আজ সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
আজ সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২ হিজরি

একজন নূর মোহাম্মদ যখন রাজনীতির মাঠে

লৌহ কঠিন ব্যক্তিত্ব,অদম্য সাহস এবং অনন্য মহত্বের অধিকারী একজন নূর মোহাম্মদ সম্পর্কে লিখতে বসে বার বার আটকে যাচ্ছিল আমার কলম। কিভাবে শুরু করব, ভেবে পাচ্ছিলাম না। কারণ, কীর্তিমান এই মানুষটিকে অল্প কথায় উপস্থাপন করা আমার জন্য মোটেও সহজ কাজ নয়। তবুও শুরু করলাম সাহস নিয়ে। ‘স্যারের সঙ্গে যতদিন কাজ করেছি, ততদিন চাকরিটাকে উপভোগ করেছি। অনেক কিছু শিখেছি।’ সম্প্রতি কথা প্রসঙ্গে এ ভাবেই স্মৃতিচারণ করেন পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা। বলেন, ‘নূর মোহাম্মদ স্যার যখন আইজিপি ছিলেন তখন আমি উনার (সিপিও) চীফ প্রটোকল অফিসার ছিলাম। স্যারের কঠোর পরিশ্রম আর বিনয় কখনো ভুলতে পারব না।’পেশাগত কারণেই এখানে ওখানে যেতে হয় আমাকে। কিছুদিন পূর্বে গিয়েছিলাম এসবি সদর দপ্তরে। আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত একজন ডিআইজি রফিকুল ইসলাম। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে ওঠে আসে নির্বাচন প্রসঙ্গ। বলেন, নূর মোহাম্মদ স্যার তো পাস করবেন? জবাবে বললাম, অন্যকিছু হলে তা হবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। গত কয়েক বছর ধরে তিনি এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন। রাত দিন পরিশ্রম করছেন। গতানুগতিক রাজনৈতিক চর্চার বাইরে গিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে ভিন্ন একটি আবহ তৈরি করেছেন। তিনি সকল মানুষের জন্য কাজ করতে চান। আমার কথা শোনার পর রফিক ভাই বললেন, ‘স্যার এমপি হলে সকলের জন্যই মঙ্গল হবে। স্যার ঢাকা পূর্ব জোনের ডিসি (ডেপুটি পুলিশ কমিশনার) ছিলেন আর আমি ছিলাম এডিসি। স্যারের সততা দেখে মূগ্ধ হতাম। দেখা হলে স্যারকে আমার সালাম জানাবেন। গাজীপুরের রফিক বললেই স্যার আমাকে চিনতে পারবেন।’ এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত মার্কিন লেখক বেকনের একটি উক্তি খুবই প্রণিধানযোগ্য বলে মনে করছি। তিনি বলেছেন, ‘একজন ব্যক্তি তার অধীনস্তদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেন তা দেখে তার মহত্ব বোঝা যায়।’ শুধু এ দু’জন পুলিশ কর্মকর্তাই নয়। নূর মোহাম্মদ সাহেবের সঙ্গে যারা কাজ করেছেন তাদের প্রায় সকলের মূল্যায়নই একই রকম । নূর মোহাম্মদ সাহেবের আরো একটি পরিচয় আছে। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে তিনি পুলিশ রত্ন হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী আজিপিও মনে করা হয় তাকেই। ২০০৭ সালে ১/১১’র সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় দেশের সর্বকনিষ্ঠ আইজিপির পদ অলংকৃত করেন নূর মোহাম্মদ। উল্লেখ্য, রাজনৈতিক সরকারামলে আইজিপিকে নানামুখী চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হয়। কিন্তু সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় নূর মোহাম্মদ সাহেব ছিলেন সম্পূর্ণ স্বাধীন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিনি একাই নিতে পারতেন। ফলে সে সময় পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ও সেবার মান এবং পুলিশের আচার আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছিল। লুঙ্গি পড়ে কেউ থানায় গেলেও সংশ্লিষ্ট ডেস্ক কর্মকর্তা এসে সালাম জানাতেন। বলা যায়, একজন নূর মোহাম্মদ পুরো বাহিনীকে ইতিবাচক ধারায় বদলে দিয়েছিলেন। শত বছরের পুরনো যে বৃটিশ আইন এখনো চলছে তার যথাযথ সংস্কারের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থার প্রবর্তন করে ‘পুলিশ-জনতা ভাই ভাই’ স্লোগানটিকে তিনি কার্যতই বাস্তবে রুপ দিয়েছিলেন। আইজিপি হিসেবে তিনি কতটা স্বাধীন ছিলেন তার একটি ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী আমি নিজে। তারিখটা মনে নেই। নূর মোহাম্মদ সাহেবের টেবিলের সামনের চেয়ারে বসে আছি। আমি ছাড়া আর কেউ নেই। হঠাৎ একটি টেলিফোন আসল। নূর মোহাম্মদ সাহেব ফোনটা ধরে কিছুটা সময় নিয়ে বললেন ‘আপনার অভিযোগ যদি সত্য হয় তবে এই ওসি আজকেই জবাই (বরখাস্ত) হবে।’ দোর্দন্ড প্রতাপশালী আইজিপি হলেও তার দরজা উন্মুক্ত ছিল দল-মত নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষের জন্য। সে সময় লুঙ্গি পরিহিত মানুষও পুলিশ সদর দপ্তরে গিয়ে আইজিপি নূর মোহাম্মদের সঙ্গে দেখা করতে পারতেন। যা বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে নজির বিহীন ঘটনা। আইজিপি কার্যালয়ের ওয়েটিং রুম অর্থাৎ অপেক্ষমান কক্ষে প্রবেশকালে গ্লাসের দরজা ফাটার (গ্লাসের দরজা স্বচ্চ হওয়ায় বুঝতে না পারার কারণে মানুষের ধাক্কায়) ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনাটি আমাকে বলেছিলেন পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য কমকর্তা কামরুল আহসান ভাই। নূর মোহাম্মদ সাহেবের স্টাফ অফিসার ছিলেন কাজী জিয়া উদ্দিন। তিনি এখন অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত আছেন। তার কাছেও আইজিপি নূর মোহাম্মদের অনেক গুণের কথা শুনেছি। রংপুর বিভাগের ডিআইজি আলিম মাহমুদ আমার খুবই প্রিয় একজন পুলিশ কর্মকর্তা। সততা ও দক্ষতার জন্য তারও যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরে থাকাকালীন যতবার উনার কাছে গিয়েছি, ততবারই তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘নূর মোহাম্মদ স্যার কেমন আছেন।’ এসব বলছি এজন্য যে,বর্তমান বাস্তবতায় কারো চেয়ার না থাকলে সুনাম করাতো দূরের কথা, পারলে গোষ্ঠী উদ্ধার করেন অনেকে। তাই মানুষের মুখে নূর মোহাম্মদ সাহেব সম্পর্কে গুণকীর্তন শুনে সম্মানিত বোধ করি নিজেকে। অফসোস হয় কখনো। আহা, যদি নূর মোহাম্মদ সাহেবের মত হতে পারতাম। ছোট বেলায় নূর মোহাম্মদ সাহেবের বাল্য বন্ধু আমার চাচাত বোনের স্বামী ইদ্রিস আলী দানা মিয়ার মুখে নূর মোহাম্মদ সম্পর্কে অনেক গল্প শুনেছি। তবে উনার সঙ্গে প্রথম সরাসরি আমার দেখা হয় সম্ভবত ২০০৬ সালে। যতদূর মনে পড়ে, তখন তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে ডিআইজি (অর্থ ও প্রশাসন) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আমি তখন একটি অখ্যাত পত্রিকার আনকোরা রিপোর্টার। আমার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক পরিচালক ও বার্তা প্রধান আমার পরম শ্রদ্ধাভাজন প্রয়াত শফিউল হক সাহেব। তারুণ্যদীপ্ত এবং অত্যন্ত সুঠাম দেহের অধিকারী নূর মোহাম্মদের সেদিনের সদাচারণ কখনো ভুলতে পারব না। পরের বছর তিনি আইজিপি হলেন। আমি তখন বাংলাদেশ টেলিভিশনের রিপোর্টার। আইজিপি হওয়ার কয়েক মাস পর উনাকে দেখে বিস্মিত হলাম। নিজের চোখকে ঠিক বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মাত্র বছর খানেক আগে নায়কোচিত চেহারার টগবগে যে নূর মোহাম্মদকে দেখেছিলাম, আইজিপি হওয়ার পর তা যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল । দেখে মনে হল তার বয়স যেন বেড়ে গেছে দশ বছর। জনশ্রুতি রয়েছে, আইজিপির চেয়ারে বসলে নাকি বুড়ো মনুষও যৌবন ফিরে পায়। তাহলে নূর মোহাম্মদ সাহেবের যৌবন বিয়োগের কারণ কি? এ বিষয়ে জানতে কৌতুহল আরো তীব্র হল আমার। বলে রাখা ভালো যে, শুধু একজন সংবাদকর্মী হিসেবে নয়, উনার প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ভালোবাসার করণেই আমার এ কৌতুহল। যখন সবকিছু জানলাম, তখন পরম আনন্দে নেচে উঠল আমার মন। পাঠক,আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, নূর মোহাম্মদ সাহেব যখন আইজিপি তখন দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী হাসিনা-খালেদা জাতীয় সংসদ ভবনের বিশেষ সাব জেলে বন্দী। নূর মোহাম্মদ সাহেব একজন আইজিপি হলেও তদানীন্তন সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্যের তুলনায় সকল মহলে তার গ্রহণযোগ্যতাও ছিল অনেক বেশী। তিনি স্বপ্ন দেখতেন একটি সুন্দর আগামীর। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণেই নিবেদন করেছেন কর্মজীবনের প্রতিটি সময়। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ.পি.জে আব্দুল কালামের বিখ্যাত উক্তিটির সঙ্গে যেন ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে নূর মোহাম্মদের জীবন। তিনি বলেছেন, ‘ঘুমিয়ে আমরা যে স্বপ্ন দেখি সেটা স্বপ্ন নয়, প্রকৃত স্বপ্ন সেটাই যা আমাদেরকে ঘুমাতে দেয় না।’ একদিকে জাতীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক চাপ অন্যদিকে দেশের শান্তি-শৃংখলা রক্ষায় নূর মোহাম্মদ সাহেব রাতদিন নিরলস পরিশ্রম করতেন। গভীর রাতে ঘুমালেও ফজরের নামাজ কখনো মিস করতেন না। নামাজের পর শারীরিক ব্যায়াম করতেন। সকাল ৯টার আগেই চলে যেতেন অফিসে। দৈনিক ৩-৪ ঘন্টার বেশী তিনি ঘুমাতে পারতেন না। পরিবার, বন্ধুবান্দব, আত্মীয়-স্বজন নয়, তার কাছে সর্বাগ্রে গুরুত্ব পেত ন্যায়বিচার ও দেশের স্বার্থ। সকলের জন্য নূর মোহাম্মদ সাহেবের দরজা উন্মুক্ত থাকলেও দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তা ও মন্দ লোকের জন্য পুলিশ সদর দপ্তর ছিল এক মূর্তিমান আতংক। চাকরী জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত লোভ-লালসা ও স্বার্থপরতাকে তিনি দু’পায়ে মাড়িয়ে চলেছেন। অর্থ-নারী এবং ক্ষমতা এই ত্রয়ের প্রতি মানুষের দর্বলতা খুবই প্রাসঙ্গিক। উচ্চ পর্যায়ের অনেক সৎ এবং নামকরা আমলাদের মধ্যেও এসব দোষ-গুণের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ছিলেন নূর মোহাম্মদ। পুলিশ-সিভিল এ্যডমিনিস্ট্রেশন এবং ফরেন সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদারোহন করেও তিনি ছিলেন অনন্য মাত্রার এক ব্যতিক্রমী কীর্তিমান পুরুষ। এখানে তার সহধর্মিণী ইসমত নূরের অবদান বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য। সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমায় নূর মোহাম্মদ সাহেব তার আদর্শদীপ্ত জীবনধারায় শুরু থেকেই স্ত্রীর অকুণ্ঠ সহযোগিতা ও সমর্থন লাভ করেছেন। মেজাজ-মননে তারা যেন দুটি দেহে একই প্রাণ। একাধিকবার আইজিপি নূর মোহাম্মদ সাহেবের সরকারী বাস ভবনে গিয়েছি। মিসেস নূরের আন্তরিকতাপূর্ণ আথিতেয়তা আমার আজীবন মনে থাকবে। ইসমত নূর ভালো রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইতে পারেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের একজন তালিকাভুক্ত শিল্পী। পুনাকের সভানেত্রী হিসেবেও মিসেস নূরের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি একাধারে একজন শিল্পী-সংগঠক এবং সফল গৃহিনী। এজন্য তিনি ২০০৮ সালে ওম্যান পার্সোনালিটি এ্যয়ার্ডে ভূষিত হন। ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর এবং আইভি রহমানও এ পুরস্কার লাভ করেন। ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ আয়োজক কমিটির আহবায়ক ছিলাম আমি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বর্তমান প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এবং বিশেষ অথিতি ছিলেন আমাদের সাবেক এমপি প্রয়াত ডা.আব্দুল মান্নান সাহেব। প্রসঙ্গত এ বিষয়টি টেনে আনলাম এজন্য যে, নূর মোহাম্মদ সাহেবের সতাদর্শিক জীবন-যাপনের জন্য নেপথ্যে থেকে সর্বদা প্রেরণা যুগিয়েছেন মিসেস নূর। শাড়ী-গহনা কিংবা ভোগ-বিলাসের চাহিদা তাকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি। দুই মেয়ে এবং এক ছেলে নিয়ে তাদের সংসার যেন স্বর্গীয় বাগান। যত দূর দেখেছি, সন্তানদের মধ্যেও বাবা মায়ের প্রভাব খুবই স্পষ্ট। কোনো অহংকার নেই তাদের মনে। নূর সাহেবের ছেলে ব্যারিস্টার অমিত খুবই বিনয়ী এবং সহজাত প্রবৃত্তির একজন মানুষ। সর্বশেষ ঢাকার সেনাকুঞ্জে বড় মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিল নূর পরিবারের সঙ্গে। মিসেস নূর আমাকে জামাতা ক্যাপটেইন মাজহারুল হায়দার রুবেলের সঙ্গে পরিচয় করে দিয়েছিলেন। মাজহার তখন বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ এর স্টাফ অফিসার ছিলেন। বিয়ের মাত্র ৩ মাসের মধ্যে ইতিহাসের নৃশংসতম বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় প্রাণ হারান প্রতিভাবান সেনা কর্মকর্তা মাজহার। ওই সময় আইজিপি নূর মোহাম্মদ যেভাবে অসীম ধৈর্য্য ও সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছিলেন তা কোনো সিনেমার নায়কের চরিত্রকেও হার মানায়। তার মতো একজন বীরোচিত ও ন্যায়বান মানুষের রাজনীতিতে আগমন আমাদেরকে দারুনভাবে আশাবাদী করে তুলেছে। আমাদের মনে রাখা দরকার যে, একজন নূর মোহাম্মদ সব সমাজে সব সময় জন্ম লাভ করে না। তাই তাঁর এই আগমন দল-মত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য এক অফুরন্ত আশির্বাদ। তিনি এমন এক সময় রাজনীতির মাঠে নেমেছেন যখন রাজনীতি নিজেই অসুস্থতায় ভোগছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই অসুস্থ রাজনীতিকে সুস্থ করার চ্যালেঞ্জ নিয়েই তিনি এ পথে পা বাড়িয়েছেন। উনার হাত ধরেই হয়ত উন্মোচিত হবে রাজনীতির এক নতুন দিগন্ত। চাটুকারিতা, সন্ত্রাস, কালো টাকা ও পেশী শক্তির বদলে স্থান পাবে বুদ্ধিভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চা, পরমত সহিষ্ণুতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা। বন্ধ হবে ঘুষ-দুর্নীতি এবং অন্যায়-অবিচার। মূলোৎপাটন হবে মাদক ও তাদের গডফাদারদের। নির্দিষ্ট কিছু মানুষের আধিপত্যবাদের বদলে প্রতিষ্ঠিত হবে প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। সুরক্ষিত হবে প্রতিটি নারী ও শিশুর অধিকার। প্রায় দেড় যুগের সাংবাদিকতার অজ্ঞিতায় এটুকু বলতে পারি, রাজনীতিতে ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন’র সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা কেবল নূর মোহাম্মদ সাহেবের মতো দৃঢ়চেতা মানুষদের পক্ষেই সম্ভব। তাই নূরের মতো মানুষকে আইন প্রণেতা হিসেবে সংসদে পাঠানো প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য বলে আমি মনে করি। নূর মোহাম্মদ সাহেবের গ্রামের বাড়ীর একজন প্রতিবেশী ও তার ঘনিষ্ঠ সহচরের কথা উল্লেখ না করে পারছি না। ওর নাম মামুনুর রহমান। ও আমারও দীর্ঘ দিনের স্নেহভাজন সহকর্মী। সহজ-সরল ও সুন্দর চিন্তার এবং যে কোনো পরিবেশে সকলের সঙ্গে মেশার অদ্ভুত গুণ অছে ওর মধ্যে। নূর সাহেবের একজন নির্মোহ ভক্ত সে। নূর সাহেব সম্পর্কে তার মূল্যায়ন হচ্ছে, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য টাকা-পয়সা কিংবা ক্ষমতার জন্য উনি রাজনীতিতে আসেন নি। যে কোনো এমপির চেয়ে বেশী ক্ষমতা উনার সবসময়ই ছিল এবং এখনো আছে। বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোটাই এমন যে প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান ছাড়া কারো পক্ষেই প্রকৃত সেবা ও উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা রাখা প্রায় অসম্ভব। মানুষের সেবা করার মানসিকতা থেকেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। সকল মানুষের কল্যাণই তাঁর রাজনীতির একমাত্র লক্ষ্য। আর যাই হোক উনার দ্বারা কারো ক্ষতি হবে না।’ মামুনের এই মূল্যায়নের সত্যতা কতখানি তা নূর সাহেবের অতীত জীবনের দিকে তাকালেই দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমি যত দূর জানি, সততা ও ন্যায়পরায়নতার জন্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নশীল বাংলাদেশের রুপকার, জননেত্রী ও দেশরত্ন শেখ হাসিনা নূর সাহেবকে অত্যন্ত স্নেহ করেন। আ.লীগ সভানেত্রী নূর সাহেবকে দুই যুগেরও বেশী সময় ধরে চেনেন-জানেন। তাই সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও এবার নূর সাহেবের মনোনয়ন ঠেকাতে পারেনি কেউ। উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী বলতে পারি, কটিয়াদী-পাকুন্দিয়াবাসী এবার হয়ত মন্ত্রীও পেয়ে যেতে পারেন। সম্প্রতি একটি ঘটনা উল্লেখ করে লেখাটি শেষ করব। একটি গোয়েন্দা রিপোর্ট নিয়ে কথা বলতে সম্প্রতি বর্তমান স্বরাষ্ট্র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন সহেবের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করি। এক পর্যায়ে তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন, আমি ভোট প্রদান করি কি না। জবাবে যা সত্য তা-ই বললাম ‘আমি ভোটার হওয়ার পর পছন্দের কোনো প্রার্থী পায়নি, তাই এখন পর্যন্ত কাউকে ভোট দিইনি। তবে এবার পছন্দের প্রার্থী পেয়েছি। সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ সাহেবকে ভোট দেব।’ সচিবের প্রশ্ন, নূর মোহাম্মদ সাহেব আপনাকে চেনেন। বললাম, ‘উনি আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করেন।’ শেষ কথা: নূর মোহাম্মদ সাহেবের মতো পরিচ্ছন্ন-প্রাণোচ্ছ্বল মানুষকে শুধু ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ করলেই চলবে না। প্রতিটি পদক্ষেপে সব সময় তার পাশে থেকে দৃঢ় সমর্থন যোগাতে হবে। কারণ এমপি হওয়ার পর জনপ্রত্যাশা পূরণের পথটি একদম মসৃণ হবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই । হালুয়া-রুটির রাজনীতিতে সিদ্ধহস্তরা তার মসৃণ পথটিকে কন্টকাকীর্ণ করে তুলতে যে সদা সচেষ্ট থাকবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই আসুন আমরা শপথ নিই, এবার শুধুু ভোট দিয়েই ক্ষ্যান্ত হবো না। একাত্তরে আমরা পাকিস্তানী হানাদারদের হারিয়ে যেমন করে ছিনিয়ে এনেছিলাম লাল সবুজের পতাকা। এবারও আমরা মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নূর সাহেবের এই নতুন অভিযানের সারথি হয়ে সূচনা করবো রাজনীতির নতুন এক কল্যাণকর দ্বার। বিজয় আমাদের হবেই ইনশাল্লাহ।

শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print