আজ বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ রজব, ১৪৪২ হিজরি
আজ বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ রজব, ১৪৪২ হিজরি

দেশেই যুদ্ধ বিমান তৈরি হবে, আশা প্রধানমন্ত্রীর

ভবিষ‌্যতে বাংলাদেশেই নিজেদের সামর্থে যুদ্ধ বিমান তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব‌্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন‌্য দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) যশোরে বিমান বাহিনীর ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানে বিমান বাহিনীর ১১ এবং ২১ স্কোয়াড্রনকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব‌্যে এ কথা বলেন তিনি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ‌্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনী দেশে ও দেশের বাইরে সম্মানজনক অবস্থায় উন্নীত হয়েছে। তাছাড়া আমরা যেহেতু জাতিসংঘ মিশনেও বাংলাদেশ ভূমিকা রাখছে। সেক্ষেত্রেও বিমান বাহিনীকেও আমরা উপযুক্ত করে গড়ে তুলছি। ’

‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা অ্যারোনেটিক্যাল সেন্টার নির্মাণ করছি। আর আমাদের একটা আকাঙ্ক্ষা আছে, বাংলাদেশেই আমরা আমাদের যুদ্ধ বিমান তৈরি করবো। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। ইনশাল্লাহ আমরা এ ব্যাপারে সাফল্য অর্জন করবো বলে বিশ্বাস করি।’

বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও এ সময় তুলে ধরে শেখ হাসিনা।

কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে উৎকর্ষ আনতে বিমান বাহিনী একাডেমির জন্য এই ঘাঁটিতে আন্তর্জাতিক মানের ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহাকাশ গবেষণা, দেশের বিমান বাহিনী এবং বেসামরিক বিমানকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়’। যেটা লালমনিরহাটে প্রতিষ্ঠা হবে।

জাতির পিতার সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা ও দূরদৃষ্টি সামনে সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও যুযোপযোগী করার জন্য ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা বিমান বাহিনীতে সংযোজন করেছি মিগ-২৯ সহ বিভিন্ন ধরনের ফাইটার বিমান, সর্বাধুনিক অ্যাভিওনিক্স সমৃদ্ধ পরিবহন বিমান, ইউটিলিটি হেলিকপ্টার, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ বিমান, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এয়ার ডিফেন্স র‌্যাডার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, নতুন নতুন ঘাঁটি, ইউনিট ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছি।

বিমান সেনাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১১ স্কোয়াড্রনকে বৈমানিকদের মৌলিক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ এবং ২১ স্কোয়াড্রনকে দেশের আকাশসীমা প্রতিরক্ষায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক ‘জাতীয় পতাকা’ দেওয়া হলো।

এই সম্মান ও গৌরব অর্জন করায় ১১ স্কোয়াড্রন এবং ২১ স্কোয়াড্রনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তাদের উদ্দেশ‌্য করে তিনি বলেন, কর্মদক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দেশসেবার স্বীকৃতি হিসেবে যে পতাকা আজ আপনারা পেলেন, তার মর্যাদা রক্ষার জন্য এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ও আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যখন দায়িত্ব পালন করেন আমি মনে করি আপনারা সব সময় যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকবেন। যেন বাংলাদেশের মান-মর্যাদা বাড়ে, সে দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি রেখে আপনারা আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।’

বিমান বাহিনীর প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং বিভিন্ন বৈদেশিক মিশনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যরা আত্মত্যাগ, কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনছে সম্মান ও মর্যাদা, যা বহিঃর্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে। এই সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি।

শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print