবে একটি কথা এখানে না বললেই নয়। আর তা হচ্ছে, এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির সার্বিক অবস্থা। নির্বাচনের আগে যেমনটি শোনা গিয়েছিল, এ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকান দলকে জনসমর্থনের দিক থেকে চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে থেকে আসা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যেভাবেই হোক ক্ষমতাচ্যুত করা হবে। তা ছাড়া ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের আগেই আড়াই লাখের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা ও বেকার সমস্যা সমাধানসহ পুলিশের বর্ণবাদী আক্রমণ এবং সারা দেশে বর্ণবাদী কর্মকাণ্ড ও আর্থ-সামাজিক বৈষম্য নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনে তার কোনো ব্যাপক প্রতিফলন ঘটেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ ক্ষেত্রে আশাতীতভাবে ভোট পেয়েছেন শ্বেতাঙ্গ নাগরিক ছাড়াও হিসপানিক কিংবা লাতিনো সম্প্রদায়ের কাছ থেকে। তা ছাড়া কৃষাঙ্গ সম্প্রদায়ের মহিলাদের বিভিন্ন রাজ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভোট দিতে দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাটদের বক্তব্য হচ্ছে, নির্বাচনের আগে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসন ও রিপাবলিকান দলকে বেশ কিছু অগণতান্ত্রিক কাজের দিকে ঠেলে দিয়েছেন, যা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের পরিপন্থী।ব্যাপক মেইল ভোটের কারণে চূড়ান্ত ভোট গণনা কিংবা ফল ঘোষণায় দেরি হতে পারে। তাতেও নির্বাচনে জয়ের আশা ছাড়ছে না কোনো পক্ষই। এ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ বা ঐড়ঁংব ড়ভ জবঢ়ৎবংবহঃধঃরাবং ধরে রাখতে সক্ষম হলেও প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের প্রাপ্ত মোট ভোটের ব্যবধান এত কাছাকাছি চলে যেতে পারে যে ক্ষেত্রবিশেষে দ্বিতীয়বার বা পুনর্গণনার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। কারণ এত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই কিংবা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা যুক্তরাষ্ট্রে অতীতে খুব বেশি দেখা যায়নি। এ ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ তুলে ধরা যেতে পারে। রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জর্জ ডাব্লিউ বুশ ও ডেমোক্র্যাট দলীয় সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরের মধ্যে ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত ৪৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সর্বশেষ ফ্লোরিডা রাজ্যে ভোট গণনায় বুশ ও গোর এতটাই কাছাকাছি চলে আসেন যে সেখানে আবার ভোট গণনার প্রয়োজন দেখা দেয়। তাতে সামান্য ভোটে এগিয়ে ছিলেন বুশ। ডেমোক্র্যাটরা তখন পুনর্গণনার জন্য আপিল করে। ফ্লোরিডা সুপ্রিম কোর্ট তাতে কোনো কোনো নির্বাচনী এলাকার ভোট হাতে গণনার নির্দেশ দেন। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জনপ্রিয় ভোট ও প্রার্থীদের প্রাপ্ত মোট ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে সমস্যাটির সমাধান করতে পরামর্শ দেন। সর্বশেষ ভোট গণনার কেন্দ্র ফ্লোরিডাসহ অন্যান্য রাজ্যে আল গোর সামান্য কিছু ভোট বেশি পেলেও জর্জ বুশ সর্বমোট ২৭১ ইলেকটোরাল ভোট পেতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং একমাত্র সেই ভিত্তিতেই জর্জ বুশকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে পৃথিবীর কোথাও ইলেকটোরাল কলেজের ভোট বলে কিছু নেই। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে গণতন্ত্রমনা মানুষের মধ্যে পদ্ধতিগতভাবে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা দেয়। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তাকে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বলে মনে করে।এত কিছুর পরও ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্তভাবে ভোট গণনার কিংবা ইলেকটোরাল ভোটের অপেক্ষা না করে নির্বাচনের দিন রাতেই নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত জনপ্রিয় ভোটের দিক থেকে বাইডেন ৬৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের তুলনায় বাইডেন আরো ৩ শতাংশ ভোট বেশি পেয়েছেন। তার পরও অজানা আশঙ্কার দোলায় দুলছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। কারণ পেনসিলভানিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, আরিজোনা কিংবা মিশিগান তাদের হাতছাড়া হলে আবার ক্ষমতায় আসবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত পেনসিলভানিয়া, আরিজোনা কিংবা মিশিগান তাদের পক্ষে গেলে বাইডেনের বিজয় নিশ্চিত। কারণ একমাত্র পেনসিলভানিয়া ও মিশিগানের রয়েছে ৩৬টি ইলেকটোরাল ভোট। আর আরিজোনা ও নেভাডার রয়েছে ১৭টি ইলেকটোরাল ভোট। এসব রাজ্যে বাইডেনের বিজয়ের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিজয়ী হতে আরো ছয়টি ইলেকটোরাল ভোট প্রয়োজন বাইডেনের। বাইডেনের বিজয় নিয়ে আশাবাদী গণতান্ত্রিক বিশ্ব। সবাই চায়, বাইডেন ক্ষমতায় আসুক। কারণ তিনি ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচিত হলে প্যারিস পরিবেশ চুক্তি এবং ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তিতে ফিরে যাবেন। তা ছাড়া ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কনস্যুলেট খোলা ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজিত সংকটের নিরসন করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আক্রমণকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিরাট ভুল বলে উল্লেখ করেছেন বাইডেন। বাইডেন চীনের সঙ্গে যুদ্ধ নয়, বরং বৃহত্তর সমঝোতা চান, যা তাদের মধ্যে চলমান বাণিজ্য সুসংহত করবে। বাণিজ্যক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় লাভ-ক্ষতির বাইরে একটি সহনশীল বাণিজ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাইডেন আবার তৎপর হবেন বলে জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য কিংবা পশ্চিমা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ন্যাটোকে আরো শক্তিশালী করা এবং রাশিয়ায় পরমাণুসহ যুদ্ধাস্ত্র তৈরির ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এতে বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী মানুষের মধ্যে একটি নতুন আশা ও আস্থার ভাব সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্ররোচনায় নতুন আরো কী কী সংকট সৃষ্টি হবে তা নিয়ে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত শঙ্কিত। বিশ্বের অন্যতম প্রধান পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক চর্চা ও পদ্ধতি আরো শক্তিশালী হোক, এটি অবশ্যই সবাই কামনা করে। তার পাশাপাশি বর্ণবাদ, আধিপত্যবাদ এবং সব ধরনের অন্যায় ও বৈষম্যের অবসান ঘটকু, তা সবাই চায়। এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্র ও বৃহত্তরভাবে বিশ্ববাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার সময়। সবাই চায়, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন একটি উল্লেখযোগ্য সুফল বয়ে আনুক। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print