আজ বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ রজব, ১৪৪২ হিজরি
আজ বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ রজব, ১৪৪২ হিজরি

১২০ উপজেলায় পুষ্টিচাল পাবে সাড়ে পাঁচ লাখ দরিদ্র

স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুটি কর্মসূচির আওতায় দেশের আরো ১২০টি উপজেলায় পাঁচ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৮ জন দরিদ্র মানুষকে পুষ্টিচাল দেবে সরকার। এর মধ্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫০টি উপজেলায় চার লাখ ২২ হাজার ৩৩৭ জন ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন (ভিজিডি) কর্মসূচির আওতায় ৭০টি উপজেলায় এক লাখ ৩২ হাজার ৬২১ জন নারী পুষ্টিচাল পাবেন।
খাদ্য অধিদফতর ও মহিলাবিষয়ক অধিদফতর থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে মার্চ থেকে নতুন ১২০টি উপজেলায় এই পুষ্টিচাল বিতরণ শুরু হবে।

খাদ্য অধিদফতর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় মার্চ ও এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর মাসে ১০ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি হারে চাল পায় ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবার। এই কর্মসূচির আওতায় এখন পুষ্টিচাল দেয়া হচ্ছে ১০০টি উপজেলার ছয় লাখ ৫৩ হাজার ৭৪৪ জনকে।

অপরদিকে সারাদেশে ১০০টি উপজেলায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদফতরের ভিজিডি কর্মসূচির মাধ্যমে পুষ্টিচাল দেয়া হয় দুই লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৮ জন নারীকে। এক্ষেত্রে ভিজিডি কার্ডধারী প্রতিটি নারীর পরিবার প্রতি মাসে ৩০ কেজি হারে দুই বছর পর্যন্ত পুষ্টিচাল পান।

খাদ্য অধিদফতরের (সরবরাহ, বণ্টন ও বিপণন) পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উপলক্ষে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নতুন করে আরো ৫০টি উপজেলায় পুষ্টিচাল দেয়া হবে। এরই মধ্যে উপজেলাগুলোকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কার্নেল (পুষ্টিচালের শাঁস) কিনতে টেন্ডারও আহ্বান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগে থেকেই ১০০টি উপজেলায় পুষ্টিচাল দেয়া হচ্ছিল। আগামী মার্চ মাস থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। তখন থেকেই নতুন ৫০টি উপজেলায় পুষ্টিচাল দেয়া হবে।

উপজেলাগুলো হচ্ছে-বরিশাল বিভাগের বেতাগী, মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, মির্জাগঞ্জ ও কাউখালী এবং চট্টগ্রাম বিভাগের রুমা, কসবা, চন্দনাইশ, সীতাকুণ্ড, নাঙ্গলকোট, সোনাগাজী, দাগনভূঞা, দিঘীনালা, মানিকছড়ি, রায়পুর, চাটখিল ও জুরাইছড়ি উপজেলার দরিদ্রদের দেয়া হবে পুষ্টিচাল।

এছাড়া ঢাকা বিভাগের শিবালয়, টঙ্গীবাড়ী ও বাসাইল; খুলনা বিভাগের আলমডাঙ্গা, হরিণাকুণ্ড, ফুলতলা, মাগুরা সদর; ময়মনসিংহ বিভাগের সরিষাবাড়ী, মাদারগঞ্জ, নকলা, হালুয়াঘাট, মোহনগঞ্জ; রাজশাহী বিভাগের আত্রাই, মান্দা, বালাঘাট, ফরিদপুর, কামারখন্দ, তাড়াশ, মোহনপুর; রংপুর বিভাগের বিরামপুর, ঘোড়াঘাট, পলাশবাড়ী, চিলমারী, আদিতমারী, সৈয়দপুর, তেঁতুলিয়া, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও সদর এবং সিলেট বিভাগের ছাতক, বিশ্বম্ভরপুর, সিলেট সদর ও রাজনগর উপজেলার দরিদ্ররাও পাবেন এই পুষ্টিচাল।

মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) হাওলাদার মো. রকিবুল বারী বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভিজিডি কর্মসূচির পুষ্টিচাল বিতরণের পরিধি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। নতুন করে আরো ৭০টি উপজেলার এক লাখ ৩২ হাজার ৬২১ জন নারী পুষ্টিচাল পাবেন।

উপজেলাগুলো হচ্ছে- বরিশাল বিভাগের তালতলী, বানারীপাড়া, লালমোহন, রাজাপুর, রাঙ্গাবালী ও স্বরূপকাঠি; চট্টগ্রাম বিভাগের রোয়াংছড়ি, বাঞ্ছারামপুর, শাহরাস্তি, কচুয়া, মিরেরসরাই, ব্রাহ্মণপাড়া, কক্সবাজার সদর, ফুলগাজী, গুইমারা, রামগতি, চাটখিল, নানিয়ারচর; ঢাকা বিভাগের ধামরাই, মধুখালী, গাজীপুর সদর, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুর সদর, সিংগাইর, শ্রীনগর, আড়াইহাজার, মনোহরদী, পাংশা, নড়িয়া, দেলদুয়ার, ভৈরব ও বাজিতপুর উপজেলা।

এছাড়া খুলনা বিভাগের ফকিরহাট, মোরেলগঞ্জ, আলমডাঙ্গা, যশোর সদর, কোটচাঁদপুর, তেরোখাদা, কুষ্টিয়া সদর, শালিখা, শ্রীপুর, মেহেরপুর সদর, লোহাগড়া, কলারোয়া; সিলেট বিভাগের বানিয়ারচর, মৌলভীবাজার সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও দক্ষিণ সুরমা; ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর সদর, নেত্রকোনা সদর, গফরগাঁও, তারাকান্দা, ঝিনাইগাতী; রাজশাহী বিভাগের কাহালু, কালাই, রানীনগর, বদলগাছী, নলডাঙ্গা, নাটোর, আটঘরিয়া, দুর্গাপুর, কামারখন্দ; রংপুর বিভাগের বিরল, সাদুল্লাপুর, নাগেশ্বরী, কালিগঞ্জ, ডিমলা, বোদা, পীরগঞ্জ ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় পুষ্টিচাল দেয়া হবে।

খাদ্য অধিদফতর ও মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, দেশে এখন খাদ্য সঙ্কট নেই। মানুষ এখন তিনবেলা আহার করতে পারছে। তবে এখনো পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যায়নি। বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের আর্থিক সক্ষমতা নেই। এ বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার ভাতের মধ্যে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদা মেটাতে বিশ্বখাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহায়তায় পুষ্টিচাল বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।

সাধারণ চালের সঙ্গে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি১, ভিটামিন-বি১২, ভিটামিন-বি৯ (ফলিক অ্যাসিড), আয়রন এবং জিঙ্ক- এই ছয়টি পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ দানাদার চাল বা কার্নেল উৎপাদন করা হয়। পরে সাধারণ চালের সঙ্গে ১০০:১ অনুপাতে কার্নেল মিশিয়ে পুষ্টি সমৃদ্ধ চাল (ফর্টিফায়েড রাইস) প্রস্তুত করা হয়। প্রতি ১০০টি সাধারণ চালের সঙ্গে একটি পুষ্টিচাল অর্থাৎ ১০০ কেজিতে এক কেজি হারে পুষ্টিচাল মেশানো হয়। এটা মিশ্রণ মেশিন অটোম্যাটিক গড় করে দেয়। এই চালের মাধ্যমে পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়, তবে চালের স্বাদের কোনো পরিবর্তন হয় না।

দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদা পূরণে বিশ্বখাদ্য কর্মসূচির কারিগরি সহযোগিতায় ২০১৩ সালের জুন থেকে প্রথম কুড়িগ্রাম সদরের ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগী নারীদের মধ্যে পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে পুষ্টিচাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর।

২০১৪ সালের প্রথমার্ধ থেকে ভিজিডি কর্মসূচিতে তিনটি জেলার (সাতক্ষীরা, খুলনা ও গোপালগঞ্জ) পাঁচটি উপজেলায় (কালীগঞ্জ, টুঙ্গিপাড়া, দাকোপ, শরণখোলা ও শ্যামনগর) উপকারভোগীদের মধ্যে পুষ্টিচাল বিতরণের কাজ ধাপে ধাপে শুরু হয়।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়ীতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হয় পুষ্টিচাল বিতরণ কার্যক্রম। পরবর্তী সময়ে দেশের ১০টি উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে পুষ্টিচাল বিতরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।

শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print