আজ সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২ আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শ সফর, ১৪৪৩ হিজরি
আজ সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২ আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শ সফর, ১৪৪৩ হিজরি

সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২১ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২১ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসস্থ মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও টেলি কনফারেন্সের (VTC) মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্ষদের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে ৬ দিনব্যাপী (১৫ জুলাই ২০২১ হতে ২০ জুলাই ২০২১) আয়োজিত এ পর্ষদের কার্যক্রম আজ থেকে শুরু হলো। এ পর্ষদের মাধ্যমে কর্নেল হতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল হতে কর্নেল পদবিতে পদোন্নতির জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত এ পর্ষদের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য যোগ্য ও দক্ষ অফিসারগণ সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে পদোন্নতি পাবেন।

ঢাকা সেনানিবাসস্থ মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসি।

প্রধানমন্ত্রী তার দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের এই মহতী বছরে অনুষ্ঠিত সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২১ একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত যে সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তা আজ আর স্বপ্ন নয় বরং একটি বাস্তবতা। দেশ আজ উন্নয়নের সব সূচকে সম্মানজনক একটি অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বর্তমান সরকার দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী এবং পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং সশস্ত্র বাহিনীতে নারীর ক্ষমতায়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার একান্ত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের নিবিড় পরিচর্যায় এই বাহিনী আজ দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অত্যন্ত পেশাদার এবং দক্ষ বাহিনী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের যেকোনো দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা, আধুনিকতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই বাহিনীর ভাবমূর্তি যাতে বজায় রাখতে পারে সেই লক্ষ্যে যোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করতে উপদেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি পদোন্নতির ক্ষেত্রে অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, সততা, নিষ্ঠা, আনুগত্য, শৃঙ্খলার মান ও নেতৃত্বের গুণাবলী এবং সর্বোপরি নিযুক্তগত উপযোগিতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। যোগ্য নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের যেকোনো প্রয়োজনে বরাবরের মতো সবসময় জনগণের পাশে এসে দাঁড়াবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী চলমান কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে যে ভূমিকা পালন করছে তার প্রশংসা করেন এবং এই আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সেনাবাহিনীর পদোন্নতি পর্ষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভিডিও টেলি কনফারেন্সের (VTC) মাধ্যমে সরাসরি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব জনাব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনডিসি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসজিপি, পিএসসি এবং প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী, বিএসপি (বার), এনডিসি, পিএসসি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে সেনাবাহিনীর উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথকভাবে মতবিনিময় করেন ও কুশলাদি জিজ্ঞাসা করেন প্রধানমন্ত্রী।