আজ শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
আজ শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি

এডিপিতে সরকারি বরাদ্দের ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত

করোনাভাইরাসের কারণে স্বল্প-অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পের তহবিল বিতরণ বন্ধের পরিবর্তে বাৎসরিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতাভুক্ত বরাদ্দের ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

করণাভাইরাস মহামারির মধ্যে সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোতে কৃচ্ছতা সাধনের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অর্থবিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

সম্প্রতি অর্থবিভাগ থেকে জারি করা উপ-সচিব তনিমা তাসনিম স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের জানানো হয়েছে। অর্থবিভাগের বাজেট শাখা থেকে জারি করা চিঠিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পরিচালিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নিম্ন-অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলিকে একই বরাদ্দ দিয়ে এডিপি তহবিলে সরকারি অংশ থেকে কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে, সরকার বরাদ্দপ্রাপ্ত এডিপি প্রকল্পের ২৫ শতাংশ কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্তে ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রকল্পগুলোর সময় বাড়ানোসহ কিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ নির্দেশনা নতুন প্রকল্পগুলোর জন্য প্রযোজ্য নয়। তবে বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় এবং বিভাগগুলো অর্থ ব্যয় করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগগুলোকে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তহবিলের ব্যবস্থা করতে হবে। এডিপিভুক্ত যে সব প্রকল্পগুলো ২০২০-২১ অর্থবছরে শেষ হওয়ার কথা এ নির্দেশিকা শুধু সে ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

 

এ বিষয়ে আইএমএফের প্রাক্তন উপদেষ্টা ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি আগামী দেড় বছর অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে সরকারের পদক্ষেপগুলো আগামী দু’বছর অব্যাহত রাখা উচিত।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এমন প্রকল্প তৈ রিএবং বিদ্যমান প্রকল্প বাস্তবায়ন চালু রাখার বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা বিভাগের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। যাতে মানুষের রুটি-রুজি সংগ্রহে কোনো সমস্যা না হয়।

জুলাই মাসে করোনাভাইরাস মহামারিতে রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার কারণে সরকার নিম্ন-অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে স্বল্প-অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোকে প্রকল্প সহায়তা বা বিদেশি ঋণ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ কাস্টম শুল্ক এবং ভ্যাট পরিশোধের কারণে এ জাতীয় সহায়তা ব্যবহার করতে পারছে না।

অর্থবিভাগ কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রকল্পের এডিপিতে ২৫ শতাংশ বরাদ্দ বন্ধের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে।

অর্থবিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করে ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় চলমান সমস্ত প্রকল্পকে উচ্চ, মাঝারি ও নিম্ন-অগ্রাধিকার তিনটি গ্রুপ করে একটি তালিকা অর্থবিভাগে পাঠিয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (আরএইচডি) চলমান ১৯৬ প্রকল্পের মধ্যে মন্ত্রণালয় ৫৭টিকে নিম্ন-অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে এবং অর্থবিভাগ এ প্রকল্পগুলোতে সরকারের অর্থায়ন বন্ধ করেছে। এ ৫৭ প্রকল্পই আরএইচডি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছিল।

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়ায় যে সব প্রকল্পের কাজ চলছিল সেগুলোর ঠিকাদারদের বকেয়া বাড়ছে। পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ পরিশোধেরও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত না হলে এটি সাধারণ মানুষের কাছে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ব্যয় বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে, আরএইচডি প্রকল্পগুলির জন্য অগ্রাধিকার তালিকার ভিত্তিতে তহবিল ছাড়ের পরিবর্তে সব প্রকল্পের জন্য ৩০ শতাংশ বরাদ্দ ছাড় দিয়ে সব প্রকল্পের তহবিল বিতরণ করতে হবে।

আরএইচডি সব প্রকল্পের জন্য ৪,৮৮৫ কোটি টাকা এডিপি বরাদ্দ বন্ধের সুপারিশ করেছে।

গত জুলাই মাসে অর্থবিভাগের বাজেট উইং-২ থেকে প্রকল্প ভিত্তিতে এডিপি তহবিল বরাদ্দের বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

যোগাযোগ করা হলে, বাজেট উইং-২ এর একজন কর্মকর্তা বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব ছাড়াও এলজিআরডি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক ,মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে কম-অগ্রাধিকার প্রাপ্ত প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুপারিশ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, বেশিরভাগ মন্ত্রণালয় কয়েকটি নিম্ন-অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পের উন্নয়নের প্রস্তাব করেছে, আবার কেউ কেউ তহবিল কাটার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে। আমরা এখন প্রস্তাবগুলি যাচাই-বাছাই করছি এবং এখনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। তবে খুব সম্ভববত এটি পরিবর্তন হবে না।

শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print