আজ রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৮ চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮ শাবান, ১৪৪২ হিজরি
আজ রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৮ চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮ শাবান, ১৪৪২ হিজরি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিহত ১, রোববার হরতাল

হাটহাজারীতে পুলিশ-হেফাজত সংঘর্ষ, নিহত ৪, রণক্ষেত্র বায়তুল মোকাররম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে বিক্ষোভকালে গুলিতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন স্থানে। বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে হামলা সংঘর্ষের ঘটনায় ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনার জেরে বিক্ষোভ চট্টগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

বায়তুল মোকাররম এলাকায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে কয়েক ঘণ্টা। সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীরা মসজিদ এলাকা ছেড়ে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। জুমার নামাজ শেষে হেফাজতের নেতাকর্মীরা মোদি বিরোধী বিক্ষোভ করার চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করলে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে।
দুই পক্ষের মারমুখি অবস্থানে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য টিয়ারশেল, ছড়রা গুলি ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য রায়ট কার ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এ সময় ২টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মুসল্লি সাংবাদিক, পথচারী, আওয়ামী লীগের একাধিক অঙ্গ সংগঠনের কর্মী, পুলিশ ও সাধারণ পথচারী।
ইট-পাটকেল, লাঠির আঘাত, ছড়রাগুলিসহ বিভিন্ন ধরনের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে আহতদের শরীরে। আহতদের মধ্যে ১৩৪ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করেছেন। পৌনে ৩ ঘণ্টার সংঘর্ষে মসজিদের আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চারপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ যানবাহনগুলো বিকল্প সড়ক দিয়ে ঘুরিয়ে দেয়। সংঘর্ষের কারণে জুমার নামাজ আদায় করতে যাওয়া সাধারণ মুসল্লিরা মসজিদের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে তারাও পুলিশি তল্লাশির কারণে ভোগান্তিতে পড়েন। সংঘর্ষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কয়েকজন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী, মুসল্লি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বায়তুল মোকাররম মসজিদের পেশ ইমাম মোনাজাত শেষ করা মাত্রই মসজিদের উত্তর গেটে কয়েকজন যুবক মোদি বিরোধী স্লোগান দেন।
এ সময় আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর লাঠি দিয়ে হামলা চালায়। স্লোগানরত কয়েকজন যুবককে ধরে সিঁড়ি থেকে নিচে নামিয়ে তারা পেটাতে থাকে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তখন বিক্ষোভকারীসহ সাধারণ মুসল্লিরা মসজিদের ভেতরে চলে যান।
আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মসজিদের ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা সংগঠিত হয়ে তাদের ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেন। এ সময় পুলিশ ছিল নীরব দর্শক।

বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা মসজিদের ভেতর থেকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। দফায় দফায় চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। একপর্যায়ে পুলিশও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মুসল্লিদের ওপর চড়াও হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় মুসল্লিরা পিছু না ঘটায় ২টা ৩০ মিনিটে পুলিশ রায়ট কার থেকে টিয়ার সেল ও ছড়রা গুলি ছোড়ে। জলকামান দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু, রায়ট কার মসজিদের গেটের মধ্যে ঢুকতে না পারায় সেটি ঘুরে আসে।

উত্তর গেটের সংঘর্ষ পূর্ব ও দক্ষিণ গেটে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সেখানেও রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। চলে দফায় দফায় সংঘর্ষ। পুলিশ পুরো বায়তুল মোকাররম এলাকা ঘিরে ফেলায় মুসল্লিরা বের হওয়ার কোনো পথ পাননি। এ ছাড়াও বাইরে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়ার কারণে সংঘর্ষের মাত্রা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। এ সময় উভয় পক্ষই অনড় অবস্থানে ছিল। ইতিমধ্যে দক্ষিণ গেটে সংঘর্ষের মাত্রা আরো বেড়ে যায়।

বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে কয়েকজন মুসল্লিকে গেট থেকে টেনে নিয়ে এসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় মসজিদের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করেন।

বিকাল পৌনে ৪টার দিকে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে মুসল্লিরা তালা লাগিয়ে দেয়। বিক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গেট ভাঙার চেষ্টা করে। পরে উত্তর গেটের পরিস্থিতি শান্ত হয়। মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হওয়ার জন্য পুলিশের প্রতি বার বার আহ্বান জানান। তারা সড়ক থেকে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সরে যেতে বলেন।

পুলিশ ও মসজিদে নামাজ পড়তে আসা সাধারণ মসুল্লিরা জানান, গতকাল জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে কোনো দলের কর্মসূচি ছিল না। কোনো মুসল্লিকে কোনো দলের ব্যানার বহন করতে দেখা যায়নি। তবুও পুলিশ পোশাকে এবং সাদা পোশাকে গোটা এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও দায়িত্ব পালন করে। আগে থেকে পুলিশের রায়ট কার ও জলকামান মোতায়েন ছিল।
পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা, নাইটিঙ্গেল মোড় এবং মসজিদের দক্ষিণ গেটে পুলিশ ব্যারিকেড বসায়। মসজিদে যাওয়া মুসল্লিদের দেহ তল্লাশি করে ভেতরে ঢোকানো হয়। এর আগে সকাল ১১টা থেকে পল্টন থানা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বায়তুল মোকাররমে সামনে উপস্থিত হন। তারা মোদিকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করে এবং সেখানে একটি তাৎক্ষণিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের আগে থেকেই আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট এবং দক্ষিণ গেটের সিঁড়িতে অবস্থান নেন।

খেলাফত মজলিসের কর্মী মুফতি আকরাম হোসেন জানান, আজ জুমায় কোনো দলের বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল না। আমরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশে আসা ভারতের বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রী মোদি বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিতে এসেছি।

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজ জুনায়েদ হোসেন বলেন, আমরা সিঁড়িতে নামাজ পড়ছিলাম। নামাজ শেষ হওয়া মাত্রই আমরা মোদি বিরোধী স্লোগান দিলে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাবেক লীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়।

বায়তুল মোকাররমে জুয়েলারি দোকানের মালিক সুমন আজিজ জানান, আমরা সাধারণ মুসল্লি। দোকান বন্ধ করে নামাজ আদায় করি। নামাজ শেষ হয় দেড়টার দিকে। কিন্তু, সংঘর্ষের কারণে মসজিদ থেকে বের হয়েছি সাড়ে ৩টার দিকে। পুলিশকে বার বার বলার পরও তারা আমাদের বাইরে বের হতে দেয়নি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ জানান, আমাদের নেতাকর্মীরা বায়তুল মোকাররমে নামাজ পড়তে গিয়েছিল। হেফাজতের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আজকে কোনো দলের কর্মসূচি ছিল না। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কিছু লোকজন পুলিশ ও মসজিদে নামাজ পড়তে আসা সাধারণ মানুষদের ওপর হামলা চালিয়েছে। যারা এ কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যাত্রাবাড়ীতে সড়ক অবরোধ: চট্টগ্রামে ৪ কর্মীর মৃত্যুর খবরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও হেফাজত কর্মীরা। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ যাত্রাবাড়ীর আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী মাদ্রাসার সামনে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করেন। এর ফলে আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সড়কে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

হাটহাজারীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, উত্তপ্ত চট্টগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার, হাটহাজারী প্রতিনিধি জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪ হেফাজত কর্মী নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশসহ কমপক্ষে আরো অর্ধশত আহত হয়েছে। গতকাল দুপুর ২টার দিকে উপজেলার দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় সফরকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের বিক্ষোভে পুলিশ-ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জুমার নামাজের পর মিছিল বের করে। হাজার হাজার মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও মুসল্লিদের এই মিছিল সামনে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে হেফাজত কর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংষর্ষে পুলিশকে লক্ষ্য করে হেফাজত কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় পুলিশ গুলি চালালে কমপক্ষে ৪০ জন হেফাজত কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৮ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে ৪ জনকে কর্তব্যরত ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন। এদের মধ্যে আরো ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে ২ জন হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ১ জন পথচারী ও বাকি একজন চায়ের দোকানি। এদের শেষ ২ জন দু’পক্ষের সংঘর্ষে মারা যান।

হাটহাজারী থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হেফাজত কর্মীদের ইটপাটকেলে ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এদের মধ্যে ২ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে হেফাজত কর্মীরা হাটহাজারী থানা, ভূমি অফিস ও ডাকবাংলোয় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা এই ৩টি সরকারি অফিসের ফাইলপত্র-আসবাবপত্র জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষুব্ধ হেফাজত কর্মীরা ভূমি অফিসের একটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেন। পাশাপাশি তারা চট্টগ্রাম- খাগড়াছড়ি সড়ক গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ করে।

এদিকে, সরজমিন হাটহাজারী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। দোকানপাট সব বন্ধ। থানার সামনে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবস্থান করছে। আর মাদ্রাসার সামনে লাঠিসোঁটা নিয়ে হেফাজত কর্মীরা বিক্ষোভ করছে।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন বলেন, হেফাজত কর্মীরা মিছিল নিয়ে হাটহাজারী থানায় হামলা চালায়। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এদিকে, হাটহাজারীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪ হেফাজত কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম। হেফাজতের ঘাঁটি বলে পরিচিত হাটহাজারীর পাশাপাশি পটিয়া, ফটিকছড়ি, সাতকানিয়া ও বন্দরনগরীতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। নিহতদের লাশ দেখতে হেফাজত আমীর বাবুনগরী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে গেলে সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত হেফাজত কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। এ ছাড়া আজ রাতে হাটহাজারী মাদ্রাসার সংগঠনটির মাজলিসে আমলার (সর্বোচ্চ ফোরাম) বৈঠক আহ্বান করেছে হেফাজত আমীর। সেখান থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি আসতে পারে বলে সংগঠনটির একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।

উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নিহত-১ ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে এবং চট্টগ্রামে মাদ্রাসা ছাত্রদের ওপর হামলার খবরে উত্তাল হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। বিক্ষোভ করেছেন মাদ্রাসা ছাত্ররা। হামলা চালানো হয়েছে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে, সদর মডেল থানা ও ফাড়িতে। শহরের কাউতলী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আশিক (২৫) নামে এক যুবক মারা গেছেন। জেলা সদর হাসপাতাল থেকে তার লাশ নিয়ে মিছিল করতে করতে বেরিয়ে গেছে মাদ্রাসা ছাত্ররা।

সূত্র জানায়, গতকাল বেলা ৩টা থেকে জেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে মাদ্রাসা ছাত্ররা। বিকাল ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. শোয়েব আহমেদ জানান, বিকালে কয়েকশ’ মাদ্রাসাছাত্র স্টেশনে এসে হামলা চালায়। এ সময় তারা প্যানেল টিকিট কাউন্টার, প্যানেল বোর্ড ও যাত্রীদের চেয়ার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে করে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আখাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল করিম জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। মাদ্রাসা ছাত্ররা রেললাইনে অবস্থান করছে। এর ফলে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আজমপুর রেলওয়ে স্টেশন ও চট্টগ্রাম থেকে আসা ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে আটকা পড়ে আছে। এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে জিআরপি পুলিশ ফাঁড়িতেও হামলা হয়। একই সময়ে হামলা হয় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। কয়েকটি কক্ষ ভাঙ্গচুর করা হয়। পার্শ্ববর্তী মৎস্য ভবন,সিভিল সার্জন কার্যালয় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো ব্যাপক ভাঙ্গচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা ভবনে আগুন দেয়া হয়। এসময় ভাঙ্গচুর করা হয় একটি গাড়ি। শহরের কাচারী পুকুরপাড়ে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ৩টার পর শহরের ভাদুঘর এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নেয় মাদ্রাসা ছাত্ররা। টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে শহর অভ্যন্তরে প্রধান সড়কেও বিক্ষোভ শুরু করে মাদ্রাসা ছাত্ররা। শহরের টিএরোড, কুমারশীল মোড়ে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

সিলেটে বিক্ষোভ
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মুসল্লিদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে এবং মোদির আগমন প্রত্যাখান করে সিলেটে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম ও তৌহিদী জনতা। গতকাল বাদ আসর নগরীর বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কোর্ট পয়েন্টে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মহানগর জমিয়তের সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও জামেয়া মাদানিয়া কাজির বাজার সিলেটের মুহাদ্দিস মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদের পরিচালনায় বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, মহানগর জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওলানা সৈয়দ শামীম আহমদ, মাওলানা নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা গাজী রহমতুল্লাহ, জেলা সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা জাহিদ উদ্দীন চৌধুরী, মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমরান আলম, মুফতী ফয়জুল হক জালালাবাদী, মাওলানা আসলাম রহমানী, মাওলানা মামুন আহমদ, মাওলানা ফাহাদ আমান, মাওলানা লুৎফর রহমান, মাওলানা কায়সান মাহমুদ আকবরী, মাওলানা আব্দুল্লাহ মায়মুন, মাওলানা সাইফুর রহমান, মাওলানা কবির আহমদ, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মাওলানা দেলওয়ার হুসাইন ইমরান প্রমুখ।

শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print