আজ সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
আজ সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২ হিজরি

ডেল্টা স্পিনার্সের আর্থিক অবনতির ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএসইসি

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ায় প্রায় দুই বছর ধরে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত ডেল্টা স্পিনার্স। স্বতন্ত্র পরিচালকসহ পরিচালনা পর্ষদের ব্যর্থতার কারণে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এ কারণে আর্থিক অবনতির কারণ খতিয়ে দেখছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

অসঙ্গতির বিষয়ে ডেল্টা স্পিনার্সেন স্বতন্ত্র পরিচালকসহ পরিচালনা পর্ষদের ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএসইসি। গত ২৭ ডিসেম্বর কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক, পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে ডেল্টা স্পিনার্স ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে। দীর্ঘসময় ওই ক্যাটাগরিতে অবস্থান করা কোম্পানির আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে ব্যর্থ হয়েছেন স্বতন্ত্র পরিচালকসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। এছাড়া কোম্পানি আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতেও ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে টানা ৪ বছর ডেল্টা স্পিনার্স শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ দেয়নি।

একইসঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও সিকিউরিটিজ আইন যথাযথভাবে পরিপালন করছে না এবং প্রতিনিয়তই আইন লঙ্ঘন করে যাচ্ছে ডেল্টা স্পিনার্স। কোম্পানির ব্যর্থতার কারণে ২০১৯ সাল থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৯৬ এর ১১ (২) ধারা অনুযায়ী ডেল্টা স্পিনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সব পরিচালক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) এবং কোম্পানি সচিবকে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ডেল্টা স্পিনার্সের বিভিন্ন অসঙ্গতির বিষয়ে ব্যাখ্যার পাশাপাশি বেশকিছু তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে বিএসইসি। এর মধ্যে- ডেল্টা স্পিনার্সের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অথবা নিরীক্ষিত/অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন; বর্তমান আর্থিক অবস্থার বিবরণ; বর্তমান সম্পদের (জমি, ভবন, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য) বিবরণ; সব উদ্যোক্তা পরিচালকদের বর্তমান শেয়ারধারনের তথ্য; প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), পুনঃপ্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আরপিও) ও রাইট ইস্যুর প্রসপেক্টাস, আইপিও, আরপিও ও রাইট ইস্যুর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারের তথ্য, সর্বশেষ ব্যাংক ঋণের তথ্য এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণসহ ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার তথ্য।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডেল্টা স্পিনার্সের কোম্পানি সচিব মাসুদুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এটা আমাদের ইন্টারনাল ব্যাপার। এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারব না।’

এদিকে, বিএসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাইজিংবিডিকে বলেন, প্রায় ২ বছরের ধরে ডেল্টা স্পিনার্স এর ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এখন পর্যন্ত কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই কোম্পানির কাছে বর্তমান অবস্থা ও ভবিস‌্য পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ডেল্টা স্পিনার্স ১৯৯৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। তালিকাভুক্তির পর থেকে ২০১২, ২০১৬ ও ২০১৭ সাল কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের শুধুমাত্র বোনাস লভ্যাংশই দিয়েছে। শুধুমাত্র একবার ২০১৫ সালে কোম্পানি নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ১৯৯৬, ২০১০ ও ২০১৪ সালের কোম্পানির রাইট শেয়ার ছেড়েও অর্থ সংগ্রহ করে।

১৬৬ কোটি ৪৮ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৬ কোটি ৬৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৪টি। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৬৭ শতাংশ, প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৫ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ১৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ার মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) সর্বশেষ ৭.৬০ টাকা লেনদেন হয়েছে।

শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print