আজ মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
আজ মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি

নুহাশ পল্লীতে হ‌ুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন পালিত

মোমবাতি প্রজ্বলন, কেক কাটা, কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতের মধ্যদিয়ে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালীর নুহাশ পল্লীতে হ‌ুমায়ূন আহমেদের ৭৩তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) রাতের প্রথম প্রহরে নুহাশ পল্লীতে পাঁচ শতাধিক মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। সকালে স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে হ‌ুমায়ূন আহমেদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শেষে কবরের পাশে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করা হয়। এরপর নুহাশ পল্লীর হোয়াইট হাউজ ও হ‌ুমায়ূন আহমেদের ম্যুরালের সামনে ছেলেদের নিয়ে মেহের আফরোজ শাওন জন্মদিনের কেক কাটেন।

এসব কর্মসূচিতে হ‌ুমায়ূন আহমেদের ভক্তবৃন্দ এবং নূহাশ পল্লীর কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

কেক কাটা শেষে মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, স্বপ্লটা অনেক বড় ব্যাপার। স্বপ্লপূরণ এক দিনে বা এক বছরে হয় না, ধাপে ধাপে হয়। স্বপ্নপূরণ একটু একটু করে হচ্ছে। হবে স্বপ্লপূরণ। হ‌ুমায়ূন আহমেদ প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি (নেত্রকোনায়) উনার সবচেয়ে বড় স্বপ্ল ছিল। গত বছর সেই স্কুলটি ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভূক্ত হয়েছে। স্কুলটা খুব ভাল চলছে। উনি যখন নিজে স্কুলটা চালাতেন তখন খুব চেষ্টা করেছেন। এটা উনার স্বপ্লপূরণের একটা ধাপ আমরা অতিক্রম করেছি।

শাওন বলেন, প্রথমত আমি উনার একজন ভক্ত, পাঠক। অবশ্যই উনার পরিবারে একজন। সে হিসেবে পাঠকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই।

তিনি বলেন, প্রতি ১০ বছর পরপর আমাদের সামনে একটি নতুন প্রজন্ম আসে। এখনকার প্রজন্ম অর্থাৎ এখন যারা কিশোর-কিশোরী বা তরুণ। ১০ বছর আগে তারা ছোট ছিল। তখন তারা হ‌ুমায়ূন আহমেদকে পড়া শুরু করেনি। এখন যে প্রজন্ম সবেমাত্র ২/৩ বছর ধরে বা এই বছর হ‌ুমায়ূন আহমেদকে পড়া শুরু করেছে, তারা তাকে নতুন করে উপলব্ধি করতে পারছে। হ‌ুমায়ূন আহমেদের শুরুর দিকের ৮০ দশকের উপন্যাস ২০২০ সালে এসে তারা পড়েও হ‌ুমায়ূন আহমেদকে ভালবাসছে, মূল বক্তব্যটা বুঝতে পারছে- এটা আমার কাছে অনেক আশ্চর্যের ব্যাপার। এ আশ্চর্যটা মধুর আশ্চর্য। এটা আমার কাছে খুব আনন্দের একটা ব্যাপার- যে এখনকার প্রজন্ম হুমায়ূন আহমেদকে নতুন করে পড়ছেন। পড়া যারা মাত্র শুরু করেছেন তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা হ‌ুমায়ূন আহমেদকে পড়ছেন, তার লেখার ভেতরের যে রস, বোধ, মানবিকতা সেটা তারা বুঝতে পারছেন। তারা ধন্যবাদ জানাচ্ছেন বিভিন্নভাবে। তারা হ‌ুমায়ূন আহমেদকে আগে পড়েনি, পড়ে বুঝতে পারছেন-যে হ‌ুমায়ূন আহমেদ কত বড় লেখক ছিলেন। এ বছর এটা আমর নতুন উপলব্ধি।

এদিকে সকালে থেকেই হ‌ুমায়ূন আহমেদের ভক্ত ও হিমু পরিবহণের সদস্যদের নুহাশ পল্লীতে আসতে দেখা গেছে। তারা হ‌ুমায়ূন আহমেদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ঘুরে ঘুরে নুহাশ পল্লী দেখেন।

শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print